সপ্তাহের শুরুতেই বড় ধাক্কা খেল ভারতীয় শেয়ার বাজার। সোমবার দিনের শেষে সেনসেক্স ১১২৪ পয়েন্ট বা ১.৫২ শতাংশ নেমে ৭২,৭৭১.৭২-এ থেমেছে। নিফটি পড়েছে ৩৬০ পয়েন্ট বা ১.৫৬ শতাংশ, নেমে এসেছে ২২,৭৮০.২৫-এ। বাজারের এই পতনে বিএসই-তে তালিকাভুক্ত সংস্থাগুলির মোট বাজারমূল্য এক দিনে কমেছে প্রায় ৮.৯২ লক্ষ কোটি টাকা।
বাজারের ছবি ছিল কার্যত একতরফা। সেনসেক্সের ৩০টি সংস্থার সবক’টির শেয়ারই সোমবার দর হারিয়েছে। বাজাজ ফিনান্স, কোটাক মাহিন্দ্রা ব্যাঙ্ক এবং এইচডিএফসি ব্যাঙ্কের মতো বড় সংস্থার শেয়ারে বিক্রির চাপ ছিল বেশি।
মূলত আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতাই ভারতীয় বাজারে তার প্রভাব ফেলেছে। ইরান-আমেরিকা সংঘাত ঘিরে অনিশ্চয়তা বাড়ার পাশাপাশি অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ২ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপিছু ১০৭ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। ভারতের মতো তেল আমদানিনির্ভর দেশের জন্য তেলের দাম বাড়া বরাবরই উদ্বেগের বিষয়।
এর সঙ্গে যোগ হয়েছে মার্কিন বন্ডের চড়া সুদ। ১০ বছরের মার্কিন ট্রেজারি ইয়েল্ড ৫.২ শতাংশ ছাড়িয়েছে, যা ২০০৪ সালের পর সর্বোচ্চ। ৩০ বছরের ইয়েল্ডও ৫.৫ শতাংশের উপরে উঠেছে। ফলে বিশ্ববাজারে ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদে বিনিয়োগ নিয়ে সতর্কতা বেড়েছে।
বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিক্রিও বাজারে চাপ বাড়িয়েছে। শুক্রবার তাঁরা প্রায় ৩,৬৯৪ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করেন। সেপ্টেম্বর মাসে এখনও পর্যন্ত তাঁদের নিট বিক্রির পরিমাণ প্রায় ২৫,৬৮২ কোটি টাকা।
এশিয়ার অন্য বাজারগুলিতেও সোমবার দুর্বলতা ছিল। কোরিয়ার কোস্পি ২ শতাংশের বেশি এবং সাংহাই সূচক ১.৭ শতাংশের বেশি পড়েছে। একই দিনে ডলারের তুলনায় টাকাও ১৪ পয়সা দুর্বল হয়ে ৯৫.৮৯-এ নেমেছে।
অর্থাৎ, একসঙ্গে একাধিক চাপেই সোমবার বাজারে বিক্রির ঝড় দেখা গেল—ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা থেকে তেলের দাম, মার্কিন সুদ থেকে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিক্রি, সবকিছুর প্রভাব পড়েছে ভারতীয় সূচকে।