Image description

পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন বলেছেন, এই সংবিধান রক্ষার শপথ আমরা নিয়েছি। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির আদেশ একটি আইন এবং এটি মানতেই হবে।

রোববার (১৫ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

বক্তৃতার শুরুতে নাজিবুর রহমান মোমেন বলেন, ১৯৯১ সালে ১১–১২ বছর বয়সে তিনি সংসদের গ্যালারি থেকে সংসদ সদস্যদের বক্তব্য শুনেছেন। আজ তিনি নিজেই সংসদে বক্তব্য রাখছেন—এটি তার জন্য একটি স্মরণীয় মুহূর্ত। দ্বিতীয় প্রজন্মের সংসদ সদস্য হিসেবে তার অনেক স্মৃতি মনে পড়ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য জানান, অতীতে সংসদে তার বাবা মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীসহ সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী, দেলোয়ার হোসেন সাঈদী, আবদুল্লাহ আল নোমান ও সাদেক হোসেন খোকা বক্তব্য রাখতেন। ইউটিউব বা ফেসবুকে এখনো তাদের অনেক বক্তব্যের ভিডিও পাওয়া যায়। তিনি বলেন, তারা আজ আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু তাদের সন্তান হিসেবে আমরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে এই সংসদে এসেছি।

নাজিবুর রহমান মোমেন বলেন, দ্বিতীয় প্রজন্মের সংসদ সদস্যদের একটি মিল রয়েছে—তারা সবাই ফ্যাসিবাদী শাসনের নির্যাতনের কঠিন সময় পার করে সংসদে এসেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে এক কাপড়ে বাড়ি ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছিল এবং তার পরিবারের ওপর নানা মামলা ও নির্যাতন চালানো হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, তার বাবা মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, দেলোয়ার হোসেন সাঈদী ও সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীসহ অনেকেই ‘মিথ্যা মামলার মাধ্যমে বিচারিক হত্যাকাণ্ডের’ শিকার হয়েছেন। অনেককে গুম করা হয়েছে, আবার অনেককে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য বলেন, একসময় দেশে অবিচারকে বিচার এবং অনিয়মকে নিয়ম হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। আদালতের ওপর প্রভাব বিস্তার করে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হয়েছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, সেই ফ্যাসিবাদ অপসারণ এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য একটি বিপ্লব অনিবার্য হয়ে পড়েছিল। ২৪ জুলাই ছাত্র-জনতা বুকের তাজা রক্ত ঢেলে এ দেশ থেকে ফ্যাসিবাদকে উৎখাত করেছে।

জুলাই সনদের প্রসঙ্গ টেনে পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য বলেন, সংস্কারের প্রশ্নে প্রায় ৭০ শতাংশ জনগণ ভোট দিয়েছে। কিন্তু এখন এই সনদ বাস্তবায়ন কীভাবে হবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

রাষ্ট্রপতির আদেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংবিধানের ১৫২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আইন বলতে আইন, অধ্যাদেশ ও আদেশ—সবই বোঝায়। সে অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির আদেশও আইন হিসেবে গণ্য হবে।

রিপ্রেজেন্টেশন অব দ্য পিপল অর্ডার (আরপিও) ১৯৭২-ও একটি রাষ্ট্রপতির আদেশ—উল্লেখ করে নাজিবুর রহমান মোমেন বলেন, বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতির আদেশ নতুন কিছু নয়। ১৯৭১ ও ১৯৭২ সালে ১৫৫টির বেশি রাষ্ট্রপতির আদেশ জারি হয়েছিল, যেগুলো এখনো বলবৎ রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আইন অনুযায়ী ৩০ দিনের মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের কথা থাকলেও তা এখনো হয়নি।

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য বলেন, সংসদ চাইলেই সংবিধানের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তন করতে পারে না। অষ্টম সংশোধনী বাতিলের মামলার রায়ের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সেখানে সুপ্রিম কোর্ট সংসদের ক্ষমতার সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিচার বিভাগের বিকেন্দ্রীকরণের বিষয়টি যেমন অষ্টম সংশোধনীর আলোচনায় ছিল, তেমনি সেটি জুলাই সনদ ও সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশেও এসেছে।

শেষে পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য বলেন, জুলাই সনদের বিষয়ে সব রাজনৈতিক দল একমত হয়ে স্বাক্ষর করলেও এর বাস্তবায়ন নিয়ে এখন ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। জুলাইয়ের গণআন্দোলনের মাধ্যমে জনগণের যে রায় এসেছে, তা বাস্তবায়নের জন্য সময় বের করতেই হবে। আমরা যদি সত্যিই জুলাই সনদ ও গণরায়কে সম্মান করি, তাহলে এর বাস্তবায়নের জন্য সময় বের করতেই হবে।