Image description

নেত্রকোনার দুর্গাপুর ও কলমাকান্দা সীমান্তে মাদক, চোরাচালানসহ নানা অবৈধ কারবার নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করতেন সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির। নিজের ফেসবুক পেজ ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’-এ এসব কারবারের ছবি, ভিডিও ও তথ্য প্রকাশ করতেন তিনি। সীমান্তের অপরাধ, অস্ত্রধারী ব্যক্তি ও অবৈধ ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তার একাধিক পোস্ট ও ভিডিও ছিল।

এসব লেখালেখির কারণে সীমান্তকেন্দ্রিক অবৈধ কারবারে জড়িত কয়েকজনের সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয়েছিল বলে দাবি করেছে পরিবার ও স্থানীয় একাধিক সূত্র। এমনকি নিজের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগের কথা পুলিশকে জানিয়েছিলেন আলিফ। তিনি বলেছিলেন, সীমান্তের অপরাধ ও অস্ত্রধারীদের নিয়ে লেখালেখির কারণে তিনি হুমকির মুখে রয়েছেন। দুর্বৃত্তরা অস্ত্র নিয়ে তার জন্য অপেক্ষা করছে বলেও পুলিশকে জানিয়েছিলেন।

এর প্রায় ১১ মাস পর গত ১৫ অক্টোবর রাতে দুর্গাপুরের তেলনজিয়া এলাকায় গুলি করে হত্যা করা হয় তাকে।

‘এই হত্যা মামলাটি নিয়ে আমরা অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছি। আমরা ইতোমধ্যে অনেক এগিয়ে গেছি। অতি দ্রুত সময়ের মধ্যেই আপনাদের সামনে সবকিছু প্রকাশ করব। আপনারা জানেন, দুর্গাপুরে চিহ্নিত কয়েকজন অপরাধী রয়েছেন। তারা বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করে আত্মগোপনে চলে যান।’

আলিফের হত্যাকাণ্ডের পর সামনে এসেছে সীমান্তের অবৈধ কারবার, আধিপত্য বিস্তার, পুরোনো অপরাধের অভিযোগ এবং তার অনুসন্ধানী লেখালেখির বিষয়গুলো। প্রশ্ন উঠেছে- সীমান্তের কারবার নিয়ে আলিফের অনুসন্ধান কি তার হত্যার কারণ কিনা! এমন প্রশ্ন এখন তার পরিবারের সদস্যসহ স্থানীয়দের মুখে মুখে। এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি। তবে পুলিশের তদন্তে কয়েকজন চিহ্নিত অপরাধীর নাম ও তাদের সঙ্গে আলিফের বিরোধের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে।

যাদের ঘিরে সন্দেহ:

পুলিশের তথ্যমতে, দুর্গাপুরের বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে আলোচনায় থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে শামীম আহমেদ ওরফে শুটার শামীম এবং তাজুল ইসলামের নাম রয়েছে। আলিফের ফেসবুক পেজে তাদের নিয়ে লেখালেখির কারণে বিরোধ তৈরি হয়েছিল বলেও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে আলিফ হত্যাকাণ্ডে তাদের সরাসরি সম্পৃক্ততার বিষয়টি এখনো নিশ্চিত করেনি পুলিশ।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শামীমের বিরুদ্ধে হত্যা, হামলা, মাদক, অস্ত্র ও চোরাচালানসহ বিভিন্ন অভিযোগে দেশের বিভিন্ন থানায় অন্তত ২৯টি মামলা রয়েছে। তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে রয়েছে ১৬টি মামলা।

দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ বলেন, ২০১৪ সালের ১৬ ডিসেম্বর থেকে শামীমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে অন্তত ২৯টি মামলা হয়েছে। তাজুলের বিরুদ্ধেও হত্যাসহ বিভিন্ন অপরাধে ১৬টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) শফিকুল ইসলাম হত্যা মামলায় তাজুলের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে।

‘১৯ অক্টোবর গভীর রাতে পুলিশ, এসআরবি ও বিজিবি যৌথভাবে সীমান্তের কয়েকটি এলাকায় অভিযান চালিয়েছে। এ সময় একজন অপরাধীর পাসপোর্ট জব্দ করা হয়। তদন্তের স্বার্থে এখনই কিছু বলছি না। একটু অপেক্ষা করুন, সবকিছুই জানাতে পারব।’

পুলিশের তথ্যমতে, ২০২২ সালের ৮ অক্টোবর কুল্লাগড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর নেতা সুব্রত সাংমা হত্যার মামলায় শামীমের নাম আসে। সীমান্তের ব্যবসা ও আধিপত্য নিয়ে বিরোধের জেরে ওই হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল বলে তখন অভিযোগ ওঠে।

এর দুই বছর পর ২০২৪ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি নলজোরা গ্রামের মবিবুর রহমান ওরফে দা মজিবুর নিহত হন। ওই মামলাতেও শামীমকে প্রধান আসামি করা হয়। তবে এসব মামলার অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি।

