নোয়াখালীর সেনবাগে মায়ের গায়ে হাত তোলা এবং খাবার না দেওয়ার মতো অপরাধের শাস্তিস্বরূপ এক যুবককে গলায় কলস ঝুলিয়ে পুরো বাজার ঘোরানো হয়েছে। আধুনিক বিচারব্যবস্থার বাইরে গিয়ে স্থানীয়দের দেওয়া এই ‘সামাজিক বিচার’ এখন এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চাঞ্চল্য ও কৌতূহল তৈরি করেছে।
রোববার (১৫ মার্চ) সকালে উপজেলার ছাতারপাইয়া ইউনিয়ন পরিষদের সামনে মোহাম্মদ সহিদ নামে এক যুবককে এই শাস্তি দেওয়া হয়। ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান এ শাস্তি দেন। পেশায় দিনমজুর মোহাম্মদ সহিদ ওই ইউনিয়নের চিলাদি গ্রামের বাসিন্দা।
জানা গেছে, মোহাম্মদ সহিদ ঘরে ছাগলের মাংস রান্না করেন, কিন্তু বৃদ্ধ মাকে খেতে দেননি। উল্টো মা যখন খাবারের আকুতি জানান, তখন তাকে মারধর করেন সহিদ। বিষয়টি নিয়ে তার মা অভিযোগ দিলে গতকাল শনিবার (১৪ মার্চ) রাতে তাকে চৌকিদার দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে আনা হয়। পরে আজ সকালে এ শাস্তি দেওয়া হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, মোহাম্মদ সহিদের গলায় একটি কলস ঝুলিয়ে রাখা হয়। এরপর সে কলেসে পানি ভরে পুরো বাজার প্রদক্ষিণ করানো হয়। এ সময় ওই যুবককে দিয়ে উচ্চস্বরে বলানো হয়, ‘এই শাস্তি কিসের লাই? মারে মারার লাইগা।’
ভিডিওতে দেখা যায়, ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান উপস্থিত জনতাকে উদ্দেশ করে বলছেন, ‘কোনো লোক যদি মাকে ভাত না দেয় বা মারধর করে, তবে তাকে পুলিশে দেওয়ার দরকার নেই। আমরা এখানেই বিচার করব। এই লোক এখন গোটা বাজারে হাঁটবে আর চিৎকার করে নিজের অপরাধ স্বীকার করবে।’
স্থানীয়রা জানান, জেলহাজতের চেয়ে এই সামাজিক লজ্জা অনেক বেশি কার্যকর। তারা মনে করেন, এই দৃশ্য দেখে সমাজের অন্য অবাধ্য সন্তানরা সতর্ক হবে এবং বৃদ্ধ বাবা-মায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে শিখবে।