ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানীতে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রমে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সফল হয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। অন্যদিকে নির্ধারিত লক্ষ্য অনুযায়ী বর্জ্য অপসারণ করতে পারেনি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)।
দুই সিটি করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, ঈদের প্রথম তিন দিনে মোট ৫৪ হাজার ৮৩১ টন বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল।
এর মধ্যে ডিএসসিসি নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে দুই হাজার টনেরও বেশি বর্জ্য অপসারণ করে উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছে।
অন্যদিকে ডিএনসিসির লক্ষ্য ছিল ২০ হাজার ৮৮৯ টন বর্জ্য অপসারণ। তবে তিন দিনে তারা অপসারণ করতে পেরেছে ১৮ হাজার ৯৪৫ টন বর্জ্য। ফলে নির্ধারিত লক্ষ্যের তুলনায় প্রায় দুই হাজার টন বর্জ্য কম অপসারণ হয়েছে।
তবে দুই সিটির সম্মিলিত প্রচেষ্টায় রাজধানীজুড়ে ৫৫ হাজার টনের বেশি বর্জ্য অপসারণ সম্ভব হয়েছে। এরপরও বিভিন্ন এলাকায় কোরবানির কিছু বর্জ্য রয়ে যাওয়ায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়েছে।
রোববার (৩১ মে) নগর ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিএসসিসির প্রশাসক আবদুস সালাম বলেন, কোরবানির বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম এখনো শেষ হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী তদারকি দল সার্বক্ষণিক মাঠে কাজ করছে। নগরবাসী কোথাও বর্জ্য জমে থাকতে দেখলে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষে জানালে এক ঘণ্টার মধ্যে তা অপসারণের ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে গুলশানে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিএনসিসির প্রশাসক মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন জানান, ৭২ ঘণ্টার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা শেষে রোববার সকাল থেকে আরও ৪৮ ঘণ্টার বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তার নেতৃত্বে গঠিত একটি কমিটি এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবে।
ডিএসসিসির তথ্যমতে, ঈদের দিন থেকে ৩০ মে রাত ১২টা পর্যন্ত মোট ৩৬ হাজার ৮৬ টন বর্জ্য মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলে ডাম্পিং করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম দিনে ১৪ হাজার ৮১৪ টন, দ্বিতীয় দিনে ৮ হাজার ৯৭৭ টন এবং তৃতীয় দিনে ১২ হাজার ২৯৫ টন বর্জ্য অপসারণ করা হয়। এ কাজে প্রায় ১৩ হাজার ৪৫৩ জন কর্মী এবং ২ হাজার ১১৭টি ছোট-বড় যানবাহন ব্যবহৃত হয়েছে।
অন্যদিকে ডিএনসিসি ৪ হাজার ৩৮৮ ট্রিপে মোট ১৮ হাজার ৯৪৪ দশমিক ৯৬ টন বর্জ্য আমিনবাজার ল্যান্ডফিলে ডাম্পিং করেছে। তাদের কাজে ১৬ হাজারের বেশি কর্মী এবং ৭৫২টি যানবাহন অংশ নেয়।