হেল্পডেস্কের ব্যানার ছেঁড়ার জেরে রাজশাহীর পদ্মা সরকারি কলেজে ছাত্রদল ও শিবির নেতাকর্মীদের মধ্যে হয়েছে সংঘর্ষ। দুইপক্ষের পাঁচজন এতে আহত হয়েছেন। তাদের ভর্তি করা হয়েছে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কলেজ ক্যাম্পাসে এই সংঘর্ষ হয়। পরে শিবিরের নেতাকর্মীদের নগরীর রাজপাড়া থানার মোড় এবং ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের পদ্মা আবাসিক এলাকার রাজ্জাকের মোড়ে অবস্থান নিতে দেখা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ক্যাম্পাসে ভর্তি কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের সহযোগিতার জন্য একটি হেল্পডেস্ক চালু করেছে শিবির। মঙ্গলবার সকালে সেখানে ব্যানার টাঙানো নিয়ে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাদের তর্কাতর্কি হয়, যা পড়ে গড়ায় সংঘর্ষে।
শিবিরের রাজশাহী শাহ মখদুম থানা সভাপতি তানভীর মাহতাব বলেছেন, তিন দিন ধরে তারা হেল্পডেস্ক পরিচালনা করছিলেন। মঙ্গলবার সকালে সেখানে ব্যানার টাঙানোর পর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সেটি ছিঁড়ে ফেলেন।
তার ভাষ্য, প্রতিবাদ করতে গেলে তাদের সঙ্গে ওই পক্ষের হাতাহাতি হয়। পরে লাঠি ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয় তাদের ওপর। এতে শিবিরের তিনজন আহত হয়েছেন।
রাজশাহী মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইমরান নাজিরের দাবি, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বহিরাগতদের নিয়ে হেল্পডেস্কে হামলা করে ব্যানার ছিঁড়ে পুড়িয়ে দেন।
তিনি বললেন, ‘শিক্ষার্থীদের সহযোগিতার স্বার্থেই হেল্পডেস্ক স্থাপন করা হয়েছিল। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সব পক্ষকে সমানভাবে শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা করার সুযোগ দিতে হবে।’
অন্যদিকে কলেজ ছাত্রদল নেতাদের দাবি, ছাত্রশিবিরের ৩০ থেকে ৪০ নেতাকর্মী কলেজে প্রবেশ করে ছাত্রদলের ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেন।
রাজশাহী মহানগর ছাত্রদলের সদস্য সচিব এমদাদুল হক লিমন অভিযোগ করেন, ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের সঙ্গে বহিরাগতরা যোগ দিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করেছেন।
তিনি বললেন, ‘আমাদের দুইজন ওই হামলায় আহত হয়েছে। কোনো ক্যাম্পাসে এ ধরনের ঘটনা হতে দেওয়া হবে না। ভবিষ্যতে ছাত্রদলের কোনো নেতাকর্মীর ওপর হামলা হলে তার জবাব দেওয়া হবে।’
ক্যাম্পাসে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও সংঘর্ষে জড়ালেও রাজশাহী মেডিকেলে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। সেখানে শিবিরের আহত নেতাকর্মীদের দেখতে যান ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। পরে ছাত্রদলের আহত নেতাকর্মীদের দেখতে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা যান হাসপাতালে।