খাদ্য বিভাগ অনেক আগে থেকেই দুর্নীতির আখড়া হিসেবে পরিচিত। তবে বিগত সময়ে বিশেষ করে আওয়ামী লীগ আমলের শেষের দুই মন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম এবং সাধন চন্দ্র মজুমদারের দুর্নীতি-লুটপাট অতীতের সকল রেকর্ড ছাড়িয়ে যায়। খাদ্যমন্ত্রী হিসেবে পদ-পদায়নে সবচেয়ে প্রকাশ্যে ঘুষ লেনদেন শুরু করেছিলেন অ্যাডভোকেট কামরুল। ওসি এলএসডি, এসএমও, ম্যানেজার, ডিসি ফুড, আরসি ফুড প্রভৃতি আকর্ষণীয় পদগুলোর পদায়নে অনেকটা প্রকাশ্যেই নিলাম হতো। এই ধারা অব্যাহত ছিল সাধন চন্দ্র মজুমদারের আমলেও। প্রতিটি পদ ১৫-২০ লাখ থেকে কোটি টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতো। নিয়মনীতির কোনো তোয়াক্কা করতেন না এই মন্ত্রীরা। নীতিমালা তৈরি করা হলেও সেই নীতিমালা এরাই লঙ্ঘন করতেন অহরহ। বেশি টাকা দিতে পারতো যে কর্মকর্তা তাকেই পদায়ন করা হতো। মন্ত্রীদের এ রকমের লাগামহীন ঘুষ বাণিজ্যের কারণে মাঠ পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও ব্যাপকহারে দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়তেন। এভাবেই খাদ্য অধিদপ্তরে দুর্নীতি বিস্তারলাভ করেছিল বিগত সময়গুলোতে। সাবেক এই দুই খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র এবং অ্যাডভোকেট কামরুল অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে যৌথবাহিনীর হাতে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে দিন কাটাচ্ছেন। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের আমলের উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার দুর্নীতিতে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট মন্ত্রী কামরুল-সাধনকেও ছাড়িয়ে গেছেন, বলছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।
শুধু উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদারই নয়, অন্তর্বর্তী সরকারের খাদ্য সচিব মাসুদুল হাসানও দুর্নীতিতে অতীর্তে রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছেন। আলী ইমাম মজুমদার খাদ্য মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে যোগ দেন ১০ নভেম্বর, ২০২৪। মো. মাসুদুল হাসান খাদ্য সচিব পদে যোগ দিয়েছেন এর এক মাস আগে ২ অক্টোবর, ২০২৪। উভয়ে এ মন্ত্রণালয়ে যোগ দিয়েই শুরুতে আখের গোছানোর কাজে নেমে পড়েন। খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদারের ছেলে টিপুও ব্যাপকহারে তদবির বাণিজ্য ও ঘুষ-দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছিলেন। খাদ্য মন্ত্রণালয় এবং অধিদপ্তরে টিপু ছিলেন আলোচিত একটি নাম। খাদ্য অধিদপ্তরের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের প্রায় সবার কাছেই আছে টিপুর ফোন নম্বর। অন্তর্বর্তী সরকারের শুরুতে টিপু গুলশানে একটি তদবির বাণিজ্যের অফিসও খুলে বসেন। এ নিয়ে গণমাধ্যমে লেখালেখি হওয়ায় টিপু পরিবর্তীতে অফিসের স্থান পরিবর্তন করেন।
