Image description

নতুন করে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা দিতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। আগামীকাল সোমবার স্থানীয় সময়  বেলা ২টায় সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইরানের বিরুদ্ধে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা’ ঘোষণা করতে পারেন বলে জানিয়েছে মার্কিন প্রশাসন । এতে শুধু ইরান নয়, দেশটির গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার চীনও প্রভাবিত হতে পারে।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ প্রায় ছয় মাসে গড়িয়েছে। বর্তমানে সরাসরি লড়াই না চললেও শান্তি আলোচনাও এগোচ্ছে না। নতুন নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য ইস্যুতে চীনকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘সহযোগিতা’ করার আহ্বান জানানো হতে পারে। কেপলারের ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, ইরান সমুদ্রপথে যে তেল রপ্তানি করে, তার ৮০ শতাংশের বেশি কিনে থাকে চীন। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, ইরানকে যে কোনো ধরনের সহায়তা দিলে সংশ্লিষ্ট দেশকে অর্থনৈতিক পরিণতির মুখে পড়তে হবে। তার দাবি, ইরান চুক্তি করতে চাইলেও সঠিক চুক্তির জন্য এখনো প্রস্তুত নয়। তিনি বলেছেন, তার দেশ নতুন যে নিষেধাজ্ঞা দিতে যাচ্ছে তা ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে ধ্বংস করে দেবে। পরিণতিতে সরকারের পতন ঘটবে।

তবে পালটা প্রতিক্রিয়ায় ইরান বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাকে সব দেশের বিরুদ্ধেই এক ধরনের ‘যুদ্ধ ঘোষণা’। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, এ ধরনের ‘সেকেন্ডারি’ বা গৌণ নিষেধাজ্ঞার আন্তর্জাতিক আইনে কোনো ভিত্তি নেই। বাঘাই বলেন, নতুন নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের স্বাধীন ও জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলোর ওপর নিজের আইন ও কর্তৃত্ব চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। কোনো দেশের বিদেশি ব্যাংক, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বা বিমানবন্দরকে অন্য দেশের সঙ্গে বৈধ বাণিজ্য বন্ধে বাধ্য করার অধিকার কারো নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরানের বন্দরগুলোতে দেশটির জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সময়ে হরমুজ প্রণালিতেও জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। শত শত জাহাজে থাকা হাজার হাজার নাবিক সেখানে আটকা পড়েছেন। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার মাত্র চারটি পণ্যবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে গেছে। এর কোনোটিই বড় তেলবাহী জাহাজ ছিল না। তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসবাহী কোনো জাহাজও ঐ পথ দিয়ে যায়নি। ইরান হুমকি দিয়েছে, অনুমতি ছাড়া কোনো তেলবাহী জাহাজ এই পথ দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাতে হামলা চালানো হতে পারে। যুদ্ধের আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন ২ কোটি ব্যারেলের বেশি তেল পরিবহন হতো। বর্তমানে গত সাত দিনে প্রতিদিন গড়ে ৮০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহনে মার্কিন সামরিক বাহিনী সহায়তা করেছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট।

চাপে ইরানের অর্থনীতি : যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের অর্থনীতি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। দেশটির নৌ ও বিমানবাহিনীর সক্ষমতাও কমে গেছে। তবে ইরানের হাতে এখনো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের সক্ষমতা রয়েছে। ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল আলি আবদুল্লাহি শুক্রবার বলেন, শত্রুপক্ষের যে কোনো হুমকির জবাব দেওয়া হবে এবং সেই জবাব হবে ‘কঠোর, শাস্তিমূলক ও ধ্বংসাত্মক’। তবে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে কথা বলেছেন। তার মতে, ইরান এখন শক্তিশালী অবস্থানে আছে এবং মর্যাদা নিয়েই যুদ্ধ শেষ করা সম্ভব।

যুদ্ধের কারণে অর্থনীতিতে চাপের কথা স্বীকার করেছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের কালিবাফ। তার ভাষায়, সামরিক শক্তি যতই থাকুক, মানুষ না খেয়ে থাকলে কোনো দেশ টিকে থাকতে পারে না। তাই অর্থের লেনদেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উত্পাদন ব্যবস্থা সচল রাখা জরুরি।