Image description

সাভারের আশুলিয়ায়‌ গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. কায়কোবাদ হোসেন রাসেলের ব্যক্তিগত গাড়িতে পেট্রল ঢেলে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ নেতা হানিফ মিয়ার বিরুদ্ধে।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দিবাগত রাত ২টার দিকে আশুলিয়ার ধামসোনা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের উনাইল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। 

ভুক্তভোগী ডা. কায়কোবাদ হোসেন রাসেল ধামসোনা ইউনিয়নের বাসিন্দা হাজী মো. আব্বাস উদ্দিনের ছেলে। অন্যদিকে অভিযুক্ত হানিফ মিয়া পলাতক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামের অনুসারী এবং ধামসোনা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য।

থানা পুলিশ ও ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটিতে ডা. কায়কোবাদ হোসেন রাসেল গ্রামের বাড়ি উনাইলে অবস্থান করছিলেন। রাতে তার ব্যক্তিগত প্রাইভেট কারটি (ঢাকা মেট্রো-গ ৩৭-৩৩০২) বাড়ির উঠানে রাখা ছিল। বৃহস্পতিবার রাত ২টার দিকে ধামসোনা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য হানিফ মিয়ার নেতৃত্বে একদল দুর্বৃত্ত গাড়িতে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিলে মুহূর্তেই গাড়িটি পুড়ে যায়। আগুনের লেলিহান শিখা দেখতে পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান ডা. রাসেলের চাচাতো ভাই ডা. সোহেল আরমান ও মো. নিজাম উদ্দিন।

এসময় তারা আগুন নেভানোর চেষ্টা করলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এতে প্রায় ৩৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার।

 

ডা. কায়কোবাদ হোসেন রাসেল জানান, গত এক মাস আগে আমার নির্মাণাধীন মার্কেট থেকে সাবমারসিবল পাম্প ও তিন টন রড চুরির ঘটনা ঘটে।

এর আগে ২০১৯ সালের ২২ নভেম্বর পূর্ব শত্রুতার জের ধরে আমার বাড়িতে হামলা চালালে আমার বাবা হাজী মো. আব্বাস উদ্দিন, চাচা আফাজ উদ্দিন, ইমতিয়াজ উদ্দিনসহ পরিবারের সদস্যদের গুরুতর আহত হয়। ওই ঘটনায় আশুলিয়া থানায় ২৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হলে আদালত হানিফ মিয়াকে ৫ বছরের কারাদণ্ড ও তার ভাই নুর উদ্দিনকে ৭ বছরের কারাদণ্ডসহ অন্যদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করে। এরপর থেকেই মামলা তুলে নিতে দীর্ঘদিন ধরে হুমকি দিয়ে আসছিলেন হানিফ মিয়া ও তার লোকজন। মামলা প্রত্যাহার না করায় পূর্ব পরিকল্পিতভাবে এই অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে দাবি করেন ডা. কায়কোবাদ হোসেন রাসেল।

 

এ ছাড়াও আওয়ামী লীগ নেতা হানিফ মিয়ার বিরুদ্ধে এলাকায় চাঁদাবাজি, জমি দখল, মাদক ব্যবসা, নিরীহ মানুষকে মারধর ও নানা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা, হত্যা, নারী নির্যাতনসহ এসব ঘটনায় একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

সরকার পতনের পর কিছুদিন আত্মগোপনে থাকলেও বর্তমানে প্রকাশ্যে এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

 

অন্যদিকে ডা. কায়কোবাদ হোসেন রাসেল জুলাই আন্দোলনের সময় আশুলিয়া এলাকায় আহতদের নিজস্ব উদ্যোগে তার মালিকানাধীন সাহারা মডার্ন হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসা দিয়ে ব্যাপক আলোচনায় আসেন। শহীদদের লাশ পরিবহনে তিনি ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স সেবা প্রদান করেন এবং নিয়মিত এলাকাবাসীর জন্য মাসে একবার ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প পরিচালনা করে মানবিক চিকিৎসক হিসেবে সবার ভালোবাসা অর্জন করেছেন।

এ ব্যাপারে আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, আগুনের খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি এবং অভিযুক্তদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করছি। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। খুব শিগগিরই অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।