কুমিল্লার বুড়িচংয়ে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বাসের সঙ্গে প্রাইভেটকারের সংঘর্ষে নিহত হন পাঁচজন। ওই প্রাইভেটকারে যাত্রীদের সবাই ছিলেন একই পরিবারের। দুর্ঘটনায় মা-বাবা, ভাই-বোন নিহত হলেও ভাগ্যক্রমে বেঁচে গেছে ১২ বছর বয়সি হাফেজ আবরার।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সন্ধ্যা ৬টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কালাকচুয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রাইভেটকারটি সড়কে ওঠার সময় চট্টগ্রামগামী একটি বাসের সঙ্গে সংঘর্ষে দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান আবরারের বাবা মুফতি আব্দুল মোমিন, মা দিল আফরোজ আক্তার, বড় বোন লাবিবা ও ছয় বছর বয়সি ছোট ভাই আরশাদ। নিহত হন প্রাইভেটকারের চালক জামাল হোসেনও। প্রাইভেটকারে থাকা একমাত্র আবরারই বেঁচে ফেরে। তবে সেও গুরুতর আহত হয়।
ঈদের ছুটি কাটিয়ে লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে নানাবাড়ি থেকে ঢাকায় ফিরছিল পরিবারটি। কিন্তু সেই ফেরাই হয়ে দাঁড়ায় জীবনের শেষ যাত্রা।
গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল আবরার। প্রথমে তাকে জানান হয়েছিল—তার পরিবারের সবাই আহত, চিকিৎসাধীন। কিন্তু রাতেই স্বজনরা যখন ময়নামতি হাইওয়ে থানা থেকে মরদেহ নিতে যান, তখনই জানতে পারে নির্মম সত্য—বাবা-মা, ভাই-বোন কেউ আর বেঁচে নেই। সেই থেকে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়ে ছোট্ট এই হাফেজ।
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার ছাতারপাইয়া গ্রামের বাসিন্দা মুফতি আব্দুল মোমিনের ছেলে আবরার কোরআনের হাফেজ। স্বপ্ন ছিল বড় আলেম হওয়ার, দ্বীনের খেদমতে নিজেকে উৎসর্গ করার। এই স্বপ্ন দেখেছিলেন তার বাবা-মাও। কিন্তু সন্তানের সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিতে দেখার আগেই পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলেন তারা।
পরিবারের আরেক সদস্য হুজাইফা নানাবাড়িতে থেকে যাওয়ায় প্রাণে বেঁচে যান। আর একমাত্র জীবিত আবরার এখন নিঃস্ব, একা।
আবরারের মামা মাওলানা ফয়সাল আহমেদ অভিযোগ করেন, বেপরোয়া বাস চলার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। তিনি দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি করেছেন।
কুমিল্লা মহানগর হেফাজতে ইসলামের নেতা মুফতি শামসুল ইসলাম জিলানী বলেন, ছোট্ট হাফেজ আবরারকে কীভাবে শান্ত্বনা দেব, সে ভাষা নেই।
তিনি বলেন, একের পর এক দুর্ঘটনায় প্রমাণ হচ্ছে, এ সরকার সড়ক বিভাগে জনগণের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ। আজ একটি আলেম পরিবার শেষ। এর দায়ভার সরকার, গাড়ি ও মহাসড়কের পাশে গড়ে ওঠা হোটেলগুলোকে নিতে হবে।
ময়নামতি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মমিন বলেন, দুর্ঘটনার ভয়াবহতা এতটাই ছিল যে, প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল কেউ বেঁচে নেই। কিন্তু আবরারের বেঁচে যাওয়া সত্যিই অবিশ্বাস্য। বাসটি আটক করা হয়েছে, তবে চালক ও সহকারী পলাতক রয়েছেন। তাদের ধরতে অভিযান চলছে।