জ্বালানি তেল নিয়ে দেশব্যাপী মারাত্মক সংকটের মধ্যেও একশ্রেণির অতি মুনাফালোভী, সুযোগসন্ধানী ব্যবসায়ী যেখানে সেখানে গড়ে তুলেছেন তেলের মজুত। সংকটকে পুঁজি করে অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রির উদ্দেশ্যে তারা দোকান, বাসাবাড়ি, ধানের গুদাম, ভবনের ভূগর্ভ, মুদি দোকান, এমনকি গোয়ালঘরেও অবৈধভাবে মজুত করেছেন পেট্রোল, ডিজেল। গোপন খবরের ভিত্তিতে প্রশাসনের কর্মকর্তারা ও ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে এসব জ্বালানি তেল উদ্ধার করছেন, জরিমানা করছেন, কারাদণ্ড দিচ্ছেন। অবৈধভাবে মজুত করা জ্বালানি তেল উদ্ধারের চিত্র দেখে মনে হচ্ছে গোয়ালঘর-দোকান-বাসাবাড়ি যেন তেলের ‘ডিপো’। সরকার তেলের পাম্পে নিরাপত্তা প্রদান ও তেল পাচার ঠেকাতে বিভিন্ন জায়গায় বিজিবি মোতায়েন করেছে। কোথাও কোথাও পুলিশও নিরাপত্তা দিচ্ছে।
শনিবার বিভিন্ন পাম্পের সামনে দেখা যায় শত শত গাড়ি। কিন্তু তেল নেই। জ্বালানি তেল বাড়ি, গোয়ালঘর, দোকানে মজুত করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা হচ্ছে। শনিবার পাবনা, কুড়িগ্রাম, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনায় হাজার হাজার লিটার মজুতের তেল জব্দ করা হয়েছে। দোষীদের জরিমানা এবং কারাদণ্ড দিয়েছেন ম্যাজিস্ট্রেট। কুড়িগ্রামে বিএনপি নেতার গোয়ালঘর থেকে ড্রামভর্তি তেল উদ্ধার করা হয়েছে। ময়মনসিংহে পপি ট্রেডার্স নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মাটির নিচের ট্যাংক থেকে ২৪ হাজার লিটার তেল উদ্ধার করা হয়। এমনকি তুলনামূলকভাবে দাম বেশি থাকায় ভারতেও পাচার হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে অবৈধ তেলের মজুত ও পাচার ঠেকাতে দেশের সব পেট্রোলপাম্পের জন্য ‘ট্যাগ অফিসার’ নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এদিকে পাম্পে তেল নেওয়াকে কেন্দ্র করে নাটোরের বড়াইগ্রামে সংঘর্ষে ৫ জন আহত হয়েছেন। জামালপুরে তেল না পেয়ে মোটরবাইকাররা জামালপুর-টাঙ্গাইল মহাসড়কে অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন।
জ্বালানি সচিব মো. সাইফুল ইসলাম শনিবার যুগান্তরকে বলেন, জনগণকে জ্বালানি তেল দিতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। কিন্তু সেই তেল নিয়ে মজুত করার প্রবণতা চিন্তার বিষয়। এই মজুতদারির সঙ্গে তেল বিতরণ কোম্পানি এবং কিছু পাম্পমালিক জড়িত। তিনি বলেন, সরকার বিদেশ থেকে চাহিদা অনুযায়ী উচ্চমূল্যে তেল আমদানি করে জনগণকে সরবরাহ দিচ্ছে। এখন ব্যবসায়ী বা কিছু মানুষ তেল মজুতদারি করছে। এটা সরকার কোনোভাবেই বরদাশত করবে না। সব জায়গায় অভিযান চালানো হবে। তিনি বলেন, তেলের কোনো সংকট নেই। কিন্তু মজুতদারি করে একটি পক্ষ কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে। ভারতে পাচার রোধে বিজিবি ও সীমান্তবর্তী সব ডিসিকে চিঠি দিয়ে বলা হয়েছে। এদিকে জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা জানান, যেখানে-সেখানে তেল মজুত করলে যে কোনো সময় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড বা বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। এতে করে জীবন ও মালের ক্ষতি হতে পারে।
এদিকে ডিপোগুলো থেকে তেল সরবরাহের সময় বাড়িয়েছে সরকার। আজ থেকে সব ডিপো সকাল ৭টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত তেল বিক্রি করবে। এর আগে সকাল ৯টা থেকে ডিপোতে তেল দেওয়া হতো। নিরাপত্তা বাড়াতে ১৯টি ডিপোতে বিজিবি নিয়োগ করেছে সরকার।
জ্বালানি বিভাগ বলছে, দেশের ডিপোগুলোতে যথেষ্ট পরিমাণে তেলের মজুত আছে। গত বছরের মার্চে যে পরিমাণে অকটেন, পেট্রোল ও ডিজেল নিয়েছে এবারও সেই পরিমাণে পাম্প ও ডিলারদের তেল দেওয়া হচ্ছে। সুতরাং তেলের কোনো সংকট হওয়ার কথা নয়। কিন্তু মজুতদারি ও জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি হওয়ার কারণে তেলের সংকট প্রকট হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকে বাইকে ২-৩ লিটারের জায়গায় ৭-৮ লিটার তেল ভরে রাখছে। গাড়ির বেলায়ও তাই। জ্বালানি বিভাগ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত জ্বালানি তেল ক্রয়ের দরকার নেই। তেল দাহ্য পদার্থ। তেল মজুত করা অত্যন্ত বিপজ্জনক। জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুতের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রতিটি জেলায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট কাজ করছে। তেলের দাম বৃদ্ধির কোনো আশঙ্কা নেই। তাছাড়া চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি তেলের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার আন্তর্জাতিক বাজার থেকে প্রয়োজনীয় তেল ক্রয় করছে। তাই জ্বালানি তেলের সরবরাহ ঘাটতির কোনো আশঙ্কা নেই।
এদিকে জ্বালানি তেল সরবরাহে শৃঙ্খলা ফেরাতে মাঠে নেমেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও পাচার রোধে দেশের ১৯টি গুরুত্বপূর্ণ তেলের ডিপোতে মোতায়েন করা হয়েছে বিজিবি। বিজিবি সূত্র জানায়, ৯টি জেলার ১৯টি গুরুত্বপূর্ণ ডিপোতে অস্থায়ী বেইস ক্যাম্প স্থাপন করে দায়িত্ব পালন করছেন সদস্যরা। এর মধ্যে ঢাকা জেলায় ১টি, কুড়িগ্রামে ২টি, রংপুরে ৩টি, রাজশাহীতে ৩টি, সিলেটে ২টি, মৌলভীবাজারে ৩টি, কুমিল্লায় ৩টি, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১টি ও সুনামগঞ্জ জেলায় একটি ডিপোতে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। ডিপোগুলোতে নিয়মিত তদারকি, মজুত যাচাই এবং তেল উত্তোলন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করছেন বিজিবি সদস্যরা। একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় জোরদার করা হয়েছে টহল ও তল্লাশি। ট্রাক-লরি চলাচলও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। যাতে কোনোভাবেই তেল পাচার না হয়।
সারা দেশ থেকে যুগান্তর ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-
রাজিবপুরে বিএনপি নেতার গোয়ালঘর থেকে ড্রামভর্তি পেট্রোল উদ্ধার : কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলার দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের দাঁতভাঙ্গা গ্রামে বিএনপি নেতার গোয়ালঘর থেকে ড্রামভর্তি পেট্রোল উদ্ধার করেছে রৌমারীর ভ্রাম্যমাণ আদালত। ওই নেতার নাম আবু জাহান। তিনি দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি। তার ছেলে এরশাদুল হক ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা। খবর পেয়ে শুক্রবার বিকালে ভ্রাম্যমাণ আদালত আবু জাহানের বাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় গোয়ালঘর থেকে ড্রামভর্তি পেট্রোল জব্দ করা হয়। আদালত তাদের ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। অবৈধ মজুত ও বিক্রির অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপি নেতার ভাই হারুন অর রশিদ বলেন, আমাদের মোটরসাইকেলে ব্যবহারের জন্য ড্রামে কিছু পেট্রোল রাখা ছিল।
ফুলপুরে ভূগর্ভ থেকে ১৯৫০০ লিটার ডিজেল, ৪৫০০ লিটার পেট্রোল জব্দ : ময়মনসিংহের ফুলপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে বিপুল পরিমাণ মজুত তেলের সন্ধান পাওয়া গেছে। স্থানীয় পৌরসভার আমুয়াকান্দা রোডের পপি ট্রেডার্স নামের প্রতিষ্ঠানের ভূগর্ভ থেকে মজুত করা প্রায় ১৯ হাজার ৫০০ লিটার ডিজেল ও ৪ হাজার ৫০০ লিটার পেট্রোল উদ্ধার করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদিয়া ইসলাম সীমা জানান, ওই প্রতিষ্ঠানকে ২ লাখ টাকা জরিমানা এবং মজুত তেল প্রকাশ্যে পাম্পের মাধ্যমে বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়েছে।
কেন্দুয়ায় ৮০০ লিটার পেট্রোল জব্দ : নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার রামপুর বাজারে শুক্রবার রাতে অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে মজুত করা ৮০০ লিটার পেট্রোল জব্দ করা হয়েছে। জব্দকৃত পেট্রোল শনিবার উপজেলা প্রশাসন প্রকাশ্যে রামপুর বাজারে বিক্রি করেছে। ব্যবসায়ী এনায়েতুর রহমানকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
কুমিল্লায় মুদি দোকানে ২০০ টাকা লিটারে পেট্রোল : কুমিল্লায় জ্বালানি তেল সংকটের সুযোগ নিচ্ছে কালোবাজারি সিন্ডিকেট। জেলার অধিকাংশ পেট্রোলপাম্প এবং জ্বালানি তেলের দোকান থেকে খোলা মার্কেটে চলে যাচ্ছে পেট্রোল, অকটেন, ডিজেল। মুরাদনগর উপজেলার শ্রীকাইল, রামচন্দ্রপুর, বাখরাবাদ, যাত্রাপুর, বাঙ্গরা, চাপিতলা, টনকি, বাখরনগর বাজারের বিভিন্ন মুদি দোকানে অতিরিক্ত দামে জ্বালানি তেল বিক্রি হচ্ছে। দেবিদ্বার উপজেলার কালিকাপুর জাফরগঞ্জ এলাহাবাদ এলাকায় মুদি দোকানে জ্বালানি তেল বিক্রি হচ্ছে। জেলার অধিকাংশ এলাকা থেকে এমন খবর পাওয়া যাচ্ছে। শুক্রবার বিকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চৌদ্দগ্রামের চিওড়া নতুন বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে খোলাবাজারে জ্বালানি তেল বিক্রি ও অতিরিক্ত মূল্য রাখার দায়ে দোকানি আবু রায়হান জুয়েলকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নুরুল আমিন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নুরুল আমিন জানান, গোপনে অভিযোগ পাওয়া যায় এই মুদি দোকানটিতে পেট্রোল বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২১০ টাকা লিটার দরে। একই সঙ্গে তারা মাপে কম দিচ্ছিল। হাতেনাতে প্রমাণ পাওয়ায় ওই মুদি দোকানিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এদিকে কুমিল্লায় ৫টি ফিলিং স্টেশনে অভিযান পরিচালনা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। শনিবার বিকালে নগরী এবং শহরতলির বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে জ্বালানি মজুতের অভিযোগে নগরীর তেলিকোনা এলাকার নুরুল হুদা ফিলিং স্টেশনকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া জান্নাত ফিলিং স্টেশন, নাইমুল ফিলিং স্টেশন, রহমান ফিলিং স্টেশন, ইস্টার্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশনসহ মোট ৫টি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালানো হয়।
যশোরে ধানের গুদামে জ্বালানি তেলের মজুত : যশোরের মনিরামপুরে ধান ব্যবসায়ীর গুদাম থেকে ৭০০ লিটার জ্বালানি তেল জব্দ করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। শনিবার বিকালে মনিরামপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহির দায়ান আমিন খেদাপাড়া বাজার থেকে এই তেল জব্দ করেন। ওই বাজারের ব্যবসায়ী তবিবর রহমান নিজের ও পাশের ধান ব্যবসায়ী গোবিন্দ দাসের ধানের গুদামে প্লাস্টিকের চার ড্রামে ৭০০ লিটার তেল লুকিয়ে রেখেছিলেন। এদিকে ভ্রাম্যমাণ আদালত আসার খবর পেয়ে সটকে পড়েন ব্যবসায়ী তবিবর রহমান। উদ্ধার তেলের মধ্যে ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেন রয়েছে। জব্দ তেল মনিরামপুর বাজারে ফিলিং স্টেশনে বিক্রি করে টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হবে বলে ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্র জানিয়েছেন।
সিংড়ায় লরি থেকেই ২০০০ লিটার পেট্রোল-ডিজেল উধাও : নাটোরের সিংড়ায় রাতের আঁধারে লরি থেকেই ২০০০ লিটার পেট্রোল-ডিজেল উধাও হওয়ায় আবু সাইদ নামের এক জ্বালানি তেলের লরির ম্যানেজারকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে এক মাসের কারাদণ্ড প্রদান করেছেন ভ্রামম্যাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সিংড়ার ইউএনও আব্দুল্লাহ আল রিফাত। শনিবার রাত সাড়ে ৮টায় ঘটনাটি ঘটেছে নাটোরের সিংড়া উপজেলার জামতলি বাজারের আঁখি ফিলিং স্টেশনে। লরির ম্যানেজারের বাড়ি সিরাজগঞ্জের শাহজাতপুর বলে জানা গেছে।
