বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাত থেকে নিখোঁজ থাকার পর বুধবার বিকেলে পুলিশ তুরাগ নদ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে।তার মৃত্যুকে ‘হত্যাকাণ্ড’ দাবি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন তার খালাতো বোন মোশফেকা জাহান।ফেসবুক স্ট্যাটাসে মোশফেকা জাহান অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও শেয়ার করার কারণে তাহসিফকে দিনের পর দিন মানসিক যন্ত্রণা দেওয়া হয়েছে। অবসরে পাঠানোর পরও গোয়েন্দারা তাকে নিয়মিত অনুসরণ করতেন বলে তাহসিফ তাকে জানিয়েছিলেন।স্ট্যাটাসে মোশফেকা জাহান লেখেন, ‘আমার ভাইকে মার্ডার করা হয়েছে, কী দোষ ছিল তার? হাসিনার পালানো ভিডিও শেয়ার করা? যেটি তিনি নিজেও ধারণ করেননি, নাগরিক হিসেবে শেয়ার করেছেন। তার কলিগদের কেউ করেছেন।
’তিনি আরও লেখেন, ‘অবসরে দেওয়া হয়েছে, দিনের পর দিন মানসিক যন্ত্রণা দেওয়ার পরও তাদের শান্তি হয়নি। মেরেই ফেলতে হলো তাকে।’তাহসিফের মৃত্যুর জন্য দায়ীদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে মোশফেকা জাহান প্রশ্ন তোলেন, দেশপ্রেমিক হওয়ার কারণেই কি তার ভাইকে এমন পরিণতির শিকার হতে হয়েছে?স্ট্যাটাসে তিনি অভিযোগ করেন, সুস্থ তাহসিফকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে। একই সঙ্গে তার খালার জুলাই আন্দোলনে রাজপথে থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে প্রশ্ন তোলেন, তার খালার কী অপরাধ ছিল?শোক ও ক্ষোভ প্রকাশ করে মোশফেকা জাহান লেখেন, ‘কথা বলা আর হলো না.....!
’শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ঐতিহাসিক ভিডিও প্রকাশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হিসেবে সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির নাম আলোচনায় আসে। তবে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ নিশ্চিত করেনি।গত বছরের ৪ আগস্ট আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছিল, ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফকে প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম মেনে, অন্য প্রেক্ষাপটে ও কোনো অভিযোগ ছাড়াই অবসর দেওয়া হয়।নৌপুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেল ৪টার দিকে গাজীপুরের টঙ্গী ফাঁড়ির নৌপুলিশ তুরাগ নদের রাজাবাড়ি ঘাটসংলগ্ন নদ থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়।
নৌপুলিশের একটি অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কেউ জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে তুরাগ নদে একটি মরদেহ ভাসতে থাকার খবর দেয়। খবর পেয়ে টঙ্গী নৌপুলিশ ফাঁড়ির একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, তার পরনে সাদা পাজামা ও কালো জামা ছিল। তার হাতে একটি ঘড়ি এবং পকেটে একটি আইফোন পাওয়া যায়। ওই ফোনের মাধ্যমে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়।পরে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়। তার মৃত্যুর কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।