শামীম কুল্লাগড়া ইউনিয়নের কাকড়াকান্দা গ্রামের আবদুস সাত্তারের ছেলে। তার সৎভাই কুল্লাগড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আউয়াল।

তিনি বলেন, ‘শামীম আহমেদ আমার সৎভাই। তার সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। শামীম আহমেদকে নিয়ে আমি কোনো কথা বলতে চাই না।’

শামীম ও তাজুলের বক্তব্য জানতে তাদের মোবাইলফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। স্থানীয় সূত্র বলছে, আলিফ হত্যার পর তারা আত্মগোপনে রয়েছেন।

সীমান্তের কারবারে আধিপত্যের লড়াই:

ভারতের মেঘালয় সীমান্তঘেঁষা দুর্গাপুরে দীর্ঘদিন ধরে পাথর, বালু, মাদকসহ বিভিন্ন পণ্য চোরাচালানের অভিযোগ রয়েছে। সীমান্ত দিয়ে পণ্য আনা-নেওয়া, পরিবহন ও স্থানীয় পর্যায়ে এসব কারবারের সঙ্গে কারা জড়িত-তা নিয়ে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা রয়েছে। এসব কারবারের নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিরোধ, সংঘর্ষ ও হত্যাকাণ্ডের অভিযোগও সামনে এসেছে।

আলিফ এসব বিষয় নিয়ে নিয়মিত অনুসন্ধান করতেন। তার ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ পেজে সীমান্তের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করা হতো। ফলে কারবারের সঙ্গে জড়িতদের কারও কারও জন্য তিনি অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠেছিলেন বলে দাবি তার এক সহকর্মীর।

‌‌‘২০১৪ সালের ১৬ ডিসেম্বর থেকে শামীমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে অন্তত ২৯টি মামলা হয়েছে। তাজুলের বিরুদ্ধেও হত্যাসহ বিভিন্ন অপরাধে ১৬টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) শফিকুল ইসলাম হত্যা মামলায় তাজুলের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই সহকর্মী বলেন, ‘সীমান্তের বিভিন্ন অবৈধ কারবারে কারা জড়িত, তা নিয়ে লুৎফুজ্জামান ফেসবুকে লেখালেখি ও ছবি-ভিডিও প্রকাশ করতেন। এ কারণে কারও কারও সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয়েছিল। হত্যার সঙ্গে এসবের যোগসূত্র আছে কিনা, তদন্তেই তা বেরিয়ে আসবে।’

হামলার পরও থামেননি আলিফ:

আলিফ যে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত ছিলেন, তার প্রমাণ পাওয়া যায় তার মৃত্যুর প্রায় এক বছর আগের একটি ঘটনায়। ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর দুর্গাপুরের সোমেশ্বরী নদীর তেরিবাজার ঘাট এলাকায় চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে তাকে আহত করা হয়। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে দুই যুবকের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে। বর্তমানে তারা জামিনে রয়েছেন।

হামলার পর নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়েছিলেন আলিফ। ওই বছরের ৩০ নভেম্বর পুলিশ সুপারের সঙ্গে সাংবাদিকদের মতবিনিময় সভায় তিনি সীমান্তের অপরাধ, অস্ত্রধারীদের তৎপরতা এবং নিজের ওপর হামলার আশঙ্কার কথা জানান। অর্থাৎ, হত্যার প্রায় ১১ মাস আগেই তিনি সম্ভাব্য বিপদের কথা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানিয়েছিলেন।

স্থানীয়রা প্রশ্ন তুলেছেন, তার নিরাপত্তা নিয়ে যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, সেটি কি পরবর্তী সময়ে বাস্তবে রূপ নিল? আর যদি তাই হয়, তাহলে সেই হামলার সঙ্গে বর্তমান হত্যাকাণ্ডের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।

হত্যার আগের পোস্টেও কি ছিল কোনো ইঙ্গিত?

আলিফ হত্যার আগের দিন তার ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ পেজে একটি পোস্ট দেওয়া হয়। সেখানে তিনি লেখেন, ‘আগামীকাল চাঞ্চল্যকর অপরাধের গডফাদারের তথ্য প্রমাণ।’

হত্যার প্রায় দুই ঘণ্টা আগেও পেজটিতে একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়। ৪১ সেকেন্ডের ওই ভিডিওর সঙ্গে তিনি লেখেন, ‘নেত্রকোনায় রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনের গডফাদার বাবুল।’

এই পোস্টগুলোর সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে হত্যার ঠিক আগে তিনি কোনো নতুন তথ্য প্রকাশের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন কি না, কিংবা তার কাছে এমন কোনো তথ্য ছিল কি না-এ প্রশ্নও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

মোবাইল ফোনে কি আছে হত্যার সূত্র?

