ইরানে আংশিকভাবে ইন্টারনেট চালু হয়েছে। আজ থেকে দেশটিতে এ সেবা চালু হয়েছে বলে দাবি করেছে দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনী।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) নিজেদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে এক ঘোষণায় এ তথ্য জানিয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিবিসি জানিয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে বিভ্রাটের পর আনুষ্ঠানিকভাবে ইন্টারনেট সেবা পুনরায় চালুর ঘোষণা দিল ইরান সরকার। একই সঙ্গে বৈশ্বিক ইন্টারনেট পর্যবেক্ষণ সংস্থা নেটব্লকসও শনিবার সকালে ইরানে ইন্টারনেট ট্রাফিকে কিছুটা উন্নতির তথ্য নিশ্চিত করেছে।
নেটব্লকসের তথ্যমতে, ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট শুরুর ৩৬ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। সংস্থাটি জানায়, ২০০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা বড় ধরনের ব্যাঘাতের পর শনিবার সকালে ইন্টারনেট সংযোগে খুবই সামান্য বৃদ্ধি লক্ষ করা গেছে।
সংস্থাটি জানিয়েছে, বর্তমানে ইরানে সামগ্রিক ইন্টারনেট সংযোগ স্বাভাবিক অবস্থার চেয়ে মাত্র প্রায় ২ শতাংশে রয়েছে। কার্যকরভাবে ইন্টারনেট সেবা পুরোপুরি পুনরুদ্ধারের কোনো স্পষ্ট লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না।
এদিকে, ইন্টারনেট সেবার দীর্ঘস্থায়ী বিভ্রাটে সাধারণ মানুষ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং গণমাধ্যম চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছে। পরিস্থিতি কবে পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে ইরান সরকারের পক্ষ থেকে এখনো নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানানো হয়নি।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর রাজধানী তেহরানে বিক্ষোভ শুরু হয়। প্রথমে দোকানদার, ব্যবসায়ী ও ক্ষুদ্র ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত লোকজন ধর্মঘট ও বিক্ষোভে নামেন। তাদের অভিযোগ ছিল লাগামহীন মূল্যস্ফীতি, দেশটির মুদ্রা রিয়ালের ব্যাপক অবমূল্যায়ন এবং ক্রমাগত অবনতি হওয়া অর্থনৈতিক পরিস্থিতি। পরবর্তী সময়ে এই আন্দোলন তেহরান ছাড়িয়ে দেশের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে। এতে শ্রমিক, শিক্ষার্থীসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষ অংশ নিতে শুরু করেন। ধীরে ধীরে অর্থনৈতিক দাবির পাশাপাশি এই বিক্ষোভ সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়।
বিক্ষোভ দমনে গত ৭ জানুয়ারি থেকে ইন্টারনেট ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দেয় ইরান সরকার। একই সঙ্গে দেশজুড়ে পুলিশ, নিরাপত্তা বাহিনী ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়। জনগণ ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে সংঘর্ষে ইতোমধ্যে আড়াই হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এ ছাড়া গ্রেপ্তার হয়েছেন হাজার হাজার বিক্ষোভকারী।