মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় পূর্ব মতবিরোধের জেরে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে তার এক বন্ধুর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্তকে আটক করেছেন স্থানীয়রা। শুক্রবার (২৭ মার্চ) দুপুরে জুমার নামাজ শেষে উপজেলার গুয়াগাছিয়া ইউনিয়নের নতুন চরচাষী দক্ষিণপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত সম্রাট একই এলাকার নুরু মিয়ার ছেলে। অভিযুক্ত তুহিন একই গ্রামের মোবারক মিয়ার ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সম্রাট ও তুহিন দীর্ঘদিনের বন্ধু এবং একই মসজিদে নিয়মিত নামাজ আদায় করতেন। শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হওয়ার পর পূর্বের ধর্মীয় মতবিরোধকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তুহিন সঙ্গে থাকা ধারালো ছুরি নিয়ে সম্রাটের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। তিনি সম্রাটের শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন।
সম্রাটের চিৎকারে আশপাশের মুসল্লি ও স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে এসে তুহিনকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন।
গুরুতর আহত সম্রাটকে প্রথমে গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. তাহসির আহমেদ বলেন, আহত যুবকের মাথা, গলা ও ঘাড়ে ধারালো অস্ত্রের গুরুতর আঘাত রয়েছে। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় কয়েকটি সূত্র জানায়, ধর্মীয় আকিদা-সংক্রান্ত বিষয়ে সম্রাট ও তুহিনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল এবং এ নিয়ে একাধিকবার তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়েছে।
তবে সম্রাটের মা রাজিয়া খাতুন দাবি করেন, তার ছেলে শান্ত স্বভাবের এবং কারও সঙ্গে তার কোনো শত্রুতা ছিল না। তিনি এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন।
এদিকে আটক তুহিন নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, ‘আমি ইচ্ছাকৃতভাবে করিনি, আমার ওপর জিনের আছর হয়েছিল।’
গজারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসান আলী বলেন, অভিযুক্তকে স্থানীয়দের সহায়তায় আটক করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগের প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।