রাজশাহীতে আওয়ামী লীগের এক নেতাকে ড্রেনে ফেলে মারধরের পর তার মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দুপুর ৩টার দিকে নগরীর শাহমখদুম থানা সংলগ্ন পবা নতুনপাড়া মহল্লায় এ ঘটনা ঘটে। শুক্রবার (২৭ মার্চ) এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে।
ভুক্তভোগী ফিরোজ খান শাহমখদুম থানা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে ফিরোজ ঢাকায় থাকেন। তবে মাঝে মাঝে অল্প সময়ের জন্য বাড়িতে আসতেন। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর সম্প্রতি ঈদে বাড়িতে এসেছিলেন তিনি। মারধরের পর ভয়ে হাসপাতালেও চিকিৎসা নিতে পারেননি ফিরোজ।
মারধরের বিষয়ে ফিরোজ খান জানান, শাহমখদুম থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মামুন আলী, তার নিকটাত্মীয় মো. শাকিব, লালন ও মনাসহ কয়েকজন তাকে নির্মমভাবে মারধর করেন। এতে তার বাম হাত ভেঙে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পান।
তিনি জানান, বৃহস্পতিবার তাকে চা খাওয়ার কথা বলে ডেকে নিয়ে মোটরসাইকেল থেকে নামানোর পরপরই হামলাকারীরা কাঠের লাঠি দিয়ে মারধর শুরু করে এবং ড্রেনে ফেলে দেয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করেন।
ফিরোজ আরো অভিযোগ করেন, মারধরের পর শাকিব তার ডিসকভার ১১০ সিসির মোটরসাইকেলটি কেড়ে নিয়েছেন। এলাকার কিছু ব্যক্তিকে তিনি মোটরসাইকেলের বিষয়ে জানিয়েছিলেন।
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মামুন আলী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ আমলে ফিরোজ মানুষকে যে অত্যাচার-নির্যাতন করেছে, মানুষ এলাকায় পেয়ে তাকেও শায়েস্তা করেছে। তবে এ ঘটনার সঙ্গে আমি জড়িত নই।’
শাকিব বলেন, ‘এ ঘটনার বিষয়ে আমি জড়িত নই। তাই মোটরসাইকেল কেড়ে নেওয়ার অভিযোগও ভিত্তিহীন। কেউ আমাকে ফাঁসাতে মিথ্যা তথ্য দিয়েছে।’
এ বিষয়ে শাহমখদুম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক হোসেন বলেন, ‘ঘটনাটি শুনেছি। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে কাউকে পায়নি পুলিশ। থানায় কেউ কোনো মোটরসাইকেলও জমা দেয়নি। এ নিয়ে কোনো অভিযোগও পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’