এক/এগারোর সময়ে আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ড, রাজনৈতিক দলের নেতাদের হয়রানি, ভোট কারচুপি, গুম, খুন, ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়সহ নানা অপকর্মের হোতাদের তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে। তালিকাভুক্তদের মধ্যে যারা দেশে আছেন তাদেরকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। বিমানবন্দরে তাদের বিষয়ে তথ্য দেয়া হয়েছে যাতে তারা দেশত্যাগ করতে না পারেন। এছাড়া যারা বিদেশে আছেন তাদের বিষয়ে ইন্টারপোলের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করছে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তাদের ফেরানোর উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত তিনজন সেনা কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ও জেনারেল শেখ মামুন খালেদকে ইতিমধ্য রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। জিজ্ঞাসাবাদে তারা চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন। প্রথমদিকে তারা মুখ না খুললেও ধীরে ধীরে ওই সময় ঘটে যাওয়া নানা বিষয়ে তথ্য দিয়েছেন গোয়েন্দাদের। এ সব তথ্য নিয়ে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা এগোচ্ছেন।
এদিকে ডিজিএফআই’র সাবেক পরিচালক মো. আফজাল নাছেরকে রাজধানীর পল্লবীর ডিওএইচএস এলাকার একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে আদালতে হাজির করে রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। আদালত ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
সূত্র জানিয়েছে এক- এগারোর কুশীলবদের যার যার অপরাধের ভিত্তিতে আইনের মুখোমুখি করার উদ্যোগের অংশ হিসেবে কয়েকজনকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপকর্মের জন্য তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। গ্রেপ্তারের পর তাদেরকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে নানা অপকর্মের তথ্য বের করা হচ্ছে। গোয়েন্দারা ইতিমধ্যে বড় একটি তালিকা তৈরি করে তাদের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য নিয়েছেন। কারণ এক-এগারো পরবর্তী সময়ে অনেক কুশীলব আওয়ামী লীগের সহযোগিতায় নির্বাসনে গিয়েছেন পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে। আবার অনেকেই দেশে বছরের পর বছর কাটিয়েছেন। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে সামনে উঠে এসেছে ২০০৭-২০০৮ সালের ঘটনা। গোয়েন্দাদের তালিকায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা, আমলা, প্রভাবশালী ব্যবসায়ী, কতিপয় বিতর্কিত রাজনৈতিক ব্যক্তি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পেশার লোকজন রয়েছেন। যারা বিদেশে আছেন তাদের বিষয়ে পুলিশ সদরদপ্তরের এনসিবি শাখা থেকে কয়েকজনের নামে তথ্য চাওয়া হয়েছে ইন্টারপোলের কাছে।
তাদের মধ্যে সাবেক সেনাপ্রধান মইন ইউ আহমেদ, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ফখরুদ্দীনসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা রয়েছেন। তারা যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়াসহ ইউরোপ আমেরিকার বিভিন্ন দেশে রয়েছেন। এসব ব্যক্তি একটি গোষ্ঠীকে সুবিধা দেওয়ার জন্য রাষ্ট্র ও সেনাবাহিনীকে ব্যবহার করে নানা অপকর্ম করেছেন। তারা দেশকে ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিতে চেয়েছিলেন। সামনের সারির নেতাকর্মী ও ব্যবসায়ীদের অবৈধভাবে ধরে এনে টর্চারসেলে রেখে নির্যাতন করতেন। কোনো মামলা ছাড়া অবৈধভাবে দিনের পর দিন আটকে রেখেছেন। যারা তাদের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তারা এখনও এসব নিয়ে চিন্তা