Image description

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম চামড়ার মোকাম নাটোরের চকবৈদ্যনাথের আড়তগুলোয় আসতে শুরু করেছে কোরবানির পশুর চামড়া। তবে প্রত্যাশিত দাম পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। সংগ্রহ মূল্যের চেয়েও কম দামে চামড়া বিক্রি করতে হচ্ছে তাঁদের। তবে আড়তের ব্যবসায়ীদের দাবি, লাম্পিস্কিনে আক্রান্ত, লবণজাত ছাড়া পশুর চামড়া আনায় দাম পাচ্ছেন না মৌসুমি ব্যবসায়ীরা।

মোকাম-সংশ্লিষ্ট ও মৌসুমি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিটি ছাগলের ভালো চামড়া ২০ থেকে ৪০ টাকা ও গরুর চামড়া ৬০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে অধিকাংশ মৌসুমি ব্যবসায়ী অভিযোগ করেছেন, তাঁদের কাছ থেকে কম দামে চামড়া কিনছেন মোকামের ব্যবসায়ীরা।

আজ শনিবার সকালে নাটোর শহরের চকবৈদ্যনাথ চামড়া মোকাম ঘুরে এমন দৃশ্য দেখা যায়।

নাটোরে চলতি কোরবানি মৌসুমে প্রায় ১২ লাখ কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন আড়তদার ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঈদের দিন গত বৃহস্পতিবার পশু কোরবানির পর বিকেল থেকে চকবৈদ্যনাথ মোকামে চামড়া আনা শুরু করেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। এদিন নাটোরের পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলো থেকে আসা কাঁচা চামড়া এখানে কেনাবেচা হলেও কোরবানির দ্বিতীয় দিন গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে রাজশাহী, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে গরু-ছাগলের চামড়া আনেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। আকারভেদে লবণযুক্ত ভালো চামড়া ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকা এবং লবণ ছাড়া ভালো চামড়া ৬০০ থেকে ৮০০ টাকায় কেনাবেচা হতে দেখা যায়। তবে অধিকাংশ মৌসুমি ব্যবসায়ী চামড়া এনে বিক্রি করতে না পেরে তা রেখে ফিরে গেছেন।

রাজশাহীর মোহনপুর থেকে আসা মৌসুমি ব্যবসায়ী আনসার আলী বলেন, ‘২০টি খাসির চামড়া নিয়ে এসেছিলাম। একটু ভালো দাম পাওয়ার জন্য দূর থেকে এসেছিলাম। চামড়াগুলো রেখে ২০০ টাকা ধরিয়ে দিয়েছে ব্যাপারী।’

এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট ব্যাপারী মো. মামুন বলেন, ‘২০টি চামড়ার মধ্যে ১২টি পচে গেছে। ৮টার দাম ২০০ টাকা দিয়েছি।’

স্থানীয় মদিনাতুল উলুম কওমি মাদ্রাসার প্রতিনিধি হাফেজ মো. কাউসার আলী বলেন, ‘৩৫টি গরু ও ২০০ ছাগলের চামড়া ৩১ হাজার টাকায় বিক্রি করেছি। আড়তদারি ও পরিবহন খরচ বাদে ২৬ হাজার ৫০০ টাকা টিকেছে। চামড়ার দাম সারা বছর থাকলেও কোরবানির সময় দাম কমায় সিন্ডিকেট।’

আবুল বাশার নামের চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে আসা এক মৌসুমি ব্যবসায়ী বলেন, ‘শুক্রবার সকালে এসে অনেক আড়ত বন্ধ পেয়েছি। যেসব আড়ত খোলা, তারা কম দাম দিতে চাচ্ছে। এসব দামে বিক্রি করলে কেনা দামই উঠবে না।’

তবে মৌসুমি ব্যবসায়ীদের দাবির সঙ্গে একমত নন আড়তদারেরা। আড়তদার রকিব উদ্দিন বলেন, ‘চামড়ার দাম কম দেওয়া হচ্ছে, এমন দাবি সঠিক নয়। একটা ভালো চামড়ার জন্য ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত দিচ্ছি। কাটা চামড়া, লাম্পি চামড়া না কেনায় ক্ষুব্ধ হয়ে অনেক ফড়িয়া অভিযোগ করছেন।’

আরেক আড়তদার নাসিম খান বলেন, ‘আড়তে ফড়িয়াদের আনা সব চামড়া এক নয়। তাই লবণজাত ও লবণহীন চামড়ার দামও এক নয়। লবণ কম দেওয়ায় অনেক চামড়ার এমন অবস্থা, যা বেশিদিন রাখা যাবে না। এই চামড়া স্বাভাবিক দামে কিনেও আমরা বেশি সময় রাখতে পারব না।’

জেলা চামড়া ব্যবসায়ী গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হালিম সিদ্দিকী বলেন, ‘লাম্পিসহ ত্রুটিপূর্ণ চামড়ার ব্যাপারে আমরা আগেই ফড়িয়া ও ব্যবসায়ীদের সতর্ক করেছি। তবু যাঁরা ত্রুটিপূর্ণ চামড়া কিনেছেন, তাঁরা দাম পাবেন না, এটাই স্বাভাবিক। বাড়ি বাড়ি থেকে চামড়া সংগ্রহের সময় এটার প্রতি লক্ষ রাখা উচিত ছিল ফড়িয়াদের। ভালো চামড়ার জন্য উপযুক্ত দাম দিতে আমাদের কোনো কার্পণ্য নেই। এ জন্য কোরবানির আগে-পরে বাজার যাচাই করা জরুরি।’