Image description

সারা দেশে দখল, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ এবং হত্যাকাণ্ডসহ সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে বিএনপি। নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সাংগঠনিক ব্যবস্থাও নেয়া হচ্ছে। বহিষ্কার করা হচ্ছে দল থেকে। এরপরও দেশের বিভিন্ন জেলায় ঘটছে একের পর ঘটনা। সাংগঠনিক শাস্তির আওতায় এনেও থামানো যাচ্ছে না নেতাকর্মীদের এমন কর্মকাণ্ড। তবে সরকার গঠনের পর কিছু কিছু জায়গায় পারস্পরিক দ্বন্দ্ব থাকলেও দলের নেতাকর্মীরা এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয় বলে জানিয়েছে বিএনপি। তাদের ভাষ্য, বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার পরে দলে অনেক বহিরাগত প্রবেশ করেছে। দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য তারা সুপরিকল্পিতভাবে এসব ঘটনা সংঘটিত করছে। এসব মোকাবিলায় সাংগঠনিক শাস্তি নিশ্চিতের পাশাপাশি নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকারও পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে তৃণমূলে আধিপত্য বিস্তার, স্বার্থের দ্বন্দ্ব ও ব্যবসায়িক কারণে সংঘাতের ঘটনা ঘটছে বেশি। দখল এবং আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রায়ই বিএনপি’র দু’গ্রুপের মধ্যে মারামারি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। অনেক জায়গায় জমি, মার্কেট বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণ নিয়েও কর্মীরা বিবাদে জড়াচ্ছেন। কোনো কোনো জায়গায় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে আধিপত্য বজায় রাখতে বা চাঁদাবাজির জেরেও দলের দু’গ্রুপের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হচ্ছে।

সম্প্রতি রাজধানীর মৌচাকে স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক নেতা বিল্লাল হোসেন তালুকদার এবং কাওরান বাজারে স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক নেতা আজিজুর রহমান মুছাব্বির হত্যাকাণ্ডের পর আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণের বিষয় সামনে আসে। চট্টগ্রামের রাউজানের একটি বাজারে প্রকাশ্যে মাথায় গুলি করে যুবদল নেতা মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদ এবং খুলনা নগরীতে বিএনপি নেতা রফিক গাজীকে হত্যার ঘটনাসহ গত এক মাসেই বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের ৫ জন নেতা হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। তাদেরকে গুলি, কুপিয়ে কিংবা ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়।

এরমধ্যে রাজধানীর রমনার মৌচাক এলাকায় স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক নেতা বিল্লাল হোসেন তালুকদারকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। তিনি স্বেচ্ছাসেবক দলের রমনা থানার সাবেক আহ্বায়ক। এই ঘটনার পর রাতেই যুবদলের রমনা থানার আহ্বায়ক দিদারুল ইসলাম বাবুকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একইসঙ্গে যুবদলের রমনা থানা কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটি। এ ছাড়া ৯ই জুন বাগেরহাটের ফকিরহাটে কৃষক দল নেতা বাদল মোড়লকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়, ১২ই জুন খুলনার লবণচরা থানার মাথাভাঙা এলাকায় গুলি করে হত্যা করা হয় বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলামকে। গত ১৩ই জুন চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী ইউনিয়নের চৌমুহনী বাজারে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয় যুবদল নেতা মাসুদুল হক চৌধুরীকে। এর আগে ২১শে মে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ইউনিয়ন বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক ওসমান গণিকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপি’র এক সিনিয়র নেতা মানবজমিনকে বলেন, এসব ঘটনার জন্য বিএনপিকে দোষারোপ করা হচ্ছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ৫ই আগস্টের পর কিছু সুবিধাবাদী ব্যক্তি বিএনপি’র নাম ভাঙিয়ে এসব ঘটনা সংগঠিত করছে। বিএনপি’র ত্যাগী এবং পরীক্ষিত নেতাকর্মীরা এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত হয়। তবে কিছু কিছু ঘটনায় বিএনপি’র কর্মী অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে জড়িয়ে যাচ্ছেন বলে মনে করেন এই নেতা।

ওদিকে, চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে নিজ দলের নেতাকর্মীদের হামলায় হত্যার শিকার হন উপজেলার করেরহাট ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহরিয়ার আহমেদ হৃদয়। গত ২৩শে এপ্রিল চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (চমেক) আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ভারত থেকে অবৈধ পথে আসা গরুভর্তি ট্রাক ছাড়াতে চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে গত ১৮ই এপ্রিল মধ্যরাতে উপজেলার কয়লা বাজারে তার ওপর হামলা করেছিল বিএনপি’র একটি পক্ষ।

ওই সময় তার সঙ্গে থাকা যুবদল কর্মী মো. সবুজের ওপরও হামলা করা হয়। তার হাতের রগ কেটে দেয়ার পাশাপাশি চারটি দাঁত উপড়ে ফেলা হয়। আহত যুবদল কর্মী মো. সবুজ বর্তমানে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু মানবজমিনকে বলেন, সরকার গঠনের পর কিছু জায়গায় পারস্পরিক দ্বন্দ্ব আছে। তবে এটি খুব সামান্য। উল্লেখ করার মতো নয়। ক্ষমতায় বিএনপি যাওয়ার পর বহিরাগত, যারা বিএনপি করে না এবং বিএনপি’র রাজনীতি সুদীর্ঘকাল আছে- এমনও না। তারা হঠাৎ বিএনপি বনে গেছে। এরা কিছু কিছু ঘটনা ঘটিয়ে বিএনপি’র নামে চালানোর চেষ্টা করছে। যেই করুক এবং যেভাবেই করুক, বিএনপি’র নামে যেসব সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছে- সেটা বিএনপি গুরুত্বসহকারে দেখছে। আর এসব ঘটনায় বিএনপি’র সঙ্গে যদি কোনো সংশ্লিষ্টতা থাকে তাহলে দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।