ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের ভোটকেন্দ্রে থাকা প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের কার্ডে ছবি না থাকা নিয়ে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. দেলাওয়ার হোসেন।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টায় ঠাকুরগাঁও পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের আদর্শ স্কুলে নিজের ভোট দিয়ে এ অভিযোগ করেন তিনি।
সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “এখানে যিনি প্রিজাইডিং অফিসার, উনার গলায় যে কার্ডটি রয়েছে, সেই কার্ডে কোনো ছবি নেই। যতটুকু এখানে শুনলাম যে, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার যারা আছেন, তাদেরও গলার যে কার্ডটি আছে, সেখানেও কোনো ছবি নেই।
“এখন যিনি এখানে প্রিজাইডিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করছেন, তার যদি ছবি না থাকে, তাহলে কেমনে করে বুঝবো যে উনি ওই ব্যক্তি? অন্য ব্যক্তি তো এখানে প্রক্সি দিতে পারে। এটি খুবই উদ্বেগজনক।”
নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে তিনি বলেন, এখন তো কেবলমাত্র ভোট শুরু হলো, এখনই পরিবেশ সম্পর্কে বলার মতো কোনো অবস্থা আসেনি। আরেকটু সিচুয়েশন গেলেই আমরা বুঝতে পারবো যে আসলে কি অবস্থা।
তবে কিছু অভিযোগ তিনি পাচ্ছেন জানিয়ে তিনি বলেন, “দুই একটা কেন্দ্রে অভিযোগ এসেছে যে আমাদের পোলিং এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়েছে। আমি এটার খবর নিচ্ছি। আমি ঢোকার সময়ে আমাকে এই মেসেজটা দিল। আমি বের হয়ে খবর নিবো কোন জায়গায় এই ঘটনা ঘটেছে।”
তবে নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী বলেও জানান আট মাসের মাথায় দাড়িপাঁল্লা প্রতীক নিয়ে দ্বিতীয়বার প্রার্থী হওয়া মো. দেলাওয়ার হোসেন।
একই সঙ্গে ভোট সুষ্ঠু হলে নির্বাচনের যে কোনো ফলাফল মেনে নিবেন জানিয়ে তিনি বলেন, “জনগণ যদি ভোট সুষ্ঠু হয়, সুন্দর হয়, নিরপেক্ষ হয়, সেক্ষেত্রে জনগণের স্বাধীনভাবে যদি ভোট দেওয়ার সুযোগটা পায়, সেক্ষেত্রে তো ফলাফল আমাদেরকে মানতে হবে, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া।”
এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় নির্ধারিত সময়েই এ আসনের ১৮৫টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে; তা একটানা বিকাল ৪টা পর্যন্ত চলবে।
রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ঠাকুরগাঁও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম সকালে বলেন, “এ আসনের ১৮৫টি কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট চলছে। কোথাও কোনো ধরনের অভিযোগ পাওয়া যায়নি।”
ঠাকুরগাঁও সদর, রুহিয়া ও ভুল্লী উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে মোট ভোটার আছেন ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৪০ জন। পাঁচজন প্রার্থীর মধ্যে থেকে এই সংসদীয় এলাকার নতুন জনপ্রতিনিধি বেছে নেবেন তারা।
এই পাঁচ প্রার্থী হলেন— রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছোট ভাই মির্জা ফয়সল আমিন (ধানের শীষ), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. দেলাওয়ার হোসেন (দাঁড়িপাল্লা), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. আবদুল আলীম নিজামী (বটগাছ), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাফেজ মো. খাদেমুল ইসলাম (হাতপাখা) এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক (ডাব)।