ইসরায়েলি বাহিনী ইরানের গোয়েন্দামন্ত্রী এসমাইল খাতিবকে হত্যা করেছে বলে বুধবার দাবি করেছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ। তিনি জানান, কোনো উচ্চপদস্থ ইরানি কর্মকর্তাকে লক্ষ্যবস্তু করলে অতিরিক্ত অনুমতি ছাড়াই তাকে হত্যা করার অনুমতি সামরিক বাহিনীকে দেওয়া হয়েছে।
এক বিবৃতিতে কাৎজ বলেন, ‘গত রাতে ইরানের গোয়েন্দামন্ত্রী খাতিবকেও নির্মূল করা হয়েছে।’
খাতিবের হত্যাকাণ্ড ঘটে এমন সময়, যখন এর আগে ইসরায়েল ইরানের শক্তিশালী নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানি এবং বাসিজ আধাসামরিক বাহিনীর প্রধান গোলামরেজা সোলেইমানিকেও হত্যা করেছে।
গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের সম্পর্কে তথ্যের জন্য এক কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা করে, যার মধ্যে খাতিবও ছিলেন।
কাৎজ বলেন, ‘ইরানে হামলার তীব্রতা এখন আরো এক ধাপ বাড়ছে। আমরা একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছি।’
তিনি জানান, তিনি এবং প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সামরিক বাহিনীকে এমন অনুমতি দিয়েছেন যে, ‘যে কোনো শীর্ষ ইরানি কর্মকর্তা—যার বিষয়ে গোয়েন্দা ও অপারেশনাল প্রস্তুতি সম্পন্ন—তাকে অতিরিক্ত অনুমতি ছাড়াই লক্ষ্যবস্তু করা যাবে।
তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের সবাইকে প্রতিহত করা এবং খুঁজে বের করার অভিযান অব্যাহত রাখব।’
তিনি আরো যোগ করেন, ‘আজকের দিনেও সব ক্ষেত্রেই বড় ধরনের চমক দেখা যেতে পারে, যা ইরান ও লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে আমাদের যুদ্ধকে নতুন মাত্রায় নিয়ে যাবে।’
খাতিবের হত্যার ঘোষণা দিয়ে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বলেছে, সাম্প্রতিক ইরানজুড়ে বিক্ষোভে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন, যেখানে বিক্ষোভকারীদের গ্রেপ্তার ও হত্যার পাশাপাশি সরকারের গোয়েন্দা মূল্যায়ন গঠনে তিনি সক্রিয় ছিলেন।
তারা আরো দাবি করে, ‘ইসরায়েল রাষ্ট্রকে লক্ষ্য করে কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি খাতিব বিশ্বজুড়ে ইসরায়েলি ও মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে গোয়েন্দা মন্ত্রণালয়ের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের নেতৃত্ব দিয়েছেন,’ যার মধ্যে চলমান যুদ্ধকালীন কার্যক্রমও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।