আওয়ামী মন্ত্রী সাধন-কামরুলের সহযোগীদের প্রায় প্রত্যেককেই বহাল-তবিয়তেই রেখেছেন উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে। এটা স্বাভাবিক ছিল যে, আওয়ামী আমলের মন্ত্রীদের সহযোগী এবং দুর্নীতিবাজ বলে চিহ্নিত কর্মকর্তারা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে তাৎক্ষণিকভাবে অন্যত্র শাস্তিমূলক বদলি হবেন। কিন্তু উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার তা করেননি। শুধু তাই নয়, আওয়ামী আমলের সেই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের আবার নতুন করে প্রাইজ পোস্টিংও দেয়া হয়েছে। এর কোনো কোনোটির সঙ্গে সচিব মাসুদুল হাসানও সরাসরি জড়িত ছিলেন। খাদ্য অধিদপ্তরের আকর্ষণীয় পদগুলোর প্রত্যেকটি পদায়নেই অঘোষিতভাবে নিলামে তোলা হতো। অ্যাডভোকেট কামরুলের আমল থেকে এই প্রথা চালু হয়েছে। যে কর্মকর্তা সবচেয়ে বেশি ঘুষ দিতে পারতো তাকেই পদায়ন করা হতো। মন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক বা তারও দীর্ঘকাল আগে থেকেই খাদ্য বিভাগে ঘুষ-দুর্নীতির প্রচলন ছিল, তবে এতটা প্রকাশ্যে নয়।
অ্যাডভোকেট কামরুল যা কিছু করতেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রে নিজেই দরকষাকষি করে ঘুষের অংক বাড়িয়ে নিতেন। এমনও দেখা গেছে যে, কোনো নির্দিষ্ট পদের জন্য অ্যাডভোকেট কামরুল কাউকে পদায়ন দেবেন বলে অগ্রিম টাকা নিয়েছেন। কিন্তু অন্য কেউ আবার সেই পদের জন্য বেশি টাকা দিলে তাকেই পদায়ন করেছেন। ঘুষ লেনদেনে তিনি এতটা প্রকাশ্য ও সাহসী ছিলেন যে, কার কাছ থেকে কত নিতেন অন্যদের তা বলে দিতেন- যাতে প্রতিযোগিতা আরো বাড়ে। সাধন চন্দ্র মজুমদারের আমলে আবার এক হাতে নয়, তিন-চার হাতে বদলি বাণিজ্য চলতো। সরাসরি তিনি নিজে ছাড়াও মেঝো মেয়ের জামাই, ছোট মেয়ে এবং নিজের ভাই-ভাতিজার মাধ্যমে এ তদবিরগুলো চলতো।
মন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার এবং আগের মন্ত্রী কামরুল উভয়েই বিভিন্ন কাজকর্মে মাত্র কয়েকজন খাদ্য পরিদর্শকের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। মন্ত্রী এদের কথাই বেশি গুরুত্ব দিতেন। যে কারণে সবচেয়ে জুনিয়র পর্যায়ের পদ হলেও ফুড ইন্সপেক্টররাই ছিলেন ওই সময়গুলোতে অত্যন্ত প্রভাবশালী। এরা হলেন সেলিম, কর্নেল, উত্তম, মাসুদ, জাহাঙ্গীর, দেলোয়ার, বিউটন চক্রবর্তী, মৌসুমী। দেলোয়ার পরবর্তীতে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক পদে পদোন্নতি পেয়েছেন। বর্তমানে দিনাজপুর খাদ্য গুদামের ব্যবস্থাপক পদে আছেন। পদোন্নতির পর পরই ব্যবস্থাপক পদে পদায়নের কোনো সুযোগ নেই। তারপরও তিনি পদায়ন পেয়েছেন মন্ত্রী সাধন চন্দ্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা, ছাত্রলীগ-আওয়ামী লীগের ব্যানার আর মোটা অংকের ঘুষ লেনদেনের সুবাদে।
খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের মতে, এই ফুড ইন্সপেক্টরদের মধ্যে অ্যাডভোকেট কামরুল এবং সাধন চন্দ্র উভয়েরই পছন্দের তালিকায় এক নম্বরে ছিলেন খন্দকার সেলিম হোসেন। তিনি বর্তমানে সাভার এলএসডি’র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পদে আছেন। অধিদপ্তরের অধীন ওসি এলএসডি পদসমুহের মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় হলো, সাভার এলএসডি। এর কারণ হলো, এখানে রেশনিং কার্যক্রম বেশি। রেশনিং মানেই অবৈধ অর্থ আয়ের সুযোগ। দুই মন্ত্রীরই প্রিয়ভাজন হওয়ার কারণ হলো, বেশি আয় করে দেওয়া অর্থাৎ ঘুষের রেট বেশি দেওয়া। এ কথা প্রচারিত আছে যে, আকর্ষণীয় পদায়ন পেতে সেলিম হোসেনের চেয়ে বেশি ঘুষ অন্য কেউ দিতে পারেন না। যে কারণ মন্ত্রীরা নানা কৌশলে তাকে বরাবর আকর্ষণীয় পদায়নেই রাখতেন। খন্দকার সেলিম হোসেন এর আগে ছিলেন জয়দেবপুর এলএসডিতে। খাদ্য অধিদপ্তরের অধীন সারাদেশে যত এলএসডি আছে তারমধ্যে গুরুত্ব ও আকর্ষণীয় পদায়নের দিক দিয়ে প্রথম হলো সাভার এবং তারপরেই রয়েছে জয়দেবপুর। নীতিমালা অনুযায়ী সর্বোচ্চ দুই বছর পর্যন্ত এসব পদায়নে থাকার সুযোগ আছে। কিন্তু মন্ত্রী সাধন চন্দ্র তাকে প্রায় সাড়ে তিন বছর পর্যন্ত ওই পদায়নে রেখেছিলেন। তারপরে কিছুদিনের জন্য তেজগাঁও কেন্দ্রীয় খাদ্য গুদামে সংযুক্তি রাখেন। যেহেতু একটি আকর্ষণীয় পদায়ন থেকে আরেকটি আকর্ষণীয় পদায়নে সরাসরি দেয়া সম্ভব নয় তাই এটি করেন মন্ত্রী। এ সময় তেজগাঁওয়ের ঊর্ধতন কর্মকর্তাকে মন্ত্রী বলেন, তার দিকে খেয়াল রেখো। তার যেন কোনো অসুবিধা না হয়। কিছুদিন পরে তাকে অন্যত্র নিয়ে যাবো। এ রকমের অভিযোগ রয়েছে যে, সেলিম হোসেন এককালীন ৭০ লাখ টাকায় সাভারে এই পদায়ন নিয়েছেন। এছাড়া প্রায় নিয়মিতই তিনি মন্ত্রীর বাসায় যেতেন। সুদূর জয়দেবপুর থেকে সন্ধ্যার পরে প্রায় প্রতিদিনই মন্ত্রীর বাসায় আসতেন। মন্ত্রী বিছানায় গেলে তাঁর মশারীও নিজের হাতে লাগিয়ে দিতেন, বাসার কর্মচারীদের ধরতে না দিয়ে।
এককালীন পদায়নের অর্থ ছাড়াও প্রতি মাসেই একটা নির্ধারিত অংকের টাকা দিতেন তিনি। দুই বছরের অতিরিক্ত চাকরি করাকালে প্রতি মাসেই মন্ত্রীকে তিন লাখ টাকা করে দিতেন। আগের সময়গুলোতেও মাসিক হারে টাকা দিয়েছেন, তবে অংকটা ছিল এরচেয়ে কম। সাভারে পদায়নের পর অর্থপ্রদান এবং যাতায়াতের মাত্রা আরো বেড়ে গিয়েছিল। অনেক ক্ষেত্রে মন্ত্রীর পরামর্শকের ভূমিকাও পালন করতেন তিনি। আগের মন্ত্রী কামরুলেরও অবৈধ আয়ের বিষয়ে পরামর্শকের ভূমিকা পালন করতেন এই খন্দকার সেলিম হোসেন। শুধু এখনই যে তিনি সাভারে পদায়ন পেয়েছেন তাই নয়, আগের মন্ত্রী কামরুলও তাকে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে সাভারে ওসি এলএসডি পদে পদায়ন দিয়েছিলেন। সেখান থেকে জয়দেবপুরে এবং এখন আবার সাভারে। সরকারের নিয়ম অনুযায়ী একই পদে দুই দফায় পদায়নের কোনো সুযোগ না থাকলেও সেলিম হোসেনের বড় অংকের ঘুষের লোভে মন্ত্রী সাধন চন্দ্র এই অপকর্মটি করেছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, সেলিম হোসেন ওই সময় সাভারে