Image description

রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর এবার পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক কাঠামো তৈরির দিকে এগোচ্ছে বিজেপি। আজ রবিবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মন্ত্রিসভার প্রথম বড়সড় সম্প্রসারণ হতে পারে বলে দলীয় সূত্রের খবর। আর সম্ভাব্য এই সম্প্রসারণে একাধিক নতুন মুখের পাশাপাশি কয়েকজন পরিচিত রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের নামও জোরালোভাবে আলোচনায় রয়েছে।

গত ৯ মে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং পাঁচজন মন্ত্রী শপথ নিয়েছিলেন। তারপর থেকে সীমিতসংখ্যক মন্ত্রী নিয়েই প্রশাসনিক কাজ চলছিল। এবার সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটিয়ে আরও প্রায় ২০ জনকে মন্ত্রিসভায় আনা হতে পারে বলে বিজেপি সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে।

দলীয় সূত্রে খবর, নতুন মন্ত্রী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সামাজিক ও আঞ্চলিক ভারসাম্যের দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। মহিলা প্রতিনিধি, অনগ্রসর সম্প্রদায় এবং উত্তরবঙ্গের নেতাদের গুরুত্ব দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই কারণেই উত্তরবঙ্গের কয়েকজন বিধায়কের নাম আলোচনায় উঠে এসেছে। তাদের মধ্যে দীপক বর্মন এবং শঙ্কর ঘোষকে নিয়ে জল্পনা সবচেয়ে বেশি।

তবে শুধু নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরাই নন, কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বও জায়গা পেতে পারেন বলে সূত্রের খবর। প্রাক্তন রাজ্যসভার সাংসদ ও সাংবাদিক স্বপন দাশগুপ্ত এবং জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের নাম নিয়ে এরই মধ্যে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্বপন দাশগুপ্তকে গুরুত্বপূর্ণ কোনো দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে।

অন্যদিকে, অভিনয়জগৎ থেকে রাজনীতিতে আসা বিজেপি নেতা রুদ্রনীল ঘোষের নামও সম্ভাব্য মন্ত্রীদের তালিকায় ঘুরছে। পাশাপাশি দলের কয়েকজন মহিলা নেত্রীকেও মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে।

সংবিধান অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীসহ সর্বোচ্চ ৪৪ জন মন্ত্রী রাখা সম্ভব। ফলে ভবিষ্যতে আরও একাধিক দফায় মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের সুযোগ থাকছে। তবে প্রথম ধাপে কারা শপথ নেবেন, তা নিয়ে এখনো চূড়ান্ত ঘোষণা হয়নি। ফলে সোমবার রাজভবনের অনুষ্ঠান ঘিরে রাজনৈতিক মহলের কৌতূহল তুঙ্গে।

বাংলা চলচ্চিত্র জগতের পরিচিত মুখ রুদ্রনীল ঘোষ একসময় বামপন্থী ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও পরে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন এবং রাজ্যের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাসংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার দায়িত্ব সামলান।

২০২১ সালের জানুয়ারিতে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন রুদ্রনীল। এরপর থেকেই তিনি বিজেপির সক্রিয় মুখ হিসেবে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি ও নির্বাচনী প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন।