পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মন্ত্রিসভায় ঠাঁই হচ্ছে না কোনো মুসলিম মন্ত্রীর। স্বাধীন বাংলায় এই প্রথম মন্ত্রিসভায় থাকছেন না মুসলিম সম্প্রদায়ের কোনো প্রতিনিধি। তাহলে রাজ্যের সংখ্যালঘু দপ্তরের দায়িত্বে কে থাকবেন, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর গুঞ্জন। মাদ্রাসা বোর্ড, ওয়াকফ বোর্ড ও হজ কমিটিগুলোর দায়িত্ব কাদের হাতে যাবে, তা নিয়েও চলছে আলোচনা।
কংগ্রেস, যুক্তফ্রন্ট, তৃণমূল— তিন সরকারের আমলেই সংখ্যালঘু দপ্তর ও বোর্ডগুলোয় তাদের প্রতিনিধি বসত, এটাই প্রচলিত ছিল। কিন্তু ৭৫ বছরের ইতিহাসে তা কি ভাঙতে চলেছে? বিজেপির ২০৩ বিধায়কের মধ্যে একজন মুসলিম বিধায়ক নেই। বঙ্গ বিজেপিতে আলি হোসেন, কাসেম আলি, মাফুজা খাতুনের মতো পরিচিত মুখরা রয়েছেন। এই তিন নেতার একজনকেও এবারের নির্বাচনে প্রার্থী করেনি বঙ্গ বিজেপি। তাই এ মুহূর্তে শুভেন্দু অধিকারীর মন্ত্রিসভায় মুসলিম মন্ত্রী থাকছেন না। তবে সংখ্যালঘুবিষয়ক দপ্তরের বোর্ডগুলোতে চেয়ারম্যান করতেই পারে শুভেন্দু অধিকারীর মন্ত্রিসভা। এ বিষয়ে আইনি কোনো জটিলতা নেই। কিন্তু মন্ত্রী করতে হলে সংখ্যালঘু নেতাদের প্রথমে প্রার্থী করতে হবে বিজেপির। জয়ী হয়ে বিধায়ক নির্বাচিত হলে পরে মন্ত্রী।
এ ব্যাপারে বঙ্গ বিজেপির মাইনরিটি মোর্চার সভাপতি জানান, পশ্চিমবঙ্গসহ চার রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে কোনো সংখ্যালঘু মুখকে দাঁড় করায়নি বিজেপি। এটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত ছিল বলে জানিয়েছেন মাইনরিটি মোর্চার রাজ্য সভাপতি আলি হোসেন।
আগামীর সময়কে তিনি জানান, হতাশ হওয়ার কিছু নেই। আমরা বাংলার ক্ষমতায় এসেছি, অবশ্যই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখবে দল। একাধিক মাইনরিটি মোর্চার মুখকে বিভিন্ন দপ্তরের চেয়ারম্যান করবে বলে আশ্বাস দিলেন তিনি। সঙ্গে সংখ্যালঘু এলাকায় আগামীতে মুসলিম জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি। এবারের বাংলার নির্বাচন একটু আলাদা ছিল। তাই পার্টির সিদ্ধান্তকে আমরা মাথা পেতে নিয়েছি— জানালেন বঙ্গ বিজেপির এই মুসলিম নেতা।