Image description

বিবিসি বাংলার ‘মাহদী হাসানের সঙ্গে দিল্লিতে ঠিক কী হয়েছিল’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদকে মিথ্যা ও এক কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ দাবি করে মামলা করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলার সাবেক সদস্য সচিব আহমেদ রেজা হাসান মাহদীর (মাহদী হাসান)।

 

গত সোমবার (১৬ মার্চ) ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত মামলাটি গ্রহণ করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

 

মামলায় বিবিসি বাংলার সাংবাদিক মীর সাব্বির, কাদির কল্লোল, রাকিব হাসনাত ও তোয়াহা ফারুকের নাম উল্লেখ করেন মাহদী।

 

মামলার প্রাথমিক শুনানি শেষে আদালত কলাবাগান থানাকে মামলাটি এফআইআর (ফার্স্ট ইনফরমেশন রিপোর্ট) হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে বিষয়টি অধিকতর তদন্তের জন্য পিবিআইকে দায়িত্ব দেন।

 

মামলার বিবরণে মাহদী অভিযোগ করে বলেন, ‘গত ২১ ফেব্রুয়ারি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বাংলায় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে মাহদী হাসানের বিরুদ্ধে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর তথ্য প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে তার কাছে বিপুল পরিমাণ ক্রিপ্টোকারেন্সি থাকার দাবি করা হয়, যা বাদীর মতে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।’

 

মাহদীর অভিযোগ, ‘ওই প্রতিবেদনে তার ব্যক্তিগত সুনাম ও সামাজিক মর্যাদা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে হেয় প্রতিপন্ন করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যাওয়ার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ভারতে অবস্থানকালে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনাকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করেছে বিবিসি বাংলা।’

 

এ ঘটনায় মাহদীর পক্ষে গত ৮ মার্চ সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবীর মাধ্যমে বিবিসি বাংলার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়। নোটিশে প্রতিবেদনটি প্রত্যাহার, প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ এবং এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিবিসি বাংলা কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় মাহদী ঢাকা সিএমএম আদালতে মামলা করেন।

 

একই দিনে সাইবার ট্রাইব্যুনালে আরেকটি মামলার আবেদন করেছেন মাহদী হাসান। বিবিসি বাংলার প্রকাশিত সংবাদটি অনলাইনের বিভিন্ন মাধ্যমে শেয়ার হওয়ায় সাইবার আইনে এ মামলা করা হয়।

 

এর আগে গত ৮ মার্চ মাহদী তার বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদকে মিথ্যা দাবি করে এবং সংবাদ প্রত্যাহার, প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ ও এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করে আইনি নোটিশ দিয়েছিলেন বিবিসি বাংলাকে। একই সঙ্গে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন প্রত্যাহার ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আলটিমেটাম দিয়েছিলেন তিনি।

 

তবে জানতে চাইলে মাহদী এশিয়া পোস্টকে জানিয়েছেন, নোটিশের পরিপ্রেক্ষিতে বিবিসি বাংলা কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

 

গত ১৬ মার্চ মাহদী উচ্চশিক্ষার জন্য ফিনল্যান্ডের স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন করতে দিল্লিতে যান। পরদিন ১৭ ফেব্রুয়ারি তার ভিসার কাগজপত্র জমা দিতে ভারতের ভিএসএফ সেন্টারে যান। এ সময় অজ্ঞাত একজন তার ইমিগ্রেশনে অবস্থানকালীন দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। পরে মাহদী লাইভে এসে বিষয়টি জানান।

 

এ ঘটনায় গত ২১ ফেব্রুয়ারি বিবিসি বাংলা ‘মাহদী হাসানের সঙ্গে দিল্লিতে ঠিক কী হয়েছিল’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘মাহদী হাসান পর্তুগালের ভিসা আবেদন করতে যান। মাহদী প্রায় ৪০ লাখ টাকার বেশি পরিমাণ অর্থের ক্রিপ্টোকারেন্সি নিয়ে ভারতে গিয়েছিলেন। ভারতে গিয়ে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির শিকার হয়ে তিনি দেশে ফিরে এসেছেন।’