
রাজধানীর পল্লবী থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ( ওসি ) অপূর্ব হাসানের শতকোটি টাকার অবৈধ সম্পদের তথ্য পাওয়ার দাবি করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন ( দুদক ) । দুদকের তথ্যমতে , এসব সম্পদের মধ্যে রয়েছে রাজধানী ঢাকায় কয়েকটি ফ্ল্যাট , প্লট , গোপালগঞ্জে কয়েক একর জমি , গরুর খামার ও মাছের ঘের । তাঁর বিরুদ্ধে দুদকের তদন্ত চলছে । অবশ্য অপূর্ব হাসান বলেছেন , তাঁর শত্রুপক্ষ এসব করাচ্ছে । টাকার জন্য তিনি বরাদ্দ পাওয়া সরকারি ফ্ল্যাট নিতে পারছেন না । অপূর্ব হাসান ২০০২ সালে উপপরিদর্শক ( এসআই ) হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশে নিয়োগ পান । ২০১২ সালে তিনি পরিদর্শক পদে পদোন্নতি পান । দুদকের সূত্র জানায় , অপূর্ব হাসান যশোরের বেনাপোল পোর্ট থানা, যশোরের কোতোয়ালি , রাজধানীর তেজগাঁও এবং সর্বশেষ পল্লবী থানার ওসি ছিলেন । ছাত্র - জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত ১২ আগস্ট তাঁকে ঠাকুরগাঁও ইন- সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে বদলি করা হয় । পল্লবী থানার সাবেক এই ওসির
বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায় , ওসির দায়িত্ব পাওয়ার পর অপূর্ব হাসান ক্ষমতার অপব্যবহার করে ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে । ২০২২ সালে পুলিশ কর্মকর্তা অপূর্ব হাসানের বিরুদ্ধে প্রথমবার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধান করে দুদক । তবে ওই বছরের ১৩ জুলাই তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগটি নথিভুক্ত ( অভিযোগ থেকে অব্যাহতি ) করা হয় । চলতি বছর আবার তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক । সূত্র জানায় , অনুসন্ধানের জন্য দুদকের উপসহকারী পরিচালক মো . আবদুল্লাহ আল মামুনকে কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছে কমিশন । ইতিমধ্যে অপূর্ব হাসানের ব্যক্তিগত নথিপত্রসহ অন্যান্য তথ্য চেয়ে পুলিশ বিভাগে চিঠি দেওয়া হয়েছে । দুদকের সূত্র বলছে , এবারের অনুসন্ধানে অপূর্ব হাসানের অঢেল অবৈধ সম্পদের তথ্য মিলছে । দুদকের গোয়েন্দা অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী , রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় তাঁর প্লট ও বনশ্রীর সি ব্লকের পুলিশ পার্ক ভবনে রয়েছে আড়াই হাজার বর্গফুট করে চারটি ফ্ল্যাট । এর
একটি ফ্ল্যাট বিক্রি করেছেন বলে জানা গেছে । ভাটারার নয়ানগরের ২ নম্বর রোডের ( মিষ্টি গলি ) ভবন - ১৭ - এর ছয়তলায় নিজ নামে থাকা প্রায় তিন হাজার বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাটে পরিবারসহ বসবাস করেন তিনি । এই ভবনে তাঁর আরও ফ্ল্যাট থাকার তথ্য রয়েছে । সূত্র আরও বলেছে , অপূর্ব হাসানের নিজ জেলা গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীর রাতইল ইউনিয়নে ঢাকা- খুলনা মহাসড়কের পাশে ২ একর জমিতে মাছের ঘের , সাধুহাটিতে ফয়সাল অ্যাগ্রো নামের গরুর খামার , গ্রামের বাড়ি কাশিয়ানীর রামদিয়ায় তাঁর নিজের , স্ত্রী ফাতিমা রহমানসহ পরিবারের সদস্যদের নামে আট একর জমির তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে । এর মধ্যে তাঁর নামে ১ একর ৫১ শতক , ৭৮৫ খতিয়ানে ৩০ শতক ৩২ অযুতাংশ , রামদিয়া মৌজায় ৯২০ খতিয়ানে ১৯ দশমিক ২৫ শতক জমি রয়েছে । তাঁর দুই ভাই আহসান হাবিব ও খাজা নেওয়াজের নামে ৯২১ খতিয়ানে ১৫ শতক জমি রয়েছে । একই মৌজায় তাঁর স্ত্রী ফাতিমার নামে ৭৮৩ খতিয়ানে ৮০ দশমিক ৪ শতক , ৭৮৭ খতিয়ানে ২ একর ১০ শতক, ৭৮৮ খতিয়ানে ৩৩ শতক , বড়নড়াইল মৌজায় ৯৫ শতক , ৮২৫ খতিয়ানে নিজ নামে ৪১ শতক জমির তথ্য রয়েছে দুদকে জমা হওয়া অভিযোগে । এ ছাড়া তাঁর ব্যক্তিগত গাড়িও রয়েছে । এ বিষয়ে দুদকের মহাপরিচালক মো . আক্তার হোসেন বলেন , দুদক অপূর্ব হাসানের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান করছে । কমিশন তদন্ত সাপেক্ষে তাঁর বিরুদ্ধে আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অপূর্ব হাসান আজকের পত্রিকাকে বলেন , ‘ এ বিষয়ে আমার কোনো বক্তব্য নেই । আমার শত্রুপক্ষ এসব করাচ্ছে । আগেও একবার করেছে । আমি যে ফ্ল্যাটে থাকি বলা হচ্ছে , সেটি আমার । এসব মিথ্যা । ভাটারায় আমার একটি ফ্ল্যাট আছে । ’ দুদকের অনুসন্ধানে বনশ্রীতে চারটি ফ্ল্যাট , মাছের ঘের , গরুর খামারের তথ্যের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন , যে গরুর খামারের কথা বলা হচ্ছে , সেখানে ছয়টি গরুও থাকতে পারে না । সরকারি যে ফ্ল্যাট বরাদ্দ পেয়েছেন , সেটি টাকার জন্য নিতে পারছেন না ।