Image description
ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার দৌরাত্ম্য

রাজধানীসহ সারা দেশে ট্রাফিক নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে পুলিশ। পরিকল্পনার অংশ হিসাবে প্রথমে ভিআইপি রোডকে করা হবে অবৈধ অটোরিকশামুক্ত। যেসব জায়গায় অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জ করা হয় সেগুলোকে আনা হবে নিয়ন্ত্রণে। অটোরিকশার যন্ত্রাংশ আমদানিতে নিরুৎসাহিত করা হবে। এরপর অগ্রসর হবে ধাপে ধাপে। অটো বা এর চালকের বিরুদ্ধে সরাসরি ব্যবস্থা না নিয়ে মালিকদের বিরুদ্ধে নেওয়া হবে যথাযথ ব্যবস্থা। এক্ষেত্রে অটো-চার্জিং পয়েন্ট ও গ্যারেজ মালিকদের বিরুদ্ধে করা হবে মামলা। রাজধানীকে যানজটমুক্ত করার অংশ হিসাবেই বুধবার থেকে ফুটপাতে উচ্ছে অভিযান শুরু করবে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। ফুটপাত দখলমুক্ত করার পরই অ্যাকশনে যাওয়া হবে অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশার বিরুদ্ধে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ীই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে মাঠে নামছে পুলিশ। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

সূত্র জানায়, ট্রাফিক বিশৃঙ্খলার প্রধানতম কারণ হিসাবে অবৈধ যান ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে চিহ্নিত করেছে সরকার। তাই রাজধানীসহ সারা দেশে ট্রাফিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এসব যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এর আগে একাধিকবার উদ্যোগ নেয় পতিত আওয়ামী লীগ ও গত অন্তর্বর্তী সরকার। কিন্তু বারবার ব্যর্থ হয়েছে এ উদ্যোগ। তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসার পর ট্রাফিক শৃঙ্খলার বিষয়টিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। শুরুতে সরকারের চিন্তা ছিল ঈদের পর রাস্তায় চলতে দেওয়া হবে না কোনো ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা। সারা দেশে এ সংক্রান্ত একটি জরিপও চালানো হয়। তালিকা তৈরি করা হয় রিকশা, মালিক, গ্যারেজ এবং চার্জিং পয়েন্টের।

তালিকায় দেখা যায়, সারা দেশে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সংখ্যা ৩৮ লাখ। এসব অটোরিকশায় কাজ করেন ৪৩ লাখ শ্রমিক। এর মধ্যে ঢাকা মহানগরীতে চলাচল করে ৩০ লাখ অটোরিকশা। এসব অটোরিকশার শ্রমিক সংখ্যা ৩৩ লাখ। অর্থাৎ মোট অটোরকিশার ৭৭ ভাগই চলাচল করে ঢাকা মহানগরীতে। অটোচালকের সংখ্যা ৭৯ ভাগই রাজধানী ঢাকায়। বিপুলসংখ্যক চালকের কথা মাথায় রেখে গতানুগতিক পথ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছে সরকার।

সূত্র জানায়, সারা দেশে প্যাডেলচালিত রিকশার সংখ্যা ২ লাখ ৩৫ হাজার। এর মধ্যে ঢাকা মহানগরীতে ৮৫ হাজার এবং দেশের অন্যান্য স্থানে চলাচল করে ১ লাখ ৫০ হাজার। ঢাকা মহানগরীতে প্যাডেলচালিত রিকশা শ্রমিক এক লাখ ও ঢাকার বাইরে দুই লাখ। প্যাডেলচালিত রিকশার ৩ লাখ শ্রমিকের মধ্যে ঢাকা মহানগরীতে ৩৩ ভাগ এবং ঢাকার বাইরে আছেন ৭৭ ভাগ। সূত্র আরও জানায়, ঢাকা মহানগরীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার মোট চার্জিং পয়েন্ট ৭৬০টি। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের মালিকানাধীন ১১৭টি, বিএনপির ১৪টি, জামায়াতের দুটি এবং কৃষক ও শ্রমিক দলের একটি করে চার্জিং পয়েন্ট আছে। এছাড়া নির্দলীয় চার্জিং পয়েন্ট আছে ৬২৫টি।

সূত্রমতে, রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার গ্যারেজ আছে ২০ হাজার ৫৪৭টি। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ মালিকানাধীন ৩ হাজার ৫২৪টি, বিএনপির ৬৯২টি, জামায়াতের ১৪টি, শ্রমিক দলের ৩০টি ও কৃষক দলের মালিকানাধীন ৫০টি গ্যারেজ আছে। এছাড়া নির্দলীয় গ্যারেজ আছে ১৬ হাজার ২৩৭টি। এছাড়া ঢাকা মহানগরীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চার্জিং পয়েন্টের সংখ্যা ১৬ হাজার ১৪৮টি। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের মালিকানাধীন ২ হাজার ২৮৭টি, বিএনপির ৬৮৮, জামায়াতের ১৪, শ্রমিক দলের ৩০ ও কৃষক দলের ৫০টি চার্জিং পয়েন্ট আছে। এছাড়া নির্দলীয় চার্জিং পয়েন্ট আছে ১৩ হাজার ৭৯টি।

পুলিশের অতিরিক্ত আইজি খোন্দকার রফিকুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, আমরা যানজটের বিষয়টি নিয়ে কনসার্ন। এ নিয়ে পুলিশ সদর দপ্তর এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সঙ্গে এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী সভা করেছেন। সড়ক-মহাসড়কগুলোকে যানজটমুক্ত করতে পুলিশের পক্ষ থেকে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পা করা হয়েছে। এসব পরিকল্পনার কথা প্রধানমন্ত্রীকে জানানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আমাদের বেশকিছু দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। সে অনুযায়ী কাজ চলছে। তিনি বলেন, হঠাৎ করেই আমরা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বন্ধ করে দেব না। এটা করলে প্রথমত মানুষের জীবিকার ওপর প্রভাব পড়বে। দ্বিতীয়ত, শ্রমিক-মালিকরা রাস্তায় নেমে পড়েন। এ কারণে আমরা পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোব। প্রথমে আমরা ভিআইপি রোডকে অবৈধ অটোরিকশামুক্ত করব। এরপর আমরা ধাপে ধাপে অগ্রসর হব। যেসব জায়গায় অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জ করা হয় সেগুলোকে কন্ট্রোলে আনা হবে। অটোরিকশার যন্ত্রাংশ আমদানি নিরুৎসাহিত করা হবে। মানুষের মনে আতঙ্ক তৈরি হয় এমন কিছু আমরা করতে চাচ্ছি না। মামলার বিষয়েও ঢালাও মন্তব্য করতে চাচ্ছি না।