পদায়ন পেয়েছিলেন মন্ত্রী কামরুলকে এককালীন ৫০ লাখ টাকা দিয়ে। এরপরে সাধন চন্দ্রকে ৪০ লাখ টাকা দিয়ে জয়দেবপুরে পোস্টিং নেন। ইতিমধ্যেই উল্লেখ করা হয়েছে, মন্ত্রী কামরুল এবং সাধন চন্দ্র এমন পরিস্থিতি তৈরি করে গেছেন যে, খাদ্য অধিদপ্তরের অধীন কোন আকর্ষণীয় পদ কত টাকায় বিক্রি হচ্ছে সেটা অনেকটা ওপেন সিক্রেট হয়ে গিয়েছিল। কারণ, এসব পদায়নে সিনিয়রিটি, যোগ্যতা, সততা প্রভৃতির কোনো মাপকাঠি ছিল না। যে বেশি টাকা দিতো সে-ই পদায়ন পেতো।
সূত্রমতে, খাদ্য অধিদপ্তরের ফুড ইন্সপেক্টরদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অর্থের মালিক বর্তমানে খন্দকার সেলিম হোসেন। কিন্তু তাকে দেখলে মনে হবে, তিনি অত্যন্ত সহজ-সরল এবং দরিদ্র প্রকৃতির। কোথাও তার কিছু নেই। তবে পট পরিবর্তনের পর সাবেক ছাত্রলীগ নেতা দাবিদার এই খাদ্য কর্মকর্তা অনেকটাই বেকায়দায় পড়ে যান। দুর্নীতি ও মন্ত্রীর প্রভাব খাটিয়ে অবৈধভাবে পদায়ন নেয়ার দায়ে তাকে অন্তর্বর্তী সরকারের শুরুতে পদ থেকে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত হয়েছিল। তারমধ্যেই সচিব পদে পরিবর্তন হওয়ায় তিনি অনেকটা হাঁফ ছেড়ে বাঁচেন। শীর্ষ দুর্নীতিবাজ সচিব মাসুদুল হাসান এবং উপদেষ্টা আলী ইমামকে ম্যানেজ করেন মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে। তিনি এখনো সেখানে বহাল-তবিয়তেই আছেন।
গাজীপুর কালিগঞ্জের ওসি এলএসডি পদে ছিলেন জাহাঙ্গীর আলম। মন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদারকে বড় অংকের ঘুষ দিয়ে কালিগঞ্জের ওসি এলএসডি পদ বাগিয়ে নিয়েছিলেন তিনি। সেই জাহাঙ্গীর আলম অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে আরো আকর্ষণীয় পদ বাগিয়ে নেন। ৫ নভেম্বর, ২০২৪ তাকে দেয়া হয়েছে গাজীপুর সদরের জয়দেবপুর এলএসডির ওসি পদে। জয়দেবপুর এলএসডি-কে সারাদেশের প্রায় ১২শ’ এলএসডির মধ্যে গুরুত্বের দিক থেকে দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে। সাভারের পরেই এর স্থান। জয়দেবপুর এলএসডির ওসি পদে পদায়নের ঘুষের রেট সাধারণত ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত। সরাসরি সচিব মাসুদুল হাসানের নির্দেশে এই পদায়নটি হয় বলে জানা যায়।
খাদ্য অধিদপ্তরের অত্যন্ত আলোচিত একজন দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা এস এম কায়ছার আলী। চট্টগ্রামের আরসি ফুড পদে তাঁর দুই বছর পূর্ণ হয়েছে গত বছরের মার্চ মাসে। খাদ্য বিভাগের বদলি-পদায়নের নীতিমালা অনুযায়ী দুই বছর পূর্ণ হওয়ায় তখনই তাকে অন্যত্র বদলি করার কথা। কিন্তু বড় অংকের ঘুষের বিনিময়ে তিনি সেই পদেই বহাল থেকে যান। বেপরোয়া দুর্নীতিবাজ এই কর্মকর্তার দুর্নীতি-অপকর্ম হাতেনাতে ধরা পড়ার পর অবশেষে ১৭ আগস্ট, ২০২৫ মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে কায়ছার আলীকে খুলনার আরসি ফুড পদে বদলি করা হয়। এতে কায়ছার আলী অত্যন্ত বেপরোয়া হয়ে উঠেন। তিনি চট্টগ্রাম