Image description

প্রায় চার সপ্তাহ ধরে চলা যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ১৫ দফা প্রস্তাবের আনুষ্ঠানিক জবাব দিয়েছে ইরান। মার্কিন প্রস্তাবটি ‘একতরফা ও অন্যয্য’ বলে অভিহিত করেছে তেহরান। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ইরানের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা রয়টার্সকে এই তথ্য জানিয়েছেন।

 

তবে এই কর্মকর্তা জোর দিয়ে বলেন, শান্তি আলোচনার জন্য আপাতত কোনো বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা না থাকলেও কূটনীতি শেষ হয়ে যায়নি।

 

ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত ১৫টি দফার জবাবে ইরানের প্রতিক্রিয়া বুধবার রাতে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে পাঠানো হয়েছে। তেহরান এর উত্তরের অপেক্ষায় রয়েছে।

 

ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত নিরসনে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার হলেও, এখনও স্পষ্ট অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবে সফলতার ন্যূনতম শর্তের ঘাটতি রয়েছে এবং এটি মূলত ওয়াশিংটন ও ইসরায়েলের স্বার্থকেই প্রাধান্য দিচ্ছে।

 
 

 

তিনি বলেন, যদি ওয়াশিংটনে বাস্তববাদী অবস্থান প্রাধান্য পায়, তাহলে সংকট সমাধানের জন্য এখনো একটি পথ খুঁজে পাওয়া সম্ভব।

 

এর আগে বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানকে সতর্ক করে বলেন, সংঘাতের অবসান ঘটাতে হলে আলোচনায় ‘আন্তরিক’ হতে হবে। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান একটি চুক্তির জন্য ‘ভিক্ষা করছে’।

 

এদিকে সূত্রের বরাতে তাসনিম জানিয়েছে, ইরান তার জবাবে স্পষ্ট করে দিয়েছে, শত্রু পক্ষের (যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল) ‘আগ্রাসী ও গুপ্তহত্যার’ কর্মকাণ্ড অবশ্যই বন্ধ করতে হবে এবং ভবিষ্যতে যাতে আর কোনো যুদ্ধ হবে না, তা নিশ্চিত করার জন্য সুনির্দিষ্ট শর্ত প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

 

এছাড়াও যুদ্ধকালীন ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত এবং সুস্পষ্টভাবে নির্ধারণ করার দাবি করেছে তেহরান। একই সঙ্গে এই অঞ্চলের চলমান (লেবাননে) সব যুদ্ধ বন্ধ এবং ইরান সমর্থিত সব প্রতিরোধ গোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

 

সূত্রটি আরও জানায়, হরমুজ প্রণালির উপর ইরানের সার্বভৌমত্ব একটি স্বাভাবিক ও আইনগত অধিকার এবং তা অব্যাহত থাকবে বলে অবশ্যই আইনি স্বীকৃতি দিতে হবে। এছাড়াও গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলার মাধ্যমে যুদ্ধ শুরুর কয়েক দিন আগে জেনেভায় অনুষ্ঠিত আলোচনায় ইরান যেসব দাবি জানিয়েছিল, বর্তমান সব শর্তের সঙ্গে সেগুলোও যুক্ত হবে।

 

ইরানের কাছে এটা স্পষ্ট যে, আলোচনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দাবিটি নিছক ‘প্রতারণার’ অংশ। আলোচনার আড়ালে তাদের বেশ কয়েকটি লক্ষ্য রয়েছে, এর মধ্যে প্রথমটি হলো যুদ্ধের অবসানের মাধ্যমে নিজেদের শান্তিপূর্ণ ভাবমূর্তি তুলে ধরে বিশ্বকে প্রতারিত করা। দ্বিতীয়ত, বিশ্বব্যাপী তেলের দাম কম রাখা। তৃতীয়ত, স্থল আক্রমণের মাধ্যমে দক্ষিণ ইরানে একটি নতুন সামরিক প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য কালক্ষেপণ করা।

 

সূত্রটি ব্যাখ্যা করেছে, ২০২৫ সালের জুনের ১২ দিনের যুদ্ধ এবং চলমান যুদ্ধ, উভয় সময়েই যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার ছলেই যুদ্ধ শুরু করেছিল। এবারও তারা আলোচনার মিথ্যা অজুহাতে নতুন অপরাধের পথ প্রশস্ত করতে চাইছে।