যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যদি তেহরানের বিতর্কিত পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনো সমঝোতায় পৌঁছায়, তাহলে ইরানের ইউরেনিয়াম মজুত নিজেদের দেশে সংরক্ষণ করতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছে কাজাখস্তান। এমন তথ্য জানিয়েছেন জাতিসংঘের পারমাণবিক তদারকি সংস্থা আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি।
শুক্রবার (২৯ মে) ব্রিটিশ দৈনিক ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গ্রোসি জানান, সম্প্রতি তিনি কাজাখস্তানের প্রেসিডেন্ট কাসিম-জোমার্ত তোকায়েভের সঙ্গে রাজধানী আস্তানায় বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে ইউরেনিয়াম সংরক্ষণ বিষয়ে কাজাখস্তানের আগ্রহ প্রকাশ করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় ৪৪০ কিলোগ্রাম ইউরেনিয়াম, যা ৬০ শতাংশ বিশুদ্ধতায় সমৃদ্ধ, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। পারমাণবিক কর্মসূচি ও আঞ্চলিক সংঘাতকে ঘিরে এই আলোচনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানকে অবশ্যই নিশ্চয়তা দিতে হবে যে তারা কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না এবং সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ধ্বংস করতে হবে। অন্যদিকে ইরান দাবি করছে, শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি চালানোর অধিকার তাদের রয়েছে এবং ইউরেনিয়াম অন্য কোনো দেশে পাঠানোর প্রস্তাব তারা গ্রহণ করবে না।
এদিকে যুদ্ধবিরতি ও হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করার বিষয়ে সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে শুক্রবার হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। প্রায় দুই ঘণ্টার ওই বৈঠক কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয় বলে জানিয়েছে প্রশাসনিক সূত্র।
একজন শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, ট্রাম্প এমন কোনো চুক্তিতে রাজি হবেন না, যা যুক্তরাষ্ট্রের নির্ধারিত শর্ত ও নিরাপত্তা সীমা লঙ্ঘন করে। অন্যদিকে ইরানও জানিয়েছে, এখনো কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, কাজাখস্তানের প্রস্তাব আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করলেও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা এখনো বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আটকে রয়েছে।
শীর্ষনিউজ