Image description

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ শীর্ষ আরও বেশ কয়েকজন নেতা ও কমান্ডার নিহত হয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইরানে এই হামলা শুরুর নেপথ্যে আছে সৌদি আরব।

 

ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান গত মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে একাধিকবার ফোনে ইরানে হামলার জন্য চাপ দিয়েছিলেন, যদিও প্রকাশ্যে তিনি কূটনৈতিক আলোচনার পক্ষে ছিলেন।’

রোববার (১ মার্চ) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিভিন্ন মার্কিন কর্মকর্তা ও আঞ্চলিক সূত্রের বরাতে বলা হয় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু প্রকাশ্যে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার পক্ষে অবস্থান নেন এবং তা নিয়ে ধারাবাহিকভাবে চাপ সৃষ্টি করেন। তবে সৌদি আরবের ভূমিকা ছিল তুলনামূলকভাবে জটিল ও দ্বিমুখী।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান গত এক মাসে ব্যক্তিগতভাবে একাধিকবার ট্রাম্পকে ফোন করেন। প্রকাশ্যে কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিলেও, ব্যক্তিগত আলোচনায় তিনি হামলার পক্ষেই অবস্থান নেন।

 

রিয়াদ যখন আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানায়, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো হামলার ক্ষেত্রে সৌদি ভূখণ্ড ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হবে না। একই সময়ে সৌদি যুবরাজ মার্কিন কর্মকর্তাদের সতর্ক করে বলেন, ‘দ্রুত হামলা না হলে ইরান আরও শক্তিশালী ও বিপজ্জনক হয়ে উঠবে।’

 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার অ্যাক্সিওসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানান, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরুর পেছনে দুটি প্রধান কারণ ছিল। প্রথমত, জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পারমাণবিক আলোচনা ভেস্তে যাওয়া এবং দ্বিতীয়ত, জুনে ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ইরান পুনর্গঠন শুরু করেছে—এমন তথ্য।

 

ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানিরা চুক্তির খুব কাছে গিয়ে বারবার আবার সরে যাচ্ছিল। এতে আমি বুঝেছি, তারা আসলে কোনো চুক্তি চায় না।’

 

এ ছাড়া অভিযানের ঘোষণা দেওয়ার আগে ট্রাম্প তার টিমকে গত ২৫ বছরে বিশ্বজুড়ে ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব হামলার তালিকা প্রস্তুত করতে বলেন। তার দাবি, প্রায় প্রতি মাসেই ইরান কোনো না কোনো হামলা, বিস্ফোরণ বা হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিল।

 

ওয়াশিংটন পোস্ট বলেছে, সৌদি আরব মূলত নিজ দেশের তেল অবকাঠামোকে রক্ষা করতে চাইছিল। তারা তাদের তেল অবকাঠামোতে ইরানের সরাসরি হামলা এড়াতে চাইছিল। তাছাড়া, দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ ইরানকে নিয়ন্ত্রণে রাখার উপায়ও খুঁজছিল সৌদি আরব।
শিয়া অধ্যুষিত ইরান এবং সুন্নি-অধ্যুষিত সৌদি আরবের মধ্যে কয়েক দশক ধরে বৈরী সম্পর্ক চলে আসছে। এই সম্পর্কের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে ছায়াযুদ্ধ বেড়েছে।

 

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর তেহরান পাল্টা হামলা চালায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে, কাতারের দোহায় এবং সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে। এর মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্য এক নতুন সংঘাতে নিমজ্জিত হয়েছে।

 

এর প্রতিক্রিয়ায় রিয়াদ এক বিবৃতিতে এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ইরানের বিরুদ্ধে সব ধরনের প্রয়োজনীয় ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।