Image description

ভারতে ধর্মীয় স্বাধীনতা খর্ব ও লঙ্ঘনের দায়ে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ বা আরএসএস-এর ওপর সুনির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা আরোপের সুপারিশ করেছে মার্কিন একটি প্যানেল। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে পেশ করা ২০২৬ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে এই সুপারিশ করেছে ‘ইউনাইটেড স্টেটস কমিশন অন ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডম’ (ইউএসসিআইআরএফ)।

কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় আরএসএস-এর সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা এবং সংগঠনটির সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, আরএসএস ভারতের ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-এর আদর্শিক অভিভাবক সংগঠন হিসেবে পরিচিত। খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই সংগঠনে জীবনের একটি বড় সময় কাটিয়েছেন। তিনি তরুণ বয়স থেকেই এই সংগঠনের একনিষ্ঠ কর্মী ছিলেন।

ইউএসসিআইআরএফ তাদের প্রতিবেদনে ভারতকে টানা সপ্তমবারের মতো ‘কান্ট্রি অব পার্টিকুলার কনসার্ন’ বা বিশেষ উদ্বেগজনক দেশ হিসেবে তালিকাভুক্ত করার সুপারিশ করেছে। এই তালিকায় ভারত ছাড়াও চীন, পাকিস্তান, উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়ার মতো ১৮টি দেশের নাম রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে ভারতে ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিস্থিতি আরও অবনতি হয়েছে এবং সরকার ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের লক্ষ্য করে বৈষম্যমূলক আইন প্রয়োগ করছে।

কমিশন তাদের পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, আরএসএস এবং বিজেপির মধ্যকার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নাগরিকত্ব (সিএএ), ধর্মান্তর বিরোধী এবং গরু জবাই বিরোধী আইনের মতো বিভিন্ন বৈষম্যমূলক আইন তৈরি ও প্রয়োগে ভূমিকা রাখছে। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, উমর খালিদ ও শারজিল ইমামের মতো অধিকার কর্মীরা পাঁচ বছর ধরে বিনা বিচারে কারাগারে বন্দী রয়েছেন।

ভারত সরকার এখনো এই সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে ২০২৫ সালের মার্চ মাসে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইউএসসিআইআরএফ-এর মূল্যায়নকে ‘পক্ষপাতদুষ্ট এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছিল।

মার্কিন এই কমিশনটি একটি স্বাধীন সরকারি সংস্থা যা বিশ্বজুড়ে ধর্মীয় স্বাধীনতা পর্যবেক্ষণ করে হোয়াইট হাউসের কাছে নীতিগত পরামর্শ দেয়। যদিও তাদের এই সুপারিশগুলো মানতে ট্রাম্প প্রশাসন বাধ্য নয়। তবে এটি আন্তর্জাতিক মহলে ভারতের ভাবমূর্তির ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা।

সূত্র: স্ক্রল ডট ইন