আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা শুরু হয়েছে। রেলপথে ঈদযাত্রার তৃতীয় দিনে রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে নির্বিঘ্নে নির্দিষ্ট শিডিউলে ছেড়ে গেছে ট্রেন। প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ উদ্যাপনের জন্য আগেভাগেই ঢাকা ছাড়ছেন লোকজন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আগে থেকেই বন্ধ হওয়ার কারণে বেশির ভাগ অভিভাবক আগেই পরিবার নিয়ে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। তৃতীয় দিন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো ভোগান্তিতে পড়তে হয়নি যাত্রীদের। রেলস্টেশনে মানুষের ভিড় আগের চেয়ে কিছুটা বেড়েছে।
কমলাপুর রেলস্টেশন কর্তৃপক্ষ বলছে, তৃতীয় দিন ভোর ৪টা ৪৫ মিনিটে ঢাকা থেকে বিভিন্ন রুটে ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। রোববার দুপুর পর্যন্ত কোনো ধরনের শিডিউল বিপর্যয় ঘটেনি। তবে চট্টগ্রামগামী চট্টলা এক্সপ্রেস দেরিতে ছেড়েছে। ট্রেনটি বেলা ২টা ১৫ মিনিটে যাত্রা করার কথা থাকলেও স্টেশন ত্যাগ করেছে বেলা ৩টার দিকে।
গতকাল কমলাপুর রেলস্টেশনে বিভিন্ন প্ল্যাটফরমে মানুষের ভিড় দেখা গেলেও যাত্রীদের অতিরিক্ত চাপ চোখে পড়েনি। সকাল থেকে অনেকটা সুশৃঙ্খল পরিবেশে নির্ধারিত সময়ে সবগুলো ট্রেন ছেড়ে যেতে দেখা গেছে। বিভিন্ন প্ল্যাটফরমে যাত্রীদের নির্দিষ্ট শিডিউলের অনেক আগেই উপস্থিত থাকতে দেখা গেছে। রেলস্টেশনের ভেতরেও যাত্রীদের অপেক্ষাগারে বিশ্রাম নিতে দেখা যায়। টিকিট না নিয়ে ট্রেনে চড়ার চেষ্টা করলে তাদের চেকিংয়ের মাধ্যমে প্রতিহত করা হচ্ছিল। তাদের কেউ কেউ ধরা পড়ে জরিমানা গুনছেন। টিকিট না নিয়ে কেউ উঠলে তাকে সর্বনিম্ন ৫০ টাকা থেকে বিভিন্ন অঙ্কে জরিমানা করা হচ্ছে।
যাত্রীরা বলছেন, যাত্রার ভোগান্তি এড়াতেই কিছুটা আগেভাগেই তারা ঢাকা ছাড়ছেন। রেল ভ্রমণে ঈদ মৌসুমে ভোগান্তির সঙ্গে পরিচিত সকলেই। অনেক জরুরি কাজ না থাকলে শেষ সময়ের জন্য অপেক্ষা করতে চান না তারা। এ ছাড়া, সময়মতো ট্রেন ছেড়ে যাওয়ায় তারা স্বস্তিও প্রকাশ করেছেন। স্টেশনের যাত্রীদের অপেক্ষাগারে বসেছিলেন যাত্রী মহিউদ্দিন। চট্টগ্রামগামী চট্টলা এক্সপ্রেসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন তিনি। যাবেন কক্সবাজার। মহিউদ্দিন বলেন, অনেকটা সময় হাতে নিয়ে এসেছি স্টেশনে। রাস্তায় যানজট থাকে, তাই আগে আসাই ভালো। গতকাল শুনেছি ট্রেন সময়মতো ছেড়েছে, আজও দেখলাম ছেড়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, টিকিটের এত পরিমাণ সংকট যে কক্সবাজারের সরাসরি টিকিট পাইনি। তাই চট্টগ্রাম থেকে নতুন করে গাড়িতে উঠতে হবে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে।
