ঈদ এলেই নাড়ির টানে বাড়ি ফিরে ঢাকাবাসী। এ সময় সড়ক, রেল, নৌপথের পাশাপাশি আকাশপথেও বাড়ে মানুষের চাপ। সড়ক পথের ভোগান্তি এড়াতে এবারো অনেকে স্বস্তির যাত্রা হিসেবে আকাশপথকেও বেছে নিয়েছেন।
অনেকে মাসখানেক আগেই টিকিট কেটে রেখেছেন। দেশের আকাশপথে চারটি এয়ারলাইন্স কয়েকটি গন্তব্য ফ্লাইট পরিচালনা করে। এরই মধ্যে অধিকাংশ এয়ারলাইন্স ঈদযাত্রার প্রায় শতভাগ টিকিট বিক্রি শেষ করেছে। ১৭ই মার্চ থেকে আগামী ২৮শে মার্চ পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটগুলোতে তেমন আসন ফাঁকা নেই। অধিকাংশ যাত্রীই যাওয়া-আসার টিকিট কেটে রেখেছেন। এয়ারলাইন্স সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এবারের ঈদযাত্রায় নীলফামারীর সৈয়দপুর, যশোর ও রাজশাহীর টিকিটের চাহিদা বেশি। চট্টগ্রাম ও সিলেটেও স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় টিকিটের চাহিদা কিছুটা বেড়েছে। তবে যাত্রী কম থাকায় ঈদের আগে ফ্লাইট কমেছে কক্সবাজার রুটে। যদিও ঈদের পর টানা এক সপ্তাহ কক্সবাজারে টিকিটের চাহিদা কয়েক গুণ বেড়েছে।
দেশের আকাপথে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী উড়োজাহাজ সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, ইউএস-বাংলা, নভোএয়ার ও এয়ার অ্যাস্ট্রা দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা করছে। এয়ারলাইন্সগুলো ঢাকার হযরত শাহ্জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট, সৈয়দপুর, রাজশাহী, যশোর, বরিশালে দিনে প্রায় সাত হাজার যাত্রী বহন করে। তবে জেট ফুয়েলের দাম বাড়ায় টিকিটের দাম ক্রমেই বাড়ছে। সরকার জেট ফুয়েলের দাম কমালে ফ্লাইটে যাতায়াত আরও জনপ্রিয় হবে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স অভ্যন্তরীণ রুটের চট্টগ্রাম, সিলেট, কক্সবাজার, যশোর, সৈয়দপুর, বরিশাল ও রাজশাহী গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা করছে। আগামী ২১শে মার্চ ঈদ ধরে যাত্রীদের সুবিধার্থে অভ্যন্তরীণ বেশ কিছু রুটে বিশেষ ফ্লাইট বাড়িয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। এর মধ্যে ঢাকা-রাজশাহী-ঢাকা, ঢাকা-সৈয়দপুর-ঢাকা রুটে বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করেছে। বিমানের ওয়েবসাইটে দেখা যায়, ঢাকা থেকে সৈয়দপুর, যশোর, রাজশাহী রুটে ঈদযাত্রার ছুটিতে ফ্লাইটগুলোতে আসন ফাঁকা নেই। কিছু ফ্লাইটে তিন-চারটি করে আসন ফাঁকা দেখা গেছে। অভ্যন্তরীণ সাত রুটে যাত্রী পরিবহন করছে ইউএস-বাংলা। আসন্ন ঈদুল ফিতরে নীলফামারীর সৈয়দপুর, যশোর ও রাজশাহীর টিকিটের চাহিদা বেশি। এ ছাড়া ঈদের পর টানা এক সপ্তাহ কক্সবাজারে টিকিটের চাহিদা কয়েক গুণ বেড়েছে বলে জানিয়েছে ইউএস-বাংলা। সংস্থাটি জানিয়েছে, রমজানের আগ থেকেই সৈয়দপুর, যশোর ও রাজশাহীর টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। ঈদের সপ্তাহখানেক আগেই সৈয়দপুর, যশোর ও রাজশাহীগামী সব ফ্লাইটের টিকিট বিক্রি প্রায় শেষ। আবার ঈদের পর কক্সবাজার ভ্রমণে যাত্রী চাহিদা বেড়েছে। এবার ঈদে নভোএয়ারেরও সৈয়দপুর, যশোর, রাজশাহীর টিকিটের চাহিদা বেশি। কয়েক মাস আগ থেকেই টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে ঈদযাত্রার আগের টিকিট বিক্রি প্রায় শেষ। এ ছাড়া বর্তমানে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, সিলেট এবং সৈয়দপুর রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করছে এয়ার অ্যাস্ট্রা। ঈদ উপলক্ষে প্রতিটি গন্তব্যেই যাত্রীর চাপ রয়েছে।
তবে মানুষ স্বস্তিতে ফিরলেও বিমানের ভাড়া নিয়ে অভিযোগ করছেন। যাত্রীরা অভিযোগ করছেন, ঈদ আসলেই স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বেশি ভাড়া গুনতে হয়। বাস, ট্রেন ও নৌপথে ভাড়া নিয়ে তদারকি থাকলেও আকাশপথে স্বাভাবিক সময়ে যে টিকিট ৪ হাজার টাকায় কেনা যায় ঈদ আসলে সেই টিকিটি সাত থেকে আট হাজার টাকায় কিনতে হয়। অনেক সময় আরও বেশি টাকা দিয়ে কিনতে হয়।