সুজানগরে দোকান থেকে পেট্রোল-অকটেন জব্দ : পাবনার সুজানগরে অবৈধভাবে পেট্রোল ও অকটেন মজুত করে অতিরিক্ত দামে বিক্রি করায় এক দোকান মালিককে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযান চলাকালে দোকানটি থেকে ১৯০৪ লিটার পেট্রোল ও ৫৪৫ লিটার অকটেন জব্দ করা হয়। পরে জব্দ করা পেট্রোল মোটরসাইকেলপ্রতি সর্বোচ্চ পাঁচ লিটার করে ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করা হয়।
বড়াইগ্রামে সংঘর্ষে আহত ৫ : নাটোরের বড়াইগ্রামে ফিলিং স্টেশনে তেল নেওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে পাঁচজন আহত হয়েছেন। শুক্রবার রাতে উপজেলার বনপাড়া বাইপাস এলাকার মদিনা ফিলিং স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানান, রাতে তারা মদিনা ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে যান। সেখানে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর তেল নেওয়ার সিরিয়াল নিয়ে বিতর্ক হয়। পরে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সেখানে উপস্থিত মোটরসাইকেলচালকসহ তেল ক্রেতাদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে।
যমুনা অয়েল ডিলারের লাইসেন্স স্থগিত : শনিবার যমুনা অয়েলের ডিলার মেসার্স সততা পেট্রোলিয়াম পরিবহণ ভৈরববাজার ডিপো থেকে ১৮ হাজার লিটার ডিজেল কৃষকদের দেওয়ার নামে উত্তোলন করে। কিন্তু সততা কৃষকদের না দিয়ে ভৈরবের মেসার্স মোল্লা ফিলিং স্টেশনে বিক্রি করে দেয়। তাই তাদের লাইসেন্স আপাতত স্থগিত করে দেয় যমুনা অয়েল কোম্পানি।
চট্টগ্রামে মনিটরিং কমিটি গঠন : চট্টগ্রামে অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুতকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে জেলা প্রশাসন। সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে মনিটরিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। পুরো জেলায় অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুতকারীদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে ফিলিং স্টেশনগুলোর সংগ্রহ ও বিক্রির তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। সরকারের এমন উদ্যোগে জ্বালানি তেল মজুত, পাচার ও চোরা কারবারের সঙ্গে জড়িতরা আতঙ্কে রয়েছে।
এদিকে চট্টগ্রামে শুক্রবার ৬ হাজার লিটার ডিজেল জব্দের ঘটনায় তোলপাড় চলছে। এসব ডিজেল বিপিসির অধীন রাষ্ট্রায়ত্ব বিভিন্ন জ্বালানি তেল বিপণন কোম্পানির ডিপো থেকে নানা কৌশলে চুরি করা হয়েছে বলে জানতে পেরেছে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা।
বরিশালে বাড়তি দামে মিলছে তেল : বরিশাল জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে জ্বালানি তেল। লিটারপ্রতি ৪০-৫০ টাকা বাড়তি দিলে মিলছে এই তেল। উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে ড্রাম ডিলারদের তেল দিচ্ছে না ডিপোগুলো। যে কারণে ওইসব তেল ব্যবসায়ীরা কালোবাজার থেকে তেল সংগ্রহ করে বাড়তি দামে বিক্রি করছেন।
রংপুরে তীব্র সংকটে চরম ভোগান্তি : রংপুরে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ ও যানবাহনচালকরা। তেলের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে অনেককে। কেউ আবার বাধ্য হয়ে বেশি দামে খোলাবাজার থেকে জ্বালানি কিনে চলাচল করছেন। শনিবার পীরগঞ্জ, তারাগঞ্জ কাউনিয়া ও পীরগাছা উপজেলায় গিয়ে দেখা যায়, পেট্রোল ও অকটেনের সংকটে বেশ কয়েকটি পাম্প বন্ধ রয়েছে। পরিবহণচালকরা পড়েছেন বিপাকে।
সিলেটে বিজিবির টহল : সিলেটে জ্বালানি তেলের ডিপোগুলোতে নাশকতা ও সরবরাহে বিঘ্ন এড়াতে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। সিলেট ও পাশের মৌলভীবাজারসহ দেশের ১৯টি জ্বালানি ডিপোতে বিজিবি মোতায়েন রয়েছে। প্রতিটি স্থানে একজন কর্মকর্তার নেতৃত্বে সদস্যরা টহল ও সার্বিক তদারকি করছেন। পাশাপাশি যে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।
