Image description
 
ইসরায়েলের রাজনীতি আবারও এক জটিল সমীকরণের মুখোমুখি। ২৭ অক্টোবর ২০২৬-এর নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফলে কোনো পক্ষই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন নিশ্চিত করতে পারেনি। ১২০ আসনের নেসেটে নেতানিয়াহুর জোট ৫৩টি, সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ৪৮টি এবং আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো সম্মিলিতভাবে ১৯টি আসন পেতে পারে বলে প্রাথমিক গণনায় দেখা যাচ্ছে। চূড়ান্ত ফল প্রকাশের আগে এই সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে। এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, নেতানিয়াহুবিরোধী শিবির কি আরব মুসলিমদের রাজনৈতিক সহযোগিতা গ্রহণ করবে, নাকি আদর্শিক আপত্তির কারণে আবারও রাজনৈতিক অচলাবস্থার ঝুঁকি নেবে?
 
২০১৯ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে ইসরায়েলে চারবার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল: এপ্রিল ২০১৯, সেপ্টেম্বর ২০১৯, মার্চ ২০২০ এবং মার্চ ২০২১। কোনো পক্ষই স্থিতিশীল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে পারছিল না। ২০২০ সালে নেতানিয়াহু ও বেনি গান্তজের যৌথ সরকার গঠিত হলেও বাজেটসংক্রান্ত অচলাবস্থার কারণে সেটিও টেকেনি।অবশেষে ২০২১ সালে পঞ্চমবার নির্বাচনের পথে যাওয়ার আগেই একটি নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়। সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট এবং ইয়ার লাপিদের নেতৃত্বাধীন আট দলের জোট সরকার গঠন করে। এই জোটে যোগ দেয় মানসুর আব্বাসের নেতৃত্বাধীন ইসলামপহ্নি রা'আম পার্টি। তারা দীর্ঘ মেয়াদি সমস্যা সমাধানে দুই রাষ্ট্রে বিশ্বাসী, যার কারনে বিদেশী অন্যান্য ইখওয়ানপহ্নি দলেরা তাদের সাথে সম্পর্ক রাখেনা। ১৩ জুন ২০২১-এ মাত্র ৬০–৫৯ ভোটের ব্যবধানে সরকারটি আস্থা ভোটে জয়ী হয়; একজন সদস্য ভোটদানে বিরত ছিলেন।এটি ছিল ইসরায়েলের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অচলাবস্থা ভাঙতে আরব নেতৃত্বাধীন একটি দল সরাসরি সরকার গঠনের জোটে অংশ নেয়। ফলে আরব নাগরিকদের ভোট কেবল প্রতিবাদের ভাষা নয়, রাষ্ট্রীয় নীতি ও রাজনৈতিক ক্ষমতার হিসাবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
২০২৬ সালে কি সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটবে?
 
এবারের নির্বাচনে আইজেনকটের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হলো-নেতানিয়াহুকে ক্ষমতার বাইরে রাখতে হলে তাঁকে এমন রাজনৈতিক সহযোগিতা খুঁজতে হবে, যা তাঁর নিজের জোটের কয়েকটি দলের কাছে আদর্শিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সমর্থন বা সহযোগিতা ছাড়া তাঁর পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন কঠিন হতে পারে।অন্যদিকে, আরব দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতা করলে তাঁর ডানপন্থী সহযোগীদের কেউ কেউ সরে যেতে পারে। আবার নেতানিয়াহুর সঙ্গে সমঝোতা করলে আইজেনকটের নেতানিয়াহুবিরোধী রাজনৈতিক অবস্থান ও পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি প্রশ্নের মুখে পড়বে।
২০২১ সালের অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, সংখ্যাগরিষ্ঠতা যখন কোনো একক রাজনৈতিক শিবিরের হাতে থাকে না, তখন আদর্শিক বিরোধের পাশাপাশি বাস্তব রাজনৈতিক হিসাবও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। আরব মুসলিমদের ভোট ও প্রতিনিধিত্বকে উপেক্ষা করে সরকার গঠনের চেষ্টা রাজনৈতিকভাবে ব্যয়বহুল হতে পারে। এবারের ঘটনাপ্রবাহ শুধু নেতানিয়াহুর ক্ষমতায় থাকা বা না-থাকার প্রশ্ন নয়; এটি ইসরায়েলের রাজনীতিতে আরব নাগরিকদের প্রতিনিধিত্ব, জোটের আদর্শিক সীমা এবং রাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্যে সংঘাতেরও পরীক্ষা।