হাজার মাইল পথ পেরিয়ে বাংলাদেশি বন্ধুর ডাকে হেলিকপ্টারে ছুটে এসেছেন সৌদি নাগরিক শেখ আব্দুর রহমান।
বাংলাদেশে এসে মাদকবিরোধী স্থানীয় ফুটবল খেলায় হয়েছেন প্রধান অতিথি। ঘুরেছেন পথে প্রান্তরে, লিচু বাগানে। দেখেছেন দেশীয় পছন্দের খাবার।
শনিবার (৩০ মে) সকালে গাজীপুরের কালীগঞ্জে তার আগমন উপলক্ষে জাঙ্গালিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে হঠাৎ করেই মানুষের ভিড় জমতে শুরু করে। গ্রামবাংলার সাধারণ মানুষের কাছে এমন দৃশ্য বিরল। তাই মুহূর্তেই চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে উৎসবের আবহ।
জানা যায়, সৌদি আরবে কর্মরত ইসমাঈল হোসেনের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের টানে সাত দিনের সফরে বাংলাদেশে আসেন তিনি। তাকে ঘিরে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। কোথাও ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা, কোথাও তোরণ নির্মাণ, আবার কোথাও শুধু আন্তরিক হাসিমাখা মুখ।
অতিথিকে বরণ করে নিতে কারও যেন কোনো কমতি ছিল না। ডাবের পানি, কলা, আপেল, কমলা থেকে শুরু করে মৌসুমি ফল আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু ও তালের শাঁস-সবকিছু দিয়েই আপ্যায়ন করানো হয় তাকে। তবে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ হন দুপুরের খাবারের আয়োজনে। তার জন্য পরিবেশন করা হয় দেশীয় নানা স্বাদের খাবার। টেংরা, শিং, কৈ, মলা, পুঁটি ও চিংড়ি মাছের সঙ্গে ছিল দেশি মুরগি, খাসি এবং গরুর মাংস।
বাংলাদেশের গ্রামীণ রান্নার স্বাদ যেন একসঙ্গে তুলে ধরা হয়েছিল সেই ভোজে। খাবার শেষে অপেক্ষা করছিল আরেকটি বিশেষ অভিজ্ঞতা। বাড়ির পাশের একটি লিচুবাগানে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। সেখানে গাছ থেকে নিজ হাতে লিচু পেড়ে খাওয়ার আনন্দে যেন শিশুসুলভ উচ্ছ্বাস ফিরে আসে তার মধ্যে।
আব্দুর রহমান মোবারক আল ইয়ামি বলেন, বন্ধু ইসমাঈল হোসেনের আমন্ত্রণে বাংলাদেশে এসেছি। বাংলাদেশ সম্পর্কে যতটা ধারণা ছিল, বাস্তবে এসে দেখলাম দেশটি তার চেয়েও অনেক বেশি সুন্দর। এখানকার মানুষ অত্যন্ত আন্তরিক ও অতিথিপরায়ণ। বন্ধুর বাড়িতে এসে কখনো মনে হয়নি আমি বিদেশে আছি। মনে হয়েছে আমি নিজের পরিবারের মাঝেই আছি। বাংলাদেশের প্রকৃতি আমাকে মুগ্ধ করেছে। সুযোগ পেলে আবারও এখানে আসতে চাই।
বরুজ শেখ বলেন, আমার দুই ছেলে এবং মেয়ের জামাই সৌদি আরবে থাকেন। আমাদের বাড়িতে সৌদি আরব থেকে একজন অতিথি এসেছেন, এটি আমাদের জন্য গর্ব ও আনন্দের বিষয়।
উল্লেখ্য, কালীগঞ্জ থেকে কুমিল্লা এবং পরে সিলেটে দুই বন্ধুর বাড়ি সফর করবেন তিনি। এরপর আবার কালীগঞ্জে ফিরে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে।