Image description
 

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করে ডেনমার্কের পাশে দাঁড়িয়েছে যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত এই দ্বীপটি নিয়ে ট্রাম্পের পরিকল্পনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। 

ট্রাম্পের এই ইচ্ছাকে ভালো চোখে দেখছে না ইউরোপীয় মিত্ররা। ড্যানিশ প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন ইতিমধ্যে ট্রাম্পকে ন্যাটো মিত্রের বিরুদ্ধে এমন ‘হুমকি’ দেওয়া বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তার এই অবস্থানকে পূর্ণ সমর্থন দিয়ে স্টারমার বলেছেন, ডেনমার্ক যুক্তরাজ্যের ঘনিষ্ঠ ইউরোপীয় ও ন্যাটো মিত্র। গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ কেবল ডেনমার্ক ও সেখানকার জনগণের মাধ্যমেই নির্ধারিত হওয়া উচিত।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপারও হাউজ অব কমন্সে একই সুর শুনিয়েছেন। তিনি মন্তব্য করেছেন যে গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ কেবল গ্রিনল্যান্ডবাসী ও ডেনমার্কের বিষয়, এখানে অন্য কারও হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেন, কৌশলগত অবস্থানের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গ্রিনল্যান্ড নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে আর্কটিক অঞ্চলে রাশিয়া ও চীনের নৌবাহিনীর সঙ্গে পাল্লা দিতে এই দ্বীপটি আমেরিকার প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। এর আগে ট্রাম্প কানাডা দখল এবং পানামা খালের ওপর পুনরায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার মতো বিতর্কিত ইচ্ছাও পোষণ করেছিলেন।

ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড নিয়ে এই নতুন তৎপরতার মাঝেই ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক অভিযান এবং দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটকের ঘটনায় বিশ্বজুড়ে বিতর্ক চলছে। ভেনেজুয়েলা সরকারসহ রাশিয়া ও চীন এই সামরিক অভিযানের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। এমন উত্তপ্ত ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেই গ্রিনল্যান্ড ইস্যু নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও তার দীর্ঘদিনের ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে নতুন করে টানাপোড়েন শুরু হয়েছে।

সূত্র: আরটি