প্রেমিকের সঙ্গে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে চাননি শিক্ষিকা। আর সেই কারণেই শ্রেণিকক্ষ থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে তাকে গুলি করে হত্যা করলেন তরুণ। এরপর নিজের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি। পুরো ঘটনাটি ঘটেছে স্কুলের বারান্দায় কোমলমতি শিশুদের চোখের সামনে।
ভারতের উত্তরপ্রদেশের লখীমপুর খীরী এলাকার একটি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাটি ঘটেছে। ঘটনার পুরো চিত্র ধরা পড়েছে স্কুলের সিসিটিভি ক্যামেরায়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে ভারতীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ব্যাগে পিস্তল লুকিয়ে হঠাৎ করেই স্কুলে ঢুকে পড়েন ওই তরুণ। এরপর সোজা চলে যান একটি শ্রেণিকক্ষে, যেখানে তখন ওই শিক্ষিকা ক্লাস নিচ্ছিলেন। তরুণী বেরিয়ে আসতে না চাইলে তার হাত ধরে টেনেহিঁচড়ে দোতলার বারান্দায় নিয়ে যান তিনি। হাত ছাড়ানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন শিক্ষিকা। ভয় আর আতঙ্কে তখন থমকে যায় উপস্থিত কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।
দোতলার বারান্দায় নিয়ে তাদের মধ্যে বেশ কিছুক্ষণ কথা-কাটাকাটি হয়। এরপরই ব্যাগ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র বের করে পরপর কয়েক রাউন্ড গুলি চালান তরুণ। রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন শিক্ষিকা। মুহূর্তের মধ্যেই একই পিস্তল দিয়ে নিজের মাথায় গুলি করেন ওই তরুণও। বিকট গুলির শব্দে গোটা স্কুলে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে; দিগ্বিদিক ছুটতে শুরু করে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় স্থানীয় পুলিশ। তবে ততক্ষণে দুজনেরই মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ব্যাগে পিস্তল নিয়ে একজন বহিরাগত লোক কী করে স্কুলের ভেতরে প্রবেশ করল, সেটির নিরাপত্তা ত্রুটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এদিকে মর্মান্তিক এ ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। স্কুলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।