প্ল্যাটফরম ৯-এ জয়ন্তিকা এক্সপ্রেসের যাত্রী সালেহীনের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, বাচ্চাদের স্কুল ছুটি হয়েছে আরও আগেই। কিন্তু টিকিট পাওয়া আর সময় ম্যানেজ করা দুটোই কঠিন। আমার স্ত্রী আর সন্তানদের ট্রেনে তুলে দিতে আসলাম। সালেহীন বলেন, কয়েক দফায় চেকিং করে এরপর প্ল্যাটফরমে ঢুুকতে হয়েছে। কিছুটা সময়সাপেক্ষ হলেও এটা ভালো হয়েছে। জামালপুর কমিউটারের যাত্রী মাহিন বলেন, আমি আমার বাবাকে রেখে আমি, আমার ছোট ভাই ও আমার আম্মু আগে গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছি। ছোট ভাই ও আমার স্কুল-কলেজ বন্ধ রয়েছে তাই আমরা একটু আগেই চলে যাচ্ছি। বাবার অফিস ছুটি হবে ২৭ রমজানে, তিনি তখন আসবেন। ট্রেন ছাড়ার আগ পর্যন্ত এখনো বলার মতো কোনো ভোগান্তি পাইনি।
সার্বিক বিষয় জানিয়ে কমলাপুর রেলস্টেশনে স্টেশন ম্যানেজার মো. সাজেদুল ইসলাম মানবজমিনকে বলেন, রোববার স্টেশন থেকে ৩৯টি ট্রেন ছেড়ে যাবে। এখন পর্যন্ত যতগুলো ট্রেন ছেড়ে গেছে কোনো ট্রেনেরই সিডিউল বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটেনি। কোনো চাপও নেই যাত্রীদের।
ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সব আন্তঃনগর ট্রেনের সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল:
ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের ট্রেনযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সারা দেশের সব আন্তঃনগর ট্রেনের সাপ্তাহিক বন্ধ বাতিল করা হয়েছে। সম্প্রতি রেলভবনে অনুষ্ঠিত এক সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সভায় জানানো হয়, ১৬ই মার্চ থেকে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত সব আন্তঃনগর ট্রেনের সাপ্তাহিক বন্ধের দিন প্রত্যাহার করা হলো।
সভার সিদ্ধান্তক্রমে, বিনা টিকিটের যাত্রী প্রতিরোধে ঢাকা, বিমানবন্দর, জয়দেবপুর, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, সিলেট, রাজশাহী ও খুলনাসহ বড় স্টেশনগুলোতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। জিআরপি, আরএনবি, বিজিবি, র্যাব ও স্থানীয় পুলিশের সহযোগিতায় টিকিটবিহীন যাত্রীদের স্টেশনে প্রবেশ ঠেকাতে সার্বক্ষণিক প্রহরার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
ঢাকাগামী ৯টি ট্রেন বিমানবন্দর স্টেশনে থামবে না:
ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় এড়াতে ঢাকাগামী ৯টি ট্রেনের বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রাবিরতি বাতিল করেছে রেলওয়ে। সোমবার থেকে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত ঢাকাগামী একতা এক্সপ্রেস, দ্রুতযান এক্সপ্রেস, পঞ্চগড় এক্সপ্রেস, নীলসাগর এক্সপ্রেস, কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস, লালমনি এক্সপ্রেস, রংপুর এক্সপ্রেস, চিলাহাটি এক্সপ্রেস ও বুড়িমারী এক্সপ্রেস- এই ট্রেনগুলোর ঢাকা বিমানবন্দর স্টেশনে যাত্রাবিরতি থাকবে না। একইসঙ্গে বিমানবন্দর স্টেশন থেকে ঢাকাগামী এবং ঢাকা স্টেশন থেকে বিমানবন্দরগামী কোনো আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট দেয়া হবে না। সুন্দরবন এক্সপ্রেস, মধুমতি এক্সপ্রেস, বেনাপোল এক্সপ্রেস, জাহানাবাদ এক্সপ্রেস, রূপসী বাংলা এক্সপ্রেস ও নকশীকাঁথা কমিউটার ট্রেন ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনের শহরতলী প্ল্যাটফরম থেকে যাত্রা শুরু করবে।