আলিফের স্ত্রী আনন্দিতা সাংমার দাবি, তার স্বামীর মোবাইলফোনে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকতে পারে।

তিনি বলেন, ‘স্বামীর মোবাইলফোনে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকতে পারে। ফোনের তথ্য, যোগাযোগের রেকর্ড ও অনুসন্ধানের নথি হত্যার উদ্দেশ্য শনাক্ত করতে সহায়ক হতে পারে।’

পরিবারের এই বক্তব্যের পর আলিফের মোবাইলফোনে, কললিস্ট, মেসেজ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ইনবক্স, ভিডিও ও ছবির উৎস এবং তার সাম্প্রতিক যোগাযোগের তালিকা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তিনি হত্যার আগে কার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন এবং কাদের নিয়ে অনুসন্ধান করছিলেন-এসব তথ্য হত্যার নেপথ্য উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র দিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আলিফের বড় ভাই শহিদুল ইসলাম ফকির বলেন, তার ভাই সীমান্তের বিভিন্ন অপরাধ নিয়ে লেখালেখি করতেন। এ কারণেই দুর্বৃত্তরা তাকে গুলি করে হত্যা করেছে বলে তিনি মনে করেন।

ছয় গুলির আঘাত, একজন গ্রেফতার:

১৫ অক্টোবর রাতে দুর্গাপুরের বিরিশিরি ইউনিয়নের তেলনজিয়া এলাকায় শ্বশুরবাড়ির কাছের একটি দোকানের সামনে আলিফকে গুলি করা হয়। ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকের ভাষ্য অনুযায়ী, তার শরীরে ছয়টি গুলির আঘাত ছিল।

এ ঘটনায় তার স্ত্রী অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। পরে পুলিশ সাজিবুল ইসলাম ওরফে অপূর্বকে গ্রেফতার করে। পুলিশের দাবি, তিনি তাজুল ইসলামের সহযোগী। আদালত অপূর্বের চার দিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

একজনকে গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে তদন্তে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেছে কি না, কিংবা তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অন্য কারও সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলেছে কি না-এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে আলিফের পরিবার ও সহকর্মীরা।

তদন্তে পুলিশের ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি’:

আলিফ হত্যা মামলার তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ময়মনসিংহ রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান।

তিনি বলেন, ‘এই হত্যা মামলাটি নিয়ে আমরা অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছি। আমরা ইতোমধ্যে অনেক এগিয়ে গেছি। অতি দ্রুত সময়ের মধ্যেই আপনাদের সামনে সবকিছু প্রকাশ করব। আপনারা জানেন, দুর্গাপুরে চিহ্নিত কয়েকজন অপরাধী রয়েছেন। তারা বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করে আত্মগোপনে চলে যান।’

নেত্রকোনার পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, ১৯ অক্টোবর গভীর রাতে পুলিশ, এসআরবি ও বিজিবি যৌথভাবে সীমান্তের কয়েকটি এলাকায় অভিযান চালিয়েছে। এ সময় একজন অপরাধীর পাসপোর্ট জব্দ করা হয়।

তিনি বলেন, ‘তদন্তের স্বার্থে এখনই কিছু বলছি না। একটু অপেক্ষা করুন, সবকিছুই জানাতে পারব।’

যে প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজছে তদন্ত:

আলিফ হত্যাকাণ্ডের পর এখন কয়েকটি প্রশ্ন সামনে এসেছে-সীমান্তের অবৈধ কারবার নিয়ে তার অনুসন্ধান কি হত্যার মূল কারণ? তিনি যাদের নিয়ে লেখালেখি করতেন, তাদের কেউ কি হত্যার পরিকল্পনায় যুক্ত? আগের হামলার সঙ্গে এই হত্যার কোনো যোগসূত্র আছে কি না? হত্যার আগের দিন প্রকাশিত ‘গডফাদারের তথ্য প্রমাণ’-সংক্রান্ত পোস্টটির পেছনে কী তথ্য ছিল? আর তার মোবইলফোন ও ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ পেজের তথ্য কি হত্যার নেপথ্যের কারও নাম সামনে আনতে পারে। এখন পর্যন্ত এসব প্রশ্নের কোনো চূড়ান্ত উত্তর নেই।

তবে একটি বিষয় স্পষ্ট-আলিফের হত্যাকাণ্ডকে শুধু ব্যক্তিগত বিরোধ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তার দীর্ঘদিনের সাংবাদিকতা, সীমান্তকেন্দ্রিক অবৈধ কারবার নিয়ে অনুসন্ধান, আগের হামলা, নিরাপত্তা নিয়ে পুলিশের কাছে তার আশঙ্কার কথা জানানো এবং হত্যার আগে তার রহস্যজনক কিছু পোস্ট-সবকিছু মিলিয়ে হত্যার নেপথ্য খুঁজতে হলে তার সাংবাদিকতার কাজ ও সীমান্তের অপরাধজগতের যোগসূত্র গভীরভাবে খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।