সাভারের হেমায়েতপুরে ৫ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে সশস্ত্র হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। হামলার সময় সন্ত্রাসীদের দা’র কোপে ব্যবসায়ীর ছেলে ও ভাই গুরুতর আহত হয়েছে। পরে জখম অবস্থায় তাদেরকে উদ্ধার করে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। রবিবার দুপুরে সাভার উপজেলার হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্তরা হলেন- হেমায়েতপুর এলাকার মৃত শাহজাহান বেপারীর ছেলে এবং তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি মেহেদী হাসান (৩৮), মৃত বুদ্দু মিয়ার ছেলে মো. লিটন মিয়া (৫২) ও মো. নবী (৫০), তার ছেলে মো. দিপু (২৬), যাদুরচর এলাকার দিলুর ছেলে সাইফুলসহ (৩০) অজ্ঞাতনামা ১৫/২০ জন।
লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, রবিবার দুপুরে সাভারের তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে দিপু, সাইফুল, নবী ও লিটনসহ অজ্ঞাতনামা আরো ১৫ থেকে ২০ জন সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মামলত খানের বাড়িতে ঢুকে তাণ্ডব চালায়। এসময় হামলাকারীরা মামলত খানকে না পেয়ে তার ১৩ বছর বয়সী ছেলে নেওয়াজ খানের মাথায় ধারালো দা দিয়ে কোপ দিলে সে গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। তার চিৎকার শুনে মামলত খানের ছোট ভাই হৃদয় (৩২) এগিয়ে আসলে তাকেও দা দিয়ে কুপিয়ে এবং লোহার রড ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে জখম করে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চলে যায়।
সন্ত্রাসী হামলায় আহতদের উদ্ধার করে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় ডিম ব্যাবসায়ী মামলত খান সাভার মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. মামলত খান অভিযোগ করেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিজের বাসার সামনে ‘হেমায়েতপুর এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি দোকান দিয়ে পাইকারি ডিমের ব্যবসা করে আসছেন। স্থানীয় বিএনপি নেতা মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে একটি চাঁদাবাজ চক্র বেশ কিছুদিন ধরে তার কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল।
হামলার বিষয়ে অভিযুক্ত বিএনপি নেতার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
সাভার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) আরমান আলী জানান, লিখিত অভিযোগটি পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।