ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষ স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনকে হত্যার পরিকল্পনা, ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের থেকে টাকা গ্রহণ, অবৈধভাবে কোটি কোটি অর্জন করে নির্বাচনে খরচ ও নির্বাচনি এলাকায় অস্ত্রের মহড়াসহ বিভিন্ন অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলা বিএনপির বিলুপ্ত কমিটির নেতাকর্মীরা।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকালে উপজেলা সদরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলা বিএনপির সদ্য সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফকরুজ্জামান বাদল।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আবদুল আলিম তালুকদার, সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট খোরশেদ আলম, সাবেক সহ-সভাপতি মো. মোফাজ্জেল হোসেনসহ যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, কৃষক দল, শ্রমিক দল ও মহিলা দলের নেতাকর্মীরা।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতারা দাবি করেন, পটুয়াখালী-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন কেন্দ্র্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য হাসান মামুন। একই আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নেওয়া গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর বিএনপির আসন সমঝোতার প্রার্থী হওয়ার পর থেকেই বিএনপির নেতাকর্মীদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। ২০১৮ সালের কোটা বিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে তার উত্থান। সেই সময় সব বিরোধী দল এবং প্রবাসীরা তাকে অর্থায়ন করে। কোটা বাতিল আন্দোলন শেষ হলেও নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তান নুর চাকরির পরীক্ষা না দিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংস্থার থেকে অর্থ আয়ের ধান্ধায় নামেন।
লিখিত বক্তব্যে বিএনপি নেতা বলেন, ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সঙ্গে নুরের তিন দফা মিটিং হয় ও দেশ বিরোধী ষড়যন্ত্রের জন্য অবৈধ টাকা গ্রহণ করেন নুর। যা ফিলিস্তিনির রাষ্ট্রদূত ইতোমধ্যে জানিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতা দাবি করেন, নুরুল হক নুর ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে তদবির বাণিজ্য করে কোটি কোটি টাকা অবৈধভাবে অর্জন করেছেন। সেই টাকা তিনি নির্বাচনে ব্যয় করছেন এবং বিএনপির নেতাকর্মীদের কালো টাকার লোভ দেখিয়ে তার পক্ষে কাজ করার জন্য চাপ প্রয়োগ করছেন। ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থার টাকা ও নুরের অর্জিত অবৈধ কালো টাকার বিনিময়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা কাজ করার অস্বীকৃতি জানালে নুর বিএনপির নেতাদের রাজনীতিচ্যুত ও মামলা-হামলার হুমকি দিচ্ছেন। ইতোমধ্যে নুরের লোকজন গলাচিপা-দশমিনার ঘোড়া প্রতীকের অসংখ্য নির্বাচনি অফিসে ভাঙচুর ও হামলা চালিয়ে বহু লোকজনকে আহত করেছেন। সেসব ঘটনায় থানায় মামলাও হয়েছে।
ওই বিএনপি নেতা লিখিত বক্তব্যে আরও বলেন, নুরুল হক নুরের সন্ত্রাসী বাহিনী পটুয়াখালী-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও কেন্দ্র্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য হাসান মামুনের লোকজনের উপর হামলা করে উল্টো মিথ্যা অপবাদ ও অপপ্রচার চালাচ্ছেন হাসান মামুনের বিরুদ্ধে। এআই ব্যবহার করে হাসান মামুনের বিরুদ্ধে গুজব রটানো হচ্ছে। নুরু নির্বাচনি এলাকায় অবৈধ অস্ত্র ঢুকিয়ে বহিরাগত লোকজন দিয়ে রাত-বিরাতে অস্ত্রের মহড়া দিচ্ছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনের কর্মীদের বাড়ি-ঘরে হামলা ও লুটপাট করার জন্য অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
হাসান মামুনকে হত্যার পরিকল্পনা করা হচ্ছে দাবি করে শঙ্কার কথা জানান বিএনপি নেতা ফকরুজ্জামান বাদল।
এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।