সদ্য সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খানের পৈতৃক বাড়ির সামনে প্রভাব খাটিয়ে রাস্তা নির্মাণ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি দখল করে সাবেক উপদেষ্টার ব্যক্তিগত সুবিধার্থে রাস্তাটি নির্মাণ করা হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার ষোলঘর ইউনিয়নের ভূইয়া পাড়া এলাকায় রাস্তাটি নির্মাণকাজ শুরু হয় গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে। শেষ হয় একই বছরের ডিসেম্বরে। উপদেষ্টার বাড়ির সামনে নির্মিত রাস্তাটি মূল রাস্তার সঙ্গে সংযুক্ত।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপজেলা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রকল্প অনুযায়ী রাস্তার দৈর্ঘ্য প্রায় ৩০০ মিটার এবং প্রস্থ ১২ ফুট নির্ধারণ করা হয়। পরে আরও ৪ ফুট বাড়িয়ে ১৬ ফুট করা হয়। প্রথমে প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ প্রকল্পের দরপত্র আহ্বান করা হয়। পরে ১০ শতাংশ কম মূল্যে ৯০ লাখ টাকায় কাজটি পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওরিয়া কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার।
স্থানীয়রা জানান, রাস্তা নির্মাণ করার জন্য জমিটি খাস দেখানো হয়। তবে এটি ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি। রাস্তা নির্মাণের সময় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো আপত্তি জানালেও গুরুত্ব পায়নি। জমি অধিগ্রহণ বা ক্ষতিপূরণ ছাড়াই রাস্তার কাজ করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, আগে থেকেই চলাচলের রাস্তা ছিল। নতুন করে এই রাস্তা নির্মাণের তেমন জনস্বার্থ নেই। একজন প্রভাবশালীর ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য করা হয়েছে।
জানা গেছে, এখানে ২০০৪ সালের দিকে রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তখন স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বাধা দেন। জমিটি সরকারের পক্ষে নিতে ২০০৭ সালে জেলা প্রশাসন মামলা করে। ২০১৮ সালে স্থানীয় ওই বাসিন্দাদের পক্ষে নিম্ন আদালত রায় দেন। ২০২৪ সালে আদিলুর রহমান উপদেষ্টা হওয়ার পর রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করে জেলা প্রশাসন। হাইকোর্ট নিম্ন আদালতের রায় খারিজ করে দেন। ব্যক্তি দখলে থাকা ১২ শতাংশ জমি খাস খতিয়ানভুক্ত করেন হাইকোর্ট। অবশিষ্ট ১২ শতাংশের দলিল যাচাইয়ের নির্দেশ দেন।
এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক (ডিসি) সৈয়দা নুরমহল আশরাফী গণমাধ্যমকে জানান, ওই জমিতে খাস খতিয়ানভুক্তের একটি সাইনবোর্ড দেওয়া হয়েছিল। পরে আদালতে স্থিতাবস্থা আছে জানার পর সাইনবোর্ড সরিয়ে নেওয়া হয়। সড়কটি ১২ ফুট হওয়ার কথা। কতটুকু বেশি করা হয়েছে—খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জানতে চাইলে নির্মাণকাজের ঠিকাদার ওরিয়া কনস্ট্রাকশনের কর্ণধার সাইফুর রহমান বলেন, প্রকল্প অনুযায়ী রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। চলাচলের সুবিধা বিবেচনায় নিয়ে রাস্তার প্রস্থ বাড়ানো হয়।
শ্রীনগর উপজেলা প্রকৌশলী মো. মহিফুল ইসলাম বলেন, শুধু ওই বাড়ির সামনের রাস্তা নয়, সংযোগ রাস্তাটিও সংকীর্ণ ছিল। সেটিও প্রশস্ত করা হয়েছে, যাতে এলাকাবাসী স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করতে পারেন।
অভিযোগের বিষয়ে সাবেক উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খানের বক্তব্য জানতে চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তার কাছ থেকে সাড়া পাওয়া যায়নি।