Image description

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মোজতবা খামেনির নির্বাচনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়েছে উত্তর কোরিয়া। একই সঙ্গে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ‘বেআইনি সামরিক হামলা’র তীব্র নিন্দা জানিয়েছে দেশটি।

বুধবার (১১ মার্চ) কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) এক প্রতিবেদনে জানায়, উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মোজতবা খামেনিকে নির্বাচনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন।

মুখপাত্রের বরাতে কেসিএনএ জানায়, প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচনের সিদ্ধান্তকে পিয়ংইয়ং সম্মান করে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় আলি খামেনি নিহত হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

ইরানের বিশেষজ্ঞ পরিষদ নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের ঘোষণা দেওয়ার প্রসঙ্গে মুখপাত্র বলেন, ‘ইরানি জনগণের সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের অধিকার ও সিদ্ধান্তকে আমরা সম্মান করি।’

এ সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানে হামলার তীব্র নিন্দা জানান। মুখপাত্র বলেন, ‘ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বেআইনি সামরিক আক্রমণ আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তার ভিত্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে অস্থিতিশীলতা বাড়াচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, একটি দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থা ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা ক্ষুণ্ন করার এমন হামলা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য এবং বিশ্ব সম্প্রদায়ের উচিত এর নিন্দা ও প্রত্যাখ্যান করা।

প্রায় ১২ দিন আগে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর উত্তর কোরিয়া মধ্যপ্রাচ্যে তাদের আচরণকে ‘গুন্ডাদের মতো’ বলে অভিহিত করে নিন্দা জানিয়েছিল।

এদিকে একই দিন কেসিএনএ জানায়, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন দেশের সর্বশেষ ও বৃহত্তম নৌ ধ্বংসকারী যুদ্ধজাহাজ ‘চো হিওন’ থেকে কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের আরেকটি পরীক্ষা পর্যবেক্ষণ করেছেন।

সংবাদ সংস্থাটি জানায়, এ সময় কিম জং উন ‘একটি শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য পারমাণবিক প্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখা এবং তা সম্প্রসারণের’ কৌশলগত গুরুত্ব তুলে ধরেন।

চো হিওন থেকে এই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ছিল ওই ডেস্ট্রয়ার থেকে দ্বিতীয় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা, যার তত্ত্বাবধান করেছেন কিম। গত সপ্তাহে তিনি দেশের নৌবাহিনীকে পারমাণবিক অস্ত্রে সজ্জিত করার উদ্যোগের প্রশংসা করেন।

দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্র উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করার চেষ্টা চালিয়ে আসছে। তবে পিয়ংইয়ংয়ের ওপর এ প্রচেষ্টার প্রভাব খুব কমই পড়েছে। উত্তর কোরিয়ার দাবি, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার হুমকি প্রতিরোধ করতেই তাদের এ ধরনের অস্ত্র প্রয়োজন।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা পুনরুজ্জীবিত করার আগ্রহের ইঙ্গিত দিয়েছে। অন্যদিকে কিম জং উন সম্প্রতি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি উত্তর কোরিয়াকে পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়, তবে দুই দেশ ‘একসঙ্গে এগিয়ে যেতে’ পারে।