Image description
 

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে দেশজুড়ে তীব্র বিক্ষোভের ঝড় বইছে। "এখনই এই এক নায়ককে উৎখাত করার সময়" এই স্লোগান এখন ইসরাইলের রাস্তায় রাস্তায় প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। ১৮ই মার্চ রাতে তেল আবিবের হাবিমা স্কয়ারে প্রায় ৪ হাজার মানুষ জড়ো হয়ে তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং নেতানিয়াহুকে "মিস্টার এবান্ডেন্ট" (অবাঞ্ছিত) হিসেবে ঘোষণা করেন। এই গণবিক্ষোভের মূল কারণ হলো প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর গতিশীল পদক্ষেপ, যার মাধ্যমে তিনি অ্যাটর্নি জেনারেল গালি বাহারা মিয়ারা এবং গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেতের প্রধান রোনেন বারুকের অপসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

 

সাবেক প্রধানমন্ত্রী মোশে ইয়ালনও এই বিক্ষোভে অংশ নেন। তিনি "প্রটেক্টিভ ওয়াল ফর ইসরাইল" লেখা টিশার্ট পরিধান করে অবস্থান নেন, যা নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে প্রতিবাদের অন্যতম প্রতীক হয়ে ওঠে। ইসরাইলের বিরোধী নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইয়ার লাপিদ তেল আবিবের রাস্তায় নেমে গণবিক্ষোভের ডাক দেন। এক্স (সাবেক টুইটার)-এ পোস্টে তিনি বলেন, "সমগ্র জাতিকে একত্রিত হয়ে বলতে হবে: যথেষ্ট হয়েছে। এটি আমাদের মুহূর্ত, আমাদের ভবিষ্যৎ, এটি আমাদের দেশ। রাস্তায় নামুন।" লাপিদ আরও বলেন, "এখনই সময় দেশে পরিবর্তন আনার।" তার আহ্বানের সাড়া দিয়ে ইসরাইলের সাধারণ জনগণ ব্যাপকভাবে বিক্ষোভে অংশ নেয়।

 

 

এদিকে, গাজায় ইসরাইলি হামলার পর মার্কিন কংগ্রেস সদস্য রাশিদা তালিব, ইলহান ওমর ও সামারলি যুক্তরাষ্ট্রের ইসরাইলকে অস্ত্র সরবরাহ নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের দাবি, গাজায় হামলা আরও তীব্র হয়ে ওঠায় মার্কিন সরকারের উচিত ইসরাইলের সামরিক সহায়তা বন্ধ করা। আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালত (আইসিসি) ইতিমধ্যে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োয়াভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। এছাড়া, আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে ইসরাইলের বিরুদ্ধে গণহত্যার মামলা চলছে।

 

ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস মার্কিন দূতাবাসগুলোর সামনে অবরোধ এবং ব্যাপক বিক্ষোভের আহ্বান জানিয়েছে। হামাসের মতে, ইসরাইলের বর্বরতা এবং গণহত্যা মানবিক মূল্যবোধ ও ধর্মীয় আইন লঙ্ঘন করেছে। তাদের দাবি, গাজায় চলমান আগ্রাসন বন্ধ করতে হবে এবং আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করতে হবে। ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা এবং বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়া নেতানিয়াহুর সরকারকে কঠিন পরিস্থিতিতে ফেলে দিয়েছে। এই মুহূর্তে ইসরাইলের জনগণ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উভয়েরই সমালোচনা ও প্রতিবাদের আওয়াজ ক্রমেই তীব্র হয়ে উঠছে।

 

জাতিসংঘ এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলো ইসরাইলের গাজায় হামলাকে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেছে। বিশেষ করে গাজায় সংঘটিত যুদ্ধের ফলে বহু নিরীহ ফিলিস্তিনি নাগরিক প্রাণ হারাচ্ছেন, যার মধ্যে শিশুদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। সব মিলিয়ে ইসরাইলের রাজনৈতিক অঙ্গনে চলমান উত্তেজনা এবং বিক্ষোভের প্রেক্ষিতে নেতানিয়াহুর সরকারের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী প্রতিবাদ বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাশাপাশি গাজায় পরিস্থিতি বিবেচনায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও ইসরাইলের সামরিক কর্মকাণ্ডের প্রতি তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।