করলে আঁৎকে ওঠেন। গোয়েন্দারা বলছেন, এক-এগোরো দীর্ঘদিনের পরিকল্পনার একটি অংশ। তখন অর্থনৈতিক ও নীতিনির্ধারণী যে পরিবর্তনগুলো আনা হয়েছিল, তার প্রধান লক্ষ্য ছিল দেশের নির্দিষ্ট কিছু খাতের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয়া। এর পেছনে গভীর ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ এবং বিশাল অঙ্কের আর্থিক লেনদেন জড়িত রয়েছে। আগে যে বিষয়গুলোকে ‘জাতীয় স্বার্থ’Ñ বলে প্রচার করা হয়েছিল, বর্তমান নথিপত্রে সেগুলোর পেছনে ব্যক্তিগত ও গোষ্ঠীগত স্বার্থের প্রমাণ মিলছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এক-এগারো সরকারের আলোচিত দুই কুশীলব- লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ও লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদ গ্রেপ্তার হওয়ার পর মুখ খুলতে শুরু করেছেন ভুক্তভোগীরা। ওই সময়ে দুর্নীতি দমনের নামে রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীদের ওপর চালানো নির্যাতনের বিচার চেয়ে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের কাছে এরই মধ্যে মৌখিক অভিযোগ জানিয়েছেন অনেকে। তবে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার স্বার্থে ভুক্তভোগীদের মামলার পরামর্শ দিয়েছে ডিবি। গোয়েন্দারা বলছেন, মামলা হলেই ওই দুই সাবেক সেনা কর্মকর্তার বিতর্কিত ভূমিকা নিয়ে তদন্ত শুরু হবে। মানবপাচার ও হত্যা মামলায় মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ও শেখ মামুন খালেদকে গ্রেপ্তার করা হলেও তাদের বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ এক-এগারো ও আওয়ামী লীগের আমলের নানা অপকর্ম নিয়ে। তাদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, গুম, খুন, দুর্নীতি ও অর্থ পাচারসহ নানা অপরাধের অভিযোগ রয়েছে।
গোয়েন্দাদের জেরার মুখে মাসুদ ও খালেদের মুখে অনেকের নাম বেরিয়ে এসেছে। গ্রেপ্তার সাবেক দুই কর্মকর্তা নিজেদের অপরাধ স্বীকার না করে দোষ দিচ্ছেন সাবেক সেনাপ্রধান মইন ইউ আহমেদ এবং সাবেক ডিজিএফআই প্রধান মেজর জেনারেল এটিএম আমিনের ওপর। মামুন খালেদ দাবি করেছেন, মইন ইউ আহমেদ নির্দেশ দিতেন এটিএম আমিনকে। আমিন ওই সময় ডিজিএফআইতে কর্মরত কর্মকর্তাদের বাধ্য করেছিলেন তার আদেশ বাস্তবায়ন করতে। যদিও সবকিছুর কলকাঠি নেড়েছেন মেজর জেনারেল (অব.) এটিএম আমিন এবং লে. জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। তবে বহুল আলোচিত চরিত্র জেনারেল (অব.) মইন ইউ আহমেদ অধিনায়কের ভূমিকায় থাকলেও তাকে সার্বিক সহায়তা করেছেন তৎকালীন বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার মার্শাল (অব.) শাহ মোহাম্মদ জিয়াউর রহমান এবং নৌবাহিনীর প্রধান ভাইস এডমিরাল (অব.) সরওয়ার জাহান নিজাম। এক-এগারোর পরবর্তী সময়ে সেনাপ্রধান হয়েছিলেন জেনারেল আবদুল মুবীন। তিনি ২০০৯ সালের ১৫ই জুন থেকে ২০১২ সালের ২৪শে জুন পর্যন্ত সেনাপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেন।
তার সময়েই ২০১০ সালের ১৩ই নভেম্বর সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়াকে শহীদ মইনুল রোডের বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা হয়। ওই সময় বাড়ি ভাঙার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন পলাতক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সামরিক উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিকের আস্থাভাজন তৎকালীন ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের এক্সিকিউটিভ অফিসার নাজমুছ সাদাত সেলিম।
