Image description

ইসরায়েলের আকাশ জুড়ে আগুনের গোলা। ইরান থেকে রাতভর ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রে রীতিমতো আতঙ্কিত ইরায়েলিরা। জর্ডানের রাজধানী আম্মান থেকে আলজাজিরার প্রতিনিধি রোরি চ্যালান্ডাস বলেন, যা দেখছি, তা শুধু খবর নয়— একটি ভঙ্ককর রাতের সরাসরি সাক্ষী।

আলজাজিরার এই সাংবাদিক বলেন, জর্ডান ভৌগোলিকভাবে খুবই সংবেদনশীল জায়গায় অবস্থিত। এটি একদিকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের গতিপথে, অন্যদিকে ইসরায়েলের সাথেই এর সীমান্ত। তাই আম্মানে বসেও দূর-দূরান্ত থেকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বিকট শব্দ শোনা যাচ্ছে। এই শব্দ যতবার কানে আসছে, ততবারই মনে হচ্ছে সংঘাত কতটা কাছাকাছি।

ইসরায়েলে গত রাতের চিত্রটা এমন— সাইরেন বাজছে, আর মানুষেরা দৌড়াচ্ছে। মধ্য ইসরায়েল থেকে উত্তরাঞ্চল পর্যন্ত একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে ইরান।

ইরানের উদ্দেশ্য স্পষ্ট— ইসরায়েলিদের এক মুহূর্তের জন্যও স্বস্তি না দেওয়া। প্রতিবার সাইরেন বাজার সঙ্গে সঙ্গেই তাদের দৌড়ে নিরাপদ কক্ষ বা বাংকারে যেতে হচ্ছে।

ইরানের এই কৌশল ইসরায়েলের সাধারণ মানুষের জীবনকে কঠিন করে তুলছে। ঘুম, কাজ, স্বাভাবিক জীবনযাপন— সবকিছু থমকে গেছে ক্ষেপণাস্ত্রের ভয়ে।

যদিও ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করছে, এ পর্যন্ত ছোড়া সব কয়টি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা হয়েছে অথবা খোলা জায়গায় পড়েছে। তারা এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর দেয়নি।

কিন্তু প্রশ্ন হলো— আসলেই কী কোনো ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে না, নাকি তা লুকানো হচ্ছে?

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী সাংবাদিকদের ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বস্ত স্থানে যেতে দিচ্ছে না। সাধারণ মানুষকেও মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া থেকে বিরত রাখা হচ্ছে। ফলে ঠিক কোন জায়গায় আঘাত লেগেছে, আদৌ কোনো জায়গায় আঘাত লেগেছে কি না তা নিশ্চিত করে জানা যাচ্ছে না।

এই তথ্য নিয়ন্ত্রণের কারণে প্রকৃত চিত্র উঠে আসছে না। ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাচ্ছে না।

এই হামলার প্রভাব শুধু ইসরায়েল বা জর্ডানে সীমাবদ্ধ নেই। উপসাগরীয় দেশগুলোতেও বাড়তি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সৌদি আরব, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। ইরানের পক্ষ থেকে আরও ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে, ইসরায়েলের বিভিন্ন শহর এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলোতে নতুন করে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের বিরুদ্ধে হামলার ৩৭তম দফা অভিযান চালিয়েছে।

ইরানের বার্তা সংস্থা ফার্সে প্রকাশিত এক বিবৃতির বরাতে আলজাজিরা জানায়, তিন ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে টানা ও বহুস্তরীয় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। এতে ব্যবহার করা হয়েছে ‘সুপার-হেভি’ খোররামশহর ক্ষেপণাস্ত্র।

বিবৃতিতে বলা হয়, ইসরায়েলের তেল আবিবের দক্ষিণে অবস্থিত হায়েলা স্যাটেলাইট যোগাযোগ কেন্দ্রকে দ্বিতীয়বারের মতো লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এ ছাড়া সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে বির ইয়াকুব, পশ্চিম জেরুজালেম ও হাইফায়।

ইরান আরও দাবি করেছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোকেও লক্ষ্য করা হয়েছে। এরমধ্যে ইরাকের ইবরিলের মার্কিন ঘাঁটি ও বাহরাইনের মানামাতে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদরদপ্তরেও হামলা চালানো হয়েছে।

আইআরজিসি বলেছে, তাদের সশস্ত্র বাহিনী থেকে এসব স্থাপনায় ভারী হামলা চালানো হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইরানের লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের হামলা অব্যাহত থাকবে। এই যুদ্ধে আমরা কেবল শত্রুর পূর্ণ আত্মসমর্পণের কথাই ভাবছি।