Image description

ফখরুদ্দিন-মইনুদ্দিনের এক-এগারো সরকারের আমলে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জামিনের জন্য প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখার দাবি করেছেন প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদ। 

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ছিদ্দিক আজাদের আদালতে রিমান্ড শুনানিকালে তিনি এ দাবি করেন।

বুধবার রাত ১২টা ৩৫ মিনিটে পল্লবী থানাধীন ডিওএইচএস এলাকার বাসা থেকে মামুন খালেদকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। এরপর চব্বিশের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে মিরপুর ১০ নম্বর এলাকায় ফার্নিচার ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে এদিন তাকে আদালতে হাজির করা হয়।

এ সময় তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির মিরপুর জোনের উপপরিদর্শক কফিল উদ্দিন।

 

সেই আবেদনের শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ঢাকা মহানগর পিপি ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, আসামি মামুন খালেদ এক-এগারোর অন্যতম কুশীলব ছিলেন। পরবর্তীকালে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় আনতে সহযোগিতা করায় পুরস্কারস্বরূপ তাকে ডিজিএফআই প্রধান করা হয়। তার আমলেই আয়নাঘর তৈরি করে সাধারণ মানুষকে নির্যাতন ও পুড়িয়ে মারার মতো অপরাধ করা হয়েছে।

 

তিনি আরও বলেন, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে সেনানিবাসের বাসা থেকে এক কাপড়ে বের করে দেওয়ার নেপথ্যে ছিলেন এই মামুন খালেদ। তার নির্দেশেই গত ১৯ জুলাই মিরপুরে ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালানো হয়, যাতে দেলোয়ার নামে এক ব্যক্তি নিহত হন।

এছাড়া জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পের কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার কথাও আদালতকে জানান ওমর ফারুক ফারুকী। যে কারণে ইতোমধ্যে আদালত স্ত্রীসহ তার বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন।

 

আসামিপক্ষে আইনজীবী মোর্শেদ আলম শাহীন ও নজরুল ইসলাম রিমান্ড বাতিলসহ জামিন চান।

শুনানির একপর্যায়ে আসামি মামুন খালেদ নিজে আদালতের অনুমতি নিয়ে কথা বলেন। তিনি আদালতকে বলেন, আমি ২০০৭ সালে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) ফোর্সেস সিগন্যাল ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোতে যোগদান করি, যারা মূলত যোগাযোগব্যবস্থার দায়িত্ব পালন করে। সেখানে জুলাই পর্যন্ত কাজ করার পর আমি দায়িত্ব গ্রহণ করি। সে সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যতগুলো মামলায় জামিন হয়েছিল, সেই প্রত্যেকটি জামিনের ক্ষেত্রে আমি সরাসরি ভূমিকা পালন করেছি।

 

আয়নাঘর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তৎকালীন লেফটেন্যান্ট জেনারেল মতিউর রহমান এবং লেফটেন্যান্ট জেনারেল হাকিম স্যারকে আপনারা জিজ্ঞাসা করতে পারেন। ওই সময়ে আমাদের যে শাখাটি ছিল (যা পরবর্তী সময়ে আয়নাঘর হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে), সেখানে কোনো ব্যক্তিকে আটকে রাখার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। আমি দুই থেকে তিনবার গুম কমিশনের সামনে শুনানিতে অংশ নিয়েছি। ২০১১ সালের ২৩ জুন থেকে ২০১৩ সালের ৭ মার্চ পর্যন্ত আমার দায়িত্ব পালনকালে গুমের কোনো অভিযোগ ছিল না।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে শেখ হাসিনার সময়ের সাতজন ডিজিএফআই প্রধানের মধ্যে পাঁচজনই বিদেশে আছেন। আমি দেশেই আছি। আমি যদি কোনো অপরাধে সম্পৃক্ত থাকতাম, তবে গত ১৮ সেপ্টেম্বর যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফিরে আসতাম না। আমার মেয়ে পিএইচডি করছে, তাকে মানসিক সমর্থন দেওয়ার জন্য আমি জুলাই মাসে বিদেশে গিয়েছিলাম এবং পুনরায় ফিরে আসি। আমার মনে যদি কোনো ধরনের সংশয় বা ভয় থাকত, তবে আমিও অন্যদের মতো বিদেশে থেকে যেতে পারতাম।

জলসিঁড়ি প্রকল্প প্রসঙ্গে সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা বলেন, জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পে নজরুল সাহেবের ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পাওনা আছে। জেনারেল ইকবাল করিম ভূঁইয়া আমাকে এই টাকা উদ্ধারের দায়িত্ব দিয়েছিলেন, যা তিনি ফেসবুকে উল্লেখ করেছেন। মামুন খালেদ সেই টাকা উদ্ধার করে দিয়েছেন।

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন ও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রসঙ্গে মামুন খালেদ বলেন, আমি বিইউপি’র চার বছর উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। আমার হাত ধরেই এখানে ১৭টি বিষয় এবং ৫টি অনুষদ চালু হয়েছে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে যদি ছাত্ররা অনুপ্রাণিত হয়ে থাকে, তবে তারা তাদের উপাচার্যের মাধ্যমেই অনুপ্রাণিত হয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে আমার কোনো ক্ষমতা ছিল না, আমি তখন একজন সাধারণ বেসামরিক ব্যক্তি। আমি ডিওএইচএসেই ছিলাম। আমার বাসায় একটি ছোটখাটো সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান আছে এবং আমি সেটির চেয়ারম্যান। আমাদের নিয়মিত যাতায়াতের পথ হচ্ছে কালশী উড়ালসড়ক (ফ্লাইওভার), মিরপুর-১০ এর পথে আমাদের যাওয়ার কোনো কারণ বা প্রয়োজন পড়ে না। সুতরাং, আমাকে রিমান্ডে বা জিজ্ঞাসাবাদের কোনো প্রশ্নই ওঠে না।

শুনানি শেষে বিচারক তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদেশ দেন।