গাজীপুরে এবারই প্রথম আন্দোলন-বিক্ষোভ ছাড়াই প্রায় শতভাগ কারখানায় বেতন-বোনাস হয়েছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবারের মধ্যে শতভাগ কারখানায় বেতন-বোনাস সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছে শিল্প পুলিশ। বেতন-বোনাস পেয়ে ঈদ করতে হাসিমুখে গ্রামে ফিরছেন শ্রমিকরা।
গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের পুলিশ সুপার মো. আমজাদ হোসেন জানান, মঙ্গলবার পর্যন্ত দুই হাজার ৮৩৪টি পোশাক কারখানার মধ্যে দুই হাজার ৭৯০টির বেতন এবং দুই হাজার ৮১৬ কারখানার বোনাস পরিশোধ করা হয়েছে।
৪৪টি কারখানার বেতন এবং ১৮টি কারখানায় বোনাস আজ বুধবার এবং আগামীকাল বৃহস্পতিবারের মধ্যে পরিশোধ করা হবে বলে জানিয়েছেন কারখানা কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার আরো কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বেতন পরিশাধ করার মধ্য দিয়ে শতভাগ কারখানায় বেতন প্রদান নিশ্চিত হবে আশা করা হচ্ছে। মঙ্গলবার পর্যন্ত ৯৯ ভাগ কারখানায় বোনাস প্রদান করা হয়েছে।
শিল্প পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অন্য বছরের মতো যানজট পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবারও গাজীপুরে কারখানাগুলো ধাপে ধাপে ছুটি দেওয়া এবং তা মনিটরিং করা হচ্ছে। ১৬ মার্চ ৬২টি, ১৭ মার্চ ৪৪৪টি, ১৮ মার্চ এক হাজার ৪১৪টি এবং ১৯ মার্চ ৮৩৩টি কারখানা ছুটি দেওয়া হবে। ধাপে ধাপে ছুটি দেওয়ায় একসঙ্গে যাত্রীদের চাপ না পড়ায় যানজট ও দুর্ভোগ কম হচ্ছে। শিপমেন্টের কারণে ঈদের ছুটিতেও ৮১টি কারখানা আংশিক খোলা থাকবে।
উল্লেখ্য, গাজীপুরে বিজিএমইএভুক্ত ৭৭০টি, বিকেএমইএভুক্ত ১৪৭টি, বিটিএমইএভুক্ত ১৩৬টি কারখানা রয়েছে। এ ছাড়া সাব-কন্ট্রাক্টে কাজ করে এক হাজার ৭৮১টি কারখানা। এর বাইরে গাজীপুরে সিরামিক, ওষুধ, জুতা, চকলেট, খাদ্য, পোলট্রি, হ্যাচারি, শিশুখাদ্য, মাছের খাদ্য, চামড়া, লৌহ, অ্যালুমিনিয়াম, ভোজ্যতেল, রিসোর্ট, পিকনিক স্পট, পার্ক, ক্যাবল, টিভি-ফ্রিজ, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ইত্যাদি শিল্পে ৩৫ লাখের বেশি শ্রমিক কাজ করে।