ভারতের দিল্লির একটি আদালত সোমবার কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ নেতা সোনিয়া গান্ধীর বিরুদ্ধে করা একটি খারিজ হওয়া মামলা আবার শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন। মামলায় বলা হয়েছিল, ১৯৮০ সালে ভোটার তালিকায় নিজের নাম যুক্ত করার সময় কারসাজি ও জালিয়াতি করেছিলেন তিনি। আদালত একজন ম্যাজিস্ট্রেটকে আগামী সপ্তাহে পুলিশ স্ট্যাটাস রিপোর্ট তলব করে বিষয়টি নতুন করে শুনানির নির্দেশ দিয়েছেন।
রাউস অ্যাভিনিউ কোর্টের বিশেষ বিচারক বিশাল গগনে আদেশের কার্যকর অংশ মৌখিকভাবে পড়ে শোনানোর সময় বলেছেন, গত বছরের সেপ্টেম্বরে ম্যাজিস্ট্রেট যে সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন, তা অভিযোগকারী জালিয়াতি নিয়ে যে অভিযোগ করেছিলেন, তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
মামলার তথ্যের ক্ষেত্রেও ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশকে ‘নন-স্পিকিং’ বা যথাযথ কারণ উল্লেখ না করা আদেশ হিসেবে অভিহিত করেছেন আদালত। বিষয়টি আবার ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পাঠিয়ে যথাযথ তদন্ত এবং নতুন করে শুনানির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর বিশেষ আদালতে বিষয়টি নতুন করে শুনানি হবে।
আদালত বলেছেন, ম্যাজিস্ট্রেট অভিযোগে পর্যাপ্ত তথ্য নেই বলে সেটি খারিজ করেছিলেন। তবে ওই সিদ্ধান্তে ‘আইনের স্পষ্ট ভুল’ রয়েছে।
এর আগে ১০ সেপ্টেম্বর দিল্লির একটি আদালত ১৯৮০ সালে সোনিয়া গান্ধীর ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে করা মামলা খারিজ করে দেন। অভিযোগে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল, ১৯৮৩ সালে ভারতীয় নাগরিক হওয়ার আগে ১৯৮০ সালে কীভাবে তার নাম ভোটার তালিকায় যুক্ত হলো। আদালত বলেছিলেন, অভিযোগগুলোর যথেষ্ট ভিত্তি নেই এবং এটি আইনি প্রক্রিয়ার অপব্যবহার।
অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বৈভব চৌরাসিয়া ১০ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে চার পৃষ্ঠার সংক্ষিপ্ত আদেশ দেন। এর আগে দুই দফা শুনানিতে অভিযোগকারী বিকাশ পাঠকের বক্তব্য বিস্তারিতভাবে শোনা হয়।
মামলা খারিজ করার সময় আদালত বলেছিলেন, কংগ্রেস নেতার বিরুদ্ধে এমন কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ নেই, যা দিয়ে তিনি ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের জন্য নথিপত্র জাল করেছিলেন বলে প্রমাণ করা যায়। একই সঙ্গে আদালত বলেছিলেন, বিষয়টি আদালতের এখতিয়ারেরও বাইরে।
বিচারক গগনে বলেছেন, দিল্লি পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তাকে অভিযোগের জবাব দেওয়া এবং স্ট্যাটাস রিপোর্ট জমা দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় না দিয়েই ম্যাজিস্ট্রেট ‘বিকৃত ও অনুপযুক্ত’ আদেশ দিয়েছিলেন।
সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস