পাকিস্তান ভারতের বিরুদ্ধে জম্মু ও কাশ্মীরের মসজিদ ও মসজিদ পরিচালনা কমিটিগুলোর ‘প্রোফাইলিং’ করার অভিযোগ এনে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। ইসলামাবাদ একে ধর্মীয় বিষয়ে ‘প্রকাশ্য হস্তক্ষেপ’ বলে আখ্যা দিয়েছে। খবর জিও টিভি।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, এই পদক্ষেপগুলো ওই ভূখণ্ডে মুসলিম জনগোষ্ঠীকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও এককোণে করে তোলার আরেকটি জবরদস্তিমূলক প্রচেষ্টার প্রতিফলন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘ধর্মীয় দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত তথ্য, ছবি এবং ধর্মীয় মতাদর্শগত পরিচয় জোরপূর্বক সংগ্রহ করা একটি পদ্ধতিগত হয়রানির শামিল। এর লক্ষ্য হলো উপাসকদের মধ্যে ভয় সৃষ্টি করা এবং তাদের ধর্ম পালনের স্বাধীনতায় বাধা দেওয়া।’
এই বিবৃতি এমন এক সময় এলো, যখন কয়েক দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ভারতে সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে।
‘ইন্ডিয়া হেট ল্যাব’ জানায়, ২০২৫ সালে ভারতে মুসলিম ও খ্রিষ্টানসহ সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে ঘৃণামূলক বক্তব্যের ঘটনা ১৩ শতাংশ বেড়েছে। এসব ঘটনার বেশিরভাগই ঘটেছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন হিন্দু জাতীয়তাবাদী ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) শাসিত রাজ্যগুলোতে।
শনিবারের বিবৃতিতে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ভারতের সাম্প্রতিক এই পদক্ষেপ দখলদার ভারতীয় সরকারের হিন্দুত্ববাদী আদর্শ দ্বারা পরিচালিত ‘প্রাতিষ্ঠানিক ইসলামবিদ্বেষের’ একটি বৃহত্তর ধারার অংশ।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘মসজিদ ও মুসলিম ধর্মীয় নেতাদের বেছে বেছে লক্ষ্যবস্তু করা এসব নীতির বৈষম্যমূলক ও সাম্প্রদায়িক চরিত্রকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।’
ইসলামাবাদ আরও জানায়, জম্মু-কাশ্মীরে জনগণের ভয়, জবরদস্তি বা বৈষম্য ছাড়া তাদের ধর্ম পালন করার অবিচ্ছেদ্য অধিকার রয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাশ্মীরি জনগণের সঙ্গে তাদের অবিচল সংহতি পুনর্ব্যক্ত করে জানায়, কাশ্মীরিদের বিরুদ্ধে সব ধরনের ধর্মীয় নিপীড়ন ও অসহিষ্ণুতার বিরুদ্ধে পাকিস্তান তাদের কণ্ঠস্বর তুলে যেতে থাকবে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা জানিয়েছে, ২০১৪ সালে মোদি ক্ষমতায় আসার পর থেকে ভারতে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন বেড়েছে।
এরপর থেকে ভারত সরকার বেশ কয়েকটি বিতর্কিত আইন প্রণয়ন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ধর্মভিত্তিক নাগরিকত্ব আইন, ধর্মান্তরবিরোধী আইন যা বিশ্বাসের স্বাধীনতাকে চ্যালেঞ্জ করে, ২০১৯ সালে মুসলিম-অধ্যুষিত আইআইওজেকে-র বিশেষ মর্যাদা বাতিল এবং মুসলিম মালিকানাধীন সম্পত্তি ভাঙচুর।
ঘৃণামূলক বক্তব্য ও বৈষম্যমূলক আচরণ শুধু মুসলিমদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। সাম্প্রতিক বড়দিন উদযাপনের সময়ও এর প্রমাণ পাওয়া গেছে।
গত বছরের ডিসেম্বর ভারতে বিভিন্ন স্থানে সহিংস জনতা বড়দিনের সাজসজ্জা ভাঙচুর করে। ছত্তিশগড়ে কাঠের লাঠিসোঁটা নিয়ে সজ্জিত একটি দল খ্রিষ্টান উৎসবের আগে বড়দিনের সাজসজ্জা ও স্থাপনাগুলোতে হামলা চালায়।
এ ধরনের আরেক ঘটনায় আসামের নলবাড়ি জেলায় বড়দিনের প্রস্তুতির সময় বিশ্ব হিন্দু পরিষদ-বজরং দল একটি স্কুল ভাঙচুর করে। চরম ডানপন্থী ওই সংগঠনের সদস্যরা উৎসবের সামগ্রীতে আগুন ধরিয়ে দেয় ও ক্ষতিগ্রস্ত করে। একই সঙ্গে তারা নলবাড়িতে বড়দিন উদযাপনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভও করে।