Image description

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্কুল ফিডিং কর্মসূচি শুরুর দ্বিতীয় দিনেই নোয়াখালীর সুবর্ণচরে দেখা দিয়েছে চরম বিশৃঙ্খলা। উপজেলার ৯৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোনো শিক্ষার্থী নির্ধারিত দিনে খাবার পায়নি। এতে প্রায় ১৫ হাজার ৬৩১ শিক্ষার্থী খাদ্য সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এর আগের দিনও উপজেলার অন্তত চারটি বিদ্যালয়ে খাবার সরবরাহ করা হয়নি বলে জানিয়েছে উপজেলা শিক্ষা বিভাগ।

 

উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, ফিডিং কর্মসূচির আওতায় শিক্ষার্থীদের জন্য ফর্টিফাইড বিস্কুট, বনরুটি, ডিম, মৌসুমি ফল ও ইউএইচটি দুধ সরবরাহের কথা রয়েছে। এ কর্মসূচির দায়িত্ব পেয়েছে চট্টগ্রামের একটি এনজিও প্রতিষ্ঠান ‘স্বদেশ পল্লী’, যারা ফেনী থেকে খাবার এনে সরবরাহ করছে।

 

তবে বাস্তবে দেখা গেছে, নির্ধারিত সময়ে খাবার না পৌঁছানোয় শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও খাবার পায়নি। অনেক ক্ষেত্রে আগের দিন সরবরাহ করা খাবার পরদিন দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

উত্তর জব্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থী তাহমিন ইসলাম বলেন, ‘আগে আম্মু খিঁচুড়ি রান্না করে দিত, স্কুলে খাওয়ার জন্য। আমরা সকাল থেকে অধীর আগ্রহে ছিলাম, আজ স্কুলে খাবার পাব। এখন স্কুল ছুটির সময় হয়ে গেলেও খাবার আসেনি, না খেয়ে রয়েছি।’

 
 

 

একাধিক শিক্ষক জানান, দ্বিতীয় দিনেই পুরো কর্মসূচি ভেঙে পড়েছে। এতে শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। প্রথম দিনেও কিছু বিদ্যালয়ে পচা ডিম ও বাসি রুটি সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে।

 

চরবাটা এম এ কামাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘প্রথম দিনের খাবার দেরিতে এসে পরদিন শিক্ষার্থীদের দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় দিনে কোনো খাবারই পাওয়া যায়নি এবং এ বিষয়ে কোনো নির্দেশনাও দেওয়া হয়নি।’

 

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শাহে আলম বলেন, ‘প্রথম দিন কয়েকটি বিদ্যালয়ে খাবার দেওয়া হয়নি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে তেল ও যানবাহন সংকটের কথা জানানো হয়েছে।’

 

এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান স্বদেশ পল্লীর কর্মকর্তা ইয়াসিন আরাফাত বলেন, বৈশ্বিক তেল সংকট ও সরবরাহ জটিলতার কারণে নির্ধারিত সময়ে খাবার পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। তবে আগামী দিন থেকে নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে বলে তিনি দাবি করেন।