রাজশাহীর ৪৪ পাম্পের অধিকাংশ বন্ধ : রাজশাহীতে জ্বালানি তেলের চরম সংকট দেখা দিয়েছে। পাম্পগুলোতে ডিজেল, পেট্রোল এবং অকটেনের সরবরাহ কমে যাওয়ায় যানবাহন চালক ও সাধারণ গ্রাহকরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেকেই তেল না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। তবে কিছু পাম্পের বিরুদ্ধে তেল মজুত রাখারও অভিযোগ উঠেছে। রাজশাহীর ৪৪টি ফিলিং স্টেশনের মধ্যে অর্ধেকের বেশি ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। চালু থাকা স্টেশনগুলোর তেলের মজুতও প্রায় শেষের দিকে। ফলে গ্রাহকরা তেল না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। বিশেষ করে মোটরসাইকেলচালকদের ভিড় ও ক্ষোভ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বেশকিছু পাম্পে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
নেত্রকোনায় ৫৫০০ লিটার পেট্রোল জব্দ : নেত্রকোনা সদর উপজেলার হাটখলা বাজারে অভিযান চালিয়ে ৫৫০০ লিটার পেট্রোল জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এসব জ্বালানি তেল লাইসেন্স ছাড়া অতিরিক্ত মূল্যে খুচরা বিক্রি করার সত্যতা পাওয়ায় মেসার্স চৌধুরী এন্টারপ্রাইজে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। শনিবার সন্ধ্যার পর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইকবাল হোসেন এই অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ তেল জব্দসহ জরিমানা করেন। অর্থদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যবসায়ী হলেন মেসার্স চৌধুরী এন্টারপ্রাইজের মালিক জহিরুল হক বকুল।
বীরগঞ্জে একজনের জেল-জরিমানা : দিনাজপুরে বীরগঞ্জে শনিবার শিবরামপুর ইউনিয়নের ধনগাঁও বাজার এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালায় প্রশাসন। এ সময় বিপুল পরিমাণ তেল জব্দ করা হয়েছে। অভিযানে জগদীশ কুমার রায়ের ছেলে পরিতোষ কুমার রায়ের বাড়ি থেকে ৩৮০ লিটার ডিজেল ও ৩৪ লিটার অকটেন উদ্ধার করা হয়। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমা খাতুন জানান, ভ্রাম্যমাণ আদালতে অভিযুক্তকে ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫,০০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
উল্লাপাড়ায় তেল মজুত রেখে বিক্রি বন্ধ : সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় তেল মজুত থাকা সত্ত্বেও বিক্রি বন্ধ রাখার অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে লুকিয়ে রাখা তেল উদ্ধার করেছে প্রশাসন। শনিবার দুপুরে উপজেলার রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় অবস্থিত দি ইস্টার্ন লিমিটেডের তেলপাম্পে এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম আরিফ।
সুদপুরে খোলাবাজারে জ্বালানি তেল বিক্রির দায়ে তিন ব্যবসায়ীকে জরিমানা
মুকসুদপুরে তিন ব্যবসায়ীকে জরিমানা : গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে অবৈধভাবে খোলাবাজারে জ্বালানি তেল ও এলপিজি বিক্রির দায়ে তিন ব্যবসায়ীকে ১৬ হাজার টাকা জরিমানা এবং দুটি মিনি পাম্প মেশিন জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। শনিবার উপজেলা সদর বাজারসহ বিভিন্ন বাজারে অভিযান চালিয়ে এ জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ আশিক কবির।
পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ) : পাকুন্দিয়ায় অতিরিক্ত দামে ডিজেল বিক্রির দায়ে বুলবুল নামে এক ব্যবসায়ীকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। শনিবার দুপুরে উপজেলার কলাদিয়া বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাকে এ জরিমানা করা হয়।
জামালপুরে সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ : দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও তেল না পেয়ে জামালপুর-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন মোটরসাইকেলচালকরা। শনিবার সকালে শহরের পিটিআই মোড়ে জুঁই এন্টারপ্রাইজ নামে তেলের দোকানের সামনে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা এসে দোকান মালিককে জরিমানা করে মজুত তেল বিক্রির ব্যবস্থা করেন।