Image description
 

চীন ও ভারত বর্তমানে এক অস্বাভাবিক উষ্ণতার মুহূর্ত পার করছে। পাঁচ বছর আগে অমীমাংসিত সীমান্তে সংঘর্ষ দুই দেশের সম্পর্কে তীব্র টানাপোড়েন তৈরি করেছিল। কিন্তু এখন তারা দ্রুত শান্তি পুনঃস্থাপনের পথে এগোচ্ছে। সীমান্তে স্থিতিশীলতা ফেরানো, বাণিজ্য ও বিনিয়োগে আরোপিত বাধা তুলে নেওয়া, ব্যবসা ও পর্যটন বাড়াতে ভিসা-নিষেধাজ্ঞা সহজ করা, সরাসরি বিমান যোগাযোগ পুনরায় চালু করা এবং শীর্ষ পর্যায়ে ধারাবাহিক সফরের মাধ্যমে সম্পর্কের বরফ গলানোর চেষ্টা চলছে।

 

এই সপ্তাহান্তে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সাত বছর পর প্রথমবারের মতো চীন সফরে যাচ্ছেন। এতে দুই ঐতিহাসিক প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিবেশীর সম্পর্কে নতুন দিগন্ত উন্মোচনের আশা জেগেছে।

এই অস্বাভাবিক সৌহার্দ্য মূলত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর শুল্কনীতির ফল। চীনের ওপর ৩০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, যা নভেম্বরে আলোচনায় ব্যর্থতা হলে বেড়ে ১৪৫ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। অন্যদিকে ভারতও ৫০ শতাংশ শুল্কে বিপর্যস্ত।

সম্প্রতি পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে বিবেচিত ভারতের প্রতি আচরণ হয়েছে বিশেষভাবে কঠোর। মাত্র এক সপ্তাহ আগে ভারতকে ২৫ শতাংশ শুল্কে আঘাত করা হয়েছিল—যা পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার মতো এশিয়ার সমসাময়িক দেশের তুলনায় বেশি (১৯ শতাংশ) এবং দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের তুলনায়ও বেশি (১৫ শতাংশ)। এরপর রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য ও জ্বালানি সম্পর্কের কারণে ভারতের ওপর আবারও ২৫ শতাংশ শুল্ক বসানো হয়েছে।

 

 

 

ট্রাম্পের শীর্ষ বাণিজ্য উপদেষ্টা পিটার নাভারো ভারতকে ‘ক্রেমলিনের লন্ড্রি’ বলে আখ্যায়িত করে দেশটিকে আরও চাপ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। কিন্তু ভারতীয় রপ্তানিকারকদের জন্য সেই চাপ ইতোমধ্যেই নরকসম হয়ে উঠেছে। বহু প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার পথে, লাখ লাখ কর্মসংস্থান ঝুঁকির মুখে।

এমন পরিস্থিতিতে নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত যুক্তরাষ্ট্রের ‘ভারতের প্রতি দমননীতি’ কঠোর ভাষায় নিন্দা করেছেন এবং সব ধরনের ভারতীয় পণ্যকে চীনা বাজারে স্বাগত জানানোর কথা বলেছেন।

ভারতও পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানিয়ে দ্রুতগতিতে চীনা বিনিয়োগ অনুমোদন করছে, যা গত পাঁচ বছর ধরে আটকে রাখা হয়েছিল। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আবারও ফিরে এসেছে ‘চিন্দিয়া’ (চীন-ভারত বন্ধুত্ব) ভাবধারা।