Image description

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে ভারতের অবস্থান কী—এ প্রসঙ্গে সংসদের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় আজ সোমবার বক্তৃতা দিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। ‘ভারত শান্তির পক্ষে’— এই মর্মে বার্তা দেন তিনি।

 

এদিন বক্তৃতার সময় তিনি জানান, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট, কাতারের আমির, সৌদি আরবের যুবরাজ, কুয়েতের যুবরাজ, বাহরাইনের রাজা, ওমানের সুলতান, জর্ডানের রাজা এবং ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথা বলেছেন।

তারা সবাই ওই সব দেশে অবস্থানকারী ভারতীয় নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করবেন বলে কথা দিয়েছেন বলে জানান জয়শঙ্কর।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, ইরানেও কয়েক হাজার ভারতীয় নাগরিক আটকে রয়েছেন। কিন্তু এই মুহূর্তে ইরানের রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সমস্যাজনক বলেও জানিয়েছেন তিনি।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির অবনতির সঙ্গে বন্ধ হয়ে গেছে হরমুজ প্রণালিও। এর ফলে ভারতে জ্বালানিসংকটের আশঙ্কা করছেন সাধারণ মানুষ। এ বিষয়ে নিশ্চিন্ত থাকার আবেদন জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেছেন, সাধারণ মানুষের সুবিধাই সরকারের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার বলে বিবেচিত হচ্ছে। এমনকি কূটনৈতিকভাবে আমেরিকার সঙ্গেও কথাবার্তা চালাচ্ছে ভারত।

জয়শঙ্করের ভাষ্য, ভারত মনে করে কূটনৈতিক যোগাযোগের মধ্য দিয়েই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। এছাড়া ওই সব দেশে অবস্থানকারী ভারতীয়দের নিরাপত্তা এবং জ্বালানি ও বাণিজ্যের সুরক্ষা সুনিশ্চিত করাকেও ভারত সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিচ্ছে।

এরপর সংসদের নিম্নকক্ষ লোকসভায় বক্তৃতা দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সেখানে তিনি জানান, ইরানে অবস্থানকারী ভারতীয়দের আর্মেনিয়া হয়ে ফিরিয়ে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

ইরানে ভারতের দূতাবাস এই লক্ষ্যে কাজ করছে এবং ইরানও জানিয়েছে তারা সব রকম সহায়তা করতে প্রস্তুত।

ভারতীয় নাগরিকদের উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে ফিরয়ে আনার জন্য তাদের নিরাপদ বর্ডার ক্রসিংয়ের মাধ্যমে সচল বিমানবন্দরগুলোতে নিয়ে আসা হচ্ছে। যখন যে এয়ারস্পেস খুলেছে, সেই স্পেসের মাধ্যমে ভারতীয়দের ফিরিয়ে নিয়ে আসার কাজ চলছে। সূত্র: বিবিসি বাংলা