ছেড়ে যেতে রাজি নন। মন্ত্রণালয়কে ম্যানেজ করতে অর্থ সংগ্রহের জন্য ব্যাপকহারে বদলি বাণিজ্যে নেমে পড়েন। ওই সময় দুই দিনে মাঠ পর্যায়ের প্রায় অর্ধশত কর্মকর্তাকে তিনি বদলি ও পদায়ন করেন। সংগ্রহ করেন দুই কোটি টাকারও বেশি। এই টাকা তিনি মন্ত্রণালয়ে উপদেষ্টা এবং সচিবকে দেন বলে চাউর আছে। মন্ত্রণালয় এবং চট্টগ্রাম অঞ্চলের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এটাই জানেন। বদলি হওয়ার মাত্র দুই দিনের মাথায় সেই বদলির আদেশ বাতিল করেন মন্ত্রণালয়েরই একই কর্মকর্তা, উপসচিব জয়নাল মোল্লা। দুই কোটি টাকার বিনিময়ে বদলির আদেশটি বাতিল হয়। এই কায়ছার আলী ছিলেন আওয়ামী ফ্যাসিস্ট লুটেরা মন্ত্রী সাধন-কামরুল উভয়েরই অত্যন্ত প্রিয়ভাজন। এবং তাদের অবৈধ অর্থ আয়েরও অন্যতম একটি উৎস ছিলেন তিনি। অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার এবং সচিব মাসুদুল হাসানেরও প্রিয়ভাজন ছিলেন একই কারণে!
উল্লেখ্য, জামায়াতপন্থী কিন্তু পা থেকে মাথা পর্যন্ত দুর্নীতিবাজ বলে চিহ্নিত খাদ্য সচিব মাসুদুল হাসানের অবসর শুরু হয় গত ৩০ নভেম্বর থেকে। সেই হিসেবে তার পিআরএল ছুটির প্রজ্ঞাপন জারি হয় ২৭ নভেম্বর। কিন্তু খাদ্য অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয় কেন্দ্রীক সিন্ডিকেট টাকা বিনিয়োগ করে তাকে ৬ মাসের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাইয়ে দিতে বেশ কিছুদিন ধরে মাঠে থাকে। ছয় মাসের চুক্তির জন্য প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের বিশেষ মহলকে ১০ কোটি টাকা দিতে হবে। এই ১০ কোটি টাকা তোলার জন্য খাদ্য বিভাগে ঘুষ-দুর্নীতির হাট বসানো হয়। এই সিন্ডিকেটে ছিলেন তখনকার ডিজি হুমায়ুন কবীর, এডিজি জামাল হোসেন, পরিচালক তাজল ইসলাম ও মো. আব্দুস সালামসহ মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা। সচিব মাসুদুল হাসানের অবসরের সময় ঘনিয়ে আসায়, তিনি কোন কিছুতেই রাখঢাক রাখছিলেন না। ওই সময় তাঁর অনিয়ম-দুর্নীতি, অপকর্ম ভয়াবহভাবে বেড়ে যায়। কোন কিছুরই তোয়াক্কা করছিলেন না তিনি। খাদ্য বিভাগের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের পছন্দ এটাই। আর এ কারণেই তারা মাসুদুল হাসানকে সচিব পদে রাখতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছে। খাদ্য অধিদপ্তরের ওই ঘুষের হাটের প্রতি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদারেরও সরাসরি সমর্থন ছিল। কারণ, এ থেকে বড় অংকের ভাগটা তিনিও আদায় করে নিতে পেরেছেন। সচিবের অবসরের আগ পর্যন্ত প্রায় এক বছরের বেশি সময় ধরে উপদেষ্টা এবং সচিব উভয়েই যৌথ মিশনে লুটপাট চালিয়েছেন খাদ্য বিভাগে। ধান-চাল ক্রয়ে অনিয়ম, চাঁদাবাজি, বদলি-পদোন্নতি বাণিজ্য, জি টু জি বাণিজ্য, টেন্ডার বাণিজ্য, নিয়োগ অনিয়ম ও নির্মাণ খাতে দুর্নীতির মাধ্যমে উপদেষ্টা এবং সচিব বিপুল পরিমাণে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন।
শীর্ষনিউজ