২০০৭ সালের ১১ই জানুয়ারি সেনাবাহিনীর একটি অংশের সমর্থনে ওই সময় গঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হয়েছিলেন ফখরুদ্দীন আহমেদ। তবে ক্ষমতার মূল কেন্দ্রে ছিলেন তৎকালীন সেনাপ্রধান মইন ইউ আহমেদ। পরবর্তী সময়ে তদন্তসহ সব ঝামেলা এড়াতেই আওয়ামী লীগের সহায়তায় নির্বাসিত জীবন বেছে নিয়েছেন এক-এগারোর অনেক কুশীলব। ড. ফখরুদ্দীন আহমেদ নাগরিকত্ব নিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন যুক্তরাষ্ট্রে। গ্রেপ্তার মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী অবশ্য দেশে অবস্থান করছিলেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের শেষ সময়ে তড়িঘড়ি করে সামরিক অ্যাটাশে হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছিলেন সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার আরেক আলোচিত কর্মকর্তা ব্রি. জে. (অব.) চৌধুরী ফজলুল বারী। গণতান্ত্রিক সরকারের জমানায় এক-এগারোর ঘটনাবলির তদন্তের প্রয়োজনে তাকে ডাকা হলেও আর দেশে ফেরেননি। এর পর থেকেই স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে। এক-এগারোর সময় প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) পরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন তৎকালীন ব্রি. জেনারেল (অব.) এ টি এম আমিন। বর্তমানে তিনি দুবাইয়ে অবস্থান করছেন।
সূত্র বলছেন, গোয়েন্দা চ্যানেলে তাকে দেশে ফেরানোর চেষ্টা চলছে। তৎকালীন ডিজিএফআইয়ের আরেক ক্ষমতাধর কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) সাঈদ জোয়ার্দার দুবাই-কানাডা যাওয়া-আসার মধ্যে আছেন। লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) হাসান মশহুদ চৌধুরী এক-এগারো সরকারের সময় দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময়ে রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে ঢালাও অভিযোগ এবং একের পর এক মামলা করে আলোচনায় ছিল দুদক। তিনি এখন কোথায় আছেন তার কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া ওই সময়ের আলোচিত ও বিতর্কিত আরও কয়েকজন কর্মকর্তা ক্ষমতার কেন্দ্রে ছিলেন; যাদের মধ্যে অনেকেই এখন দেশে আছেন বলে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ধারণা করছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, সেনাসমর্থিত এক-এগারোর সরকার গঠনের আগে প্রফেসর ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধানের পদ থেকে পদত্যাগের জন্য চাপ দেয়া হয়। ২০০৭ সালের ১১ই জানুয়ারি বঙ্গভবনে এই পদত্যাগ করানোর মিশনে অংশ নেন সশস্ত্র বাহিনীর তৎকালীন প্রভাবশালী ছয় কর্মকর্তা। এরপর থেকেই দ্রুত পাল্টে যেতে থাকে দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট। পদত্যাগ করানোর জন্য বঙ্গ ভবনে গিয়েছিলেন তিন বাহিনীর প্রধান, ডিজিএফআই-এর মহাপরিচালক, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী ও মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে রিমান্ডে নির্যাতনের বিষয়ে মাসুদ রিমান্ডে বলেছেন, তিনি এ বিষয়ে একেবারেই জানতেন না। পরদিন টিভিতে দেখে বিস্মিত হন। তখন তিনি খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন সাবেক সেনাপ্রধান মইন ইউ আহমেদের নির্দেশে ডিজিএফআই-এর কিছু কর্মকর্তা ওই টর্চারে ভূমিকা রাখেন।
সাবেক গভর্নর ড. ফখরুদ্দীন আহমেদকে ১/১১ সরকারের প্রধান হিসেবে মনোনীত করার বিষয়ে মাসুদ বলেন, প্রথমে ড. ইউনূসকে সরকারপ্রধান হওয়ার প্রস্তাব দেয়া হয়। ওই প্রস্তাব নিয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে যান মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ও তৎকালীন ডিজিএফআই-এর মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) চৌধুরী ফজলুল বারী। কিন্তু তিনি সে প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তারা যান ফখরুদ্দীনের কাছে। পরে তিনি রাজি হয়ে যান। গিয়াস উদ্দিন আল মামুন, মোসাদ্দেক আলী ফালু, নাসিরউদ্দিন আহম্মেদ পিন্টু এবং হাজী সেলিমসহ আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র প্রভাবশালীদের গ্রেপ্তারে ২০০৭ সালের ১২ই জানুয়ারি থেকে যৌথ অভিযান শুরু হয়। সেখানে তার ভূমিকা কী ছিল জানতে চাইলে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, তিনি গুরুতর অপরাধ দমন সংক্রান্ত জাতীয় সমন্বয় কমিটির মুখ্য সমন্বয়ক ছিলেন। তবে গ্রেপ্তারের তালিকা তিনি করেননি। উচ্চপর্যায়ের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী গ্রেপ্তার অভিযান পরিচালিত হয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকোসহ প্রধান দু’দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতা ও শীর্ষ ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তার নিয়ে বলেন, তিনি আদেশ পালন করতে গিয়ে গ্রেপ্তার প্রক্রিয়ার মধ্যে ছিলেন। গুরুতর অপরাধ দমনসংক্রান্ত জাতীয় সমন্বয় কমিটির সমন্বয়ক হিসেবে তাকে গ্রেপ্তারের অনুমোদন দিতে হতো এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রতিটি সেক্টর ধরে পৃথক টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। তবে গ্রেপ্তারের সময় পুলিশ ও সেনাবাহিনী মিলে যৌথভাবে সিদ্ধান্ত নিতো। সংসদ ভবনের বিশেষ কারাগারে এসে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়ার সঙ্গে সমঝোতার বিষয়ে দরকষাকষি নিয়ে গোয়েন্দা বলেন, সাবজেল থেকে প্রতি বৃহস্পতিবার রাতে একজন মেজর শেখ হাসিনাকে বের করে নিয়ে যেতেন এমন তথ্য রয়েছে গোয়েন্দাদের কাছে। তাকে নিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে করা গোপন বৈঠকে সেনাবাহিনীর সদস্য ছাড়াও এক-এগারো সরকারের বিভিন্ন উপদেষ্টা অংশ নিতেন। রাষ্ট্র ক্ষমতায় শেখ হাসিনাকে কীভাবে আনা হবে সেসব বিষয়ে দেনদরবার হতো ওইসব বৈঠকে। শেখ হাসিনাকে নিয়ে বৈঠক করতে দেয়া হলেও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে বের হতে দেয়া হতো না।
মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী রিমান্ডে জানিয়েছেন, তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল মইন ইউ আহমেদ রাষ্ট্রপতি হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন। এই স্বপ্ন বাস্তবায়নে অনেক দূর এগিয়েও গিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত নানা বাধার কারণে রাষ্ট্রপতি হতে পারেননি। তবে তিনি গোপনে নানা প্রক্রিয়া শুরু করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে পারেননি নানা কারণে। মইন ইউ আহমেদের কারণে তাকে সেনাবাহিনী থেকে বেরিয়ে যেতে হয় বলেও জানিয়েছেন মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। মইন ইউ আহমেদ সেনাশাসিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মেয়াদ দুই বছরেরও বেশি সময় দীর্ঘায়িত করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু এক-এগারো সরকারের শেষ বছরে এসে সেনাবাহিনীর বেশির ভাগ জেনারেল ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার বিপক্ষে ছিলেন। এমন একটা পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রক্ষমতায় সেনাবাহিনীর থাকা উচিত কিনা এ নিয়ে ভোটাভুটি হয়েছিল সেনাবাহিনীতে। তখন সেনাবাহিনীর বেশির ভাগ জেনারেল মইন ইউ আহমেদকে রাজনীতিবিদদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে দেয়ার অনুরোধ জানান। এ ছাড়া দুই নেত্রীকে কারামুক্ত করার পক্ষে মত দেন। একটি প্রভাবশালী দেশের পক্ষ থেকেও বেগম খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনাকে ছেড়ে দেয়ার জন্য সেনাপ্রধানকে চাপ দিয়েছিল।