Image description

অস্ট্রেলিয়ায় এশিয়ান কাপ চলাকালে ইরানের নারী ফুটবল দলের পাঁচ খেলোয়াড় রাজনৈতিক আশ্রয় নেওয়ার ঘটনায় সৃষ্টি হওয়া উত্তেজনার মধ্যে এবার মুখ খুলেছে ইরান সরকার। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রধান প্রসিকিউটরের কার্যালয় জানিয়েছে, খেলোয়াড়রা যদি দেশে ফেরেন, তবে তাদের ‘খোলা মনে’ ও ‘পূর্ণ আত্মবিশ্বাসের’ সঙ্গে স্বাগত জানানো হবে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে ফুটবলারদের উদ্দেশে লিখেছেন, ‘ইরানের নারী ফুটবল দলের প্রতি আহ্বান, দুশ্চিন্তা করবেন না। ইরান আপনাদের জন্য খোলা হাত নিয়ে অপেক্ষা করছে।

একই ধরনের বার্তা এসেছে দেশটির প্রধান প্রসিকিউটরের কার্যালয় থেকেও। ইরানি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, প্রসিকিউটরের দপ্তর খেলোয়াড়দের ‘শান্তি ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে’ জন্মভূমিতে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছে। 

তবে ওই বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়েছে, ‘শত্রুপক্ষের ষড়যন্ত্র ও প্ররোচনায় পড়ে আবেগের বশে দলের কিছু সদস্য এমন আচরণ করেছেন, যা আমেরিকান-জায়োনিস্ট যুদ্ধবাজ নেতাদের সুযোগ করে দিয়েছে।’

গত ৩ মার্চ দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের আগে জাতীয় সংগীতের সময় নীরব থেকে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন ইরানি ফুটবলাররা।

যদিও পরবর্তী ম্যাচগুলোতে তারা সংগীত গেয়েছিলেন, তবু দেশে ফিরলে তাদের কী পরিণতি হতে পারে—তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়।

এই পরিস্থিতিতে অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক অধিনায়ক জহরা ঘানবারি, ফাতেমেহ পাসান্দিদেহ, জহরা সারবালি, মোনা হামৌদি ও আতেফেহ রামাজানিজাদেকে মানবিক ভিসা দেন। পরে তাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।

এদিকে, এই ইস্যুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্য নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরানে ফিরে গেলে এই খেলোয়াড়রা ‘খুন হতে পারেন’। অস্ট্রেলিয়া আশ্রয় না দিলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের গ্রহণ করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তবে ট্রাম্পের এই ‘রক্ষাকর্তা’ সুলভ অবস্থানকে তীব্রভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন ইরানের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। তিনি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের মিনাব শহরে একটি বালিকা বিদ্যালয়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রসঙ্গ টেনে আনেন, যেখানে ১৬৫ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছিল।

বাঘাইয়ের দাবি, ওই হামলায় মার্কিন টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে, যা ইরান বা ইসরায়েলের কাছে নেই।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘যারা ১৬৫ জন নিষ্পাপ স্কুলছাত্রীকে হত্যা করেছে, তারা এখন আমাদের অ্যাথলিটদের বাঁচানোর নামে জিম্মি করতে চায় কেন?’

অস্ট্রেলীয় কর্মকর্তাদের বরাতে বিবিসি জানিয়েছে, মানবিক ভিসা পাওয়া পাঁচ খেলোয়াড়কে বর্তমানে পুলিশি পাহারায় একটি গোপন স্থানে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে দলের বাকি সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরান ফুটবল ফেডারেশন ও দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।

গোল্ড কোস্টের একটি হোটেল থেকে পুলিশি পাহারায় খেলোয়াড়দের পেছনের দরজা দিয়ে সরিয়ে নেওয়ার খবরও পাওয়া গেছে। সর্বশেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, ইরানের নারী ফুটবল দলের আরও দুই সদস্য অস্ট্রেলিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়েছিলেন। অস্ট্রেলিয়া সরকার তাদের আবেদন গ্রহণ করলেও তাদের মধ্যে একজন শেষ মুহূর্তে ইরানে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সবমিলিয়ে ইরানি নারী ফুটবল দলকে ঘিরে নাটকীয় পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।