Image description

নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে মেঘনা ও সমুদ্র ঘেরা দ্বীপ জেলা ভোলাকে যুক্ত করা হচ্ছে। আগের প্রকল্পের তুলনায় নতুন প্রকল্পে ব্যয় প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা কমবে। শনিবার ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের এক সভায় নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নের নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে।

তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সভা শেষে প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু জানান, সভায় ভোলার সঙ্গে ঢাকা ও বরিশালের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনে তিনটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়। এর মধ্যে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের প্রস্তাবিত বরিশাল (রহমতপুর-হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ-ভোলা) রুট বেছে নেওয়া হয়েছে। এ রুটে মহাসড়ক নির্মাণের মাধ্যমে ভোলাকে দেশের মূল সড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভৌগোলিক প্রতিবন্ধকতা দূর করে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ও ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ বাড়াতে সমন্বিত সড়ক ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

 দেশের মূল সড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে দ্বীপ জেলা ভোলাকে যুক্ত করতে রহমতপুর-হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ-ভোলা রুটে মহাসড়ক নির্মাণকাজ দ্রুত এগিয়ে নিতে তিনি সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন। সভায় সড়ক পরিবহণ ও সেতু এবং রেলপথ ও নৌপরিবহণমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয় ও সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান, সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মোহাম্মদ জিয়াউল হক, সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফ এবং সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভা সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ-ভোলা রুটের বড় সুবিধা হলো দূরত্ব, সময় ও ব্যয় সাশ্রয়। বিশেষ করে ঢাকা ও বরিশালের সঙ্গে ভোলার যোগাযোগে এটি একটি কার্যকর বিকল্প পথ হয়ে উঠতে পারে। সড়ক ও সেতুর নতুন প্রকল্পের আওতায় বরিশাল নগরী থেকে ১১ কিলোমিটার আগে ঢাকা-বরিশাল মহসড়কের রহমতপুর থেকে নির্মাণ কাজ শুরু হবে। এ সড়কের বাবুগঞ্জ ও মুলাদী উপজেলার সংযোগ নদীর মীরগঞ্জ পয়েন্টে সেতু নির্মাণের কাজ চলছে। সেতুটি নির্মিত হলে বরিশাল থেকে সরাসরি সড়কপথে মুলাদী হয়ে যাওয়া যাবে হিজলা। এরপর মেহেন্দিগঞ্জ হয়ে ভোলা পর্যন্ত যাবে নতুন প্রস্তাবনার এ সড়ক। এক্ষেত্রে প্রাথমিক পর্যায়ে রহমতপুর থেকে ভোলা পর্যন্ত দুই লেন সড়ক নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

বর্তমানে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার সঙ্গে জেলা সদর বরিশাল বা দেশের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে কোনো সড়ক যোগাযোগ নেই। নতুন প্রকল্পের আওতায় হিজলার শান্তিরহাট এলাকায় মাসকাটা নদীতে ১ হাজার ৩০০ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মিত হবে। সেতুটি বরিশাল সদরের সঙ্গে মেহেন্দিগঞ্জকে যুক্ত করবে। এরপর মেহেন্দিগঞ্জ ও ভোলা সদর উপজেলার সীমান্তবর্তী চর মনিষা এলাকায় ১ হাজার ৪০০ মিটার দীর্ঘ দ্বিতীয় সেতু বরিশালের সঙ্গে ভোলাকে যুক্ত করবে। এর মাধ্যমে দেশের মূল ভূখণ্ডে যুক্ত হবে ভোলা।

সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্র জানায়, ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণের আগের প্রকল্প প্রস্তাবে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছিল ১৭ হাজার কোটি টাকা। এটি ছিল শুধু সেতু নির্মাণ ব্যয়। বরিশাল শহর পার হয়ে সাহেবেরহাট থেকে ভোলার ভেদুরিয়া পর্যন্ত সেতুটি নির্মাণ করার পরিকল্পনা ছিল। অ্যাপ্রোচসহ ওই সেতুর সংযোগ সড়ক নির্মাণে মোট ব্যয় হতো ২৫-২৬ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া ওই প্রস্তাবনা অনুমোদন ও বাস্তবায়ন ছিল সময় সাপেক্ষ। এর তুলনায় খুব কম সময়ের মধ্যে নতুন প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে ভোলা জেলার সঙ্গে বিভাগীয় সদরের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপন হবে। একই সঙ্গে বিচ্ছিন্ন উপজেলা মেহেন্দিগঞ্জও আসবে যোগাযোগ নেটওয়ার্কের আওতায়। ভোলাকে সড়ক যোগাযোগে আনতে মাঝারি আকারের দুটি সেতুর সঙ্গে আরও ৮৫টি ছোট সেতু এবং কালভার্ট নির্মাণ করতে হবে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগ বরিশালের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ফজলে রব্বে বলেন, প্রস্তাবিত নতুন প্রকল্পে বরিশালের রহমতপুর থেকে ভোলা শহর পর্যন্ত ৫৬ কিলোমিটার দীর্ঘ দুই লেনের সড়ক নির্মিত হবে। সড়কটি নির্মিত হলে ভোলার সঙ্গে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হওয়ার পাশাপাশি সড়কপথে রাজধানী ঢাকা ভোলার দূরত্ব কমবে প্রায় ৬০